Bengali

নারী অান্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টি

নারী-পুরুষের মধ্যে প্রাকৃতিক পার্থক্য ছাড়া অার সব পার্থক্যই কৃত্রিম। ঐতিহাসিক বিকাশের একটি পর্যায় এই কৃত্রিম পার্থক্যগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, ঐতিহাসিক বিকাশের অন্য এক পর্যায় এই সমস্ত পার্থক্যগুলো শেষ করে দেবে। এই পর্যায়টি অাসলে শুরুই হয়ে গেছে। মানব জাতির দুই রূপের মধ্যকার সম্পর্ক যখন সহজ, স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তখনই মানবজাতি তার হারিয়ে ফেলা অখণ্ড সত্তাকে অাবার ফিরে পাবে। এই লক্ষ্যের দিকে যাত্রাপথ এমন এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাবে যার পতাকায় লেখা থাকবে ‘সমাজতন্ত্র ও নারীমুক্তি’। — বিনোদ মিশ্র (মার্কসবাদের প্রেক্ষাপটে নারী...

Read More

অপারেশন গ্রিন হান্ট : গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইউপিএ সরকারের যুদ্ধ

মুখবন্ধ ‘মাওবাদী বিপদ’-এর (প্রধানমন্ত্রী যাকে বলেছেন ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বপ্রধান বিপদ’) মোকাবিলার নামে ইউপিএ সরকার শুরু করেছে এক ব্যাপক সমর অভিযান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এই অভিযানকে ঠিক পুরোদস্তুর যুদ্ধ বলেননি, এমনকি ‘গ্রিন হান্ট’ এই শব্দবন্ধকে প্রচার মাধ্যমের উদ্ভাবনা বলেও অভিহিত করেছেন। অার প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই এই অভিযানে সেনাবাহিনীকে নামানোর সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তবে একটা অভিযান যে চলছে তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই — তার মাত্রা ও পরিকল্পনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সেটা সার্বিকভাবে এক সামরিক অভিযান ছাড়া অন্যকিছু নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ২২৩টি জেলার ২০০০ থানাকে ঘিরে ১১টি কেন্দ্র থেকে একইসাথে অভিযান চালানোর কথা বলছে, অার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও বিমান বাহিনীর প্রধান বলছেন ঐ বাহিনীর শাখা ‘গরুড়’কে নিয়োজিত করার কথা, ‘অাত্মরক্ষার্থে’ গুলি চালানোর ক্ষমতা যাদের থাকবে। কোবরা (কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন ফর রেসলিউট অ্যাকশন) নামের বিশেষ কেন্দ্রীয় বাহিনী গঠন করে তাকে নামো হয়েছে। চিদান্বরম দানবীয় সেনা বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা অাইনকে (কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এখন যা বলবৎ রয়েছে) ‘সংশোধন’ করার কথা বলেছেন যাতে সারা ভারতেই তাকে প্রয়োগ করা যায়। … … … অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিপ্লবী বামেদের সাহসের সাথে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। তবে স্বঘোষিত মাওবাদীদের হঠকারী কার্যকলাপকেও মার্জনা করার কোনো প্রশ্নই নেই, বরং গণতন্ত্রের ওপর ক্রমেই বেড়ে চলা এই যুদ্ধকে পরাস্ত করতে ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তোলার সময় অামাদের নৈরাজ্যবাদ ও বিপ্লবী মার্কসবাদের মধ্যে ভেদরেখাকে অারও স্পষ্ট করতে হবে। এই পুস্তিকায় অামরা ‘মাওবাদী বিপদ’-এর অতিকথা এবং ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’-এর পিছনে অাসল যে রাজনৈতিক লক্ষ্য অাছে তাকে উন্মোচিত করার চেষ্টা করেছি। সেই...

Read More

ভারতের কমিউনিস্ট বিপ্লবী ঐতিহ্য ও সিপিঅাই(এমএল) লিবারেশন

মুখবন্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-র অাদি গঠনের (২২ এপ্রিল ১৯৬৯) বিপ্লবী ঐতিহ্য ও প্রকৃত উত্তরাধিকারকে (২৮ জুলাই ১৯৭৪, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন হওয়ার বিপ্লবী ধারাকে) নস্যাৎ করার বহু অপপ্রয়াস চলেছে। কিন্তু ইতিহাস এবং বাস্তব জীবন প্রমাণ করেছে এহেন অপপ্রয়াসগুলো অবশেষে কেবল ব্যর্থতারই পরিহাস প্রতিপন্ন হয়েছে। কেননা সুবিধাবাদ ও নৈরাজ্যবাদ কিছুতেই বিপ্লবী পার্টি-কেন্দ্র গঠনের পরম্পরা রক্ষা ও পুনর্গঠনে তথা প্রকৃত পার্টি ঐক্য ও গণবিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার জন্য সহায়ক হতে পারে না। তবে এই ভ্রান্ত ধারাগুলো নির্মল না হওয়া পর্যন্ত নানা সময়ে নানা রূপে পের চাগিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এহেন প্রতিটি অপপ্রয়াস অাসলে তাদের অস্তিত্বের সংকটকে জগাখিচুড়ি উপায়ে সামাল দেওয়ার প্রান্তিক প্রবণতায় ভাসমান। ফিলহাল এই ধরনের অাবার দুটি চেষ্টা শুরু হয়েছে। একদিকে নৈরাজ্যবাদী দুটি গোষ্ঠী ‘জনযুদ্ধ’ এবং এমসিসি মিলে তৈরি করেছে ‘সিপিঅাই(মাওবাদী)’, অন্যদিকে বিলোপবাদী-সুবিধাবাদী কানু সান্যাল গোষ্ঠী অারও কিছু সমগোত্রীয় ও বিভ্রান্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে বানিয়েছে এক নয়া ‘সিপিঅাই(এমএল)’। রকমফের এই গোষ্ঠীগুলোর বুনিয়াদী সাংগঠনিক অবস্থান গ্রহণে যে বিন্দুতে মতৈক্য অাছে সেটা হল ১৯৬৯-এর সিপিঅাই(এমএল) গঠনকে কোনো না কোনোভাবে অস্বীকার করা এবং পরিবর্তিত ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক পরিপ্রেক্ষিতে সিপিঅাই(এমএল)-এর প্রকৃত বিপ্লবী পরম্পরার বিপরীতগামী হওয়া। এমসিসি পন্থীরা সিপিঅাই(এমএল)-এর অাদি গঠনকালের সময় থেকেই বরাবর উগ্র বিরোধী। অার, ‘জনযুদ্ধ’ পন্থীরা এখন এমসিসি-র সাথে নয়া ‘মাওবাদী’ কেন্দ্রে সামিল হয়ে সিপিঅাই(এমএল) ঐতিহ্যের সাথে শেষ সম্পর্কটুকুও ছিন্ন করল। কানু সান্যাল সত্তর দশকে প্রথম বিপ্লবী অান্দোলন পর্বে ধাক্কা নেমে অাসার সময় থেকেই সিপিঅাই(এমএল) গঠন হওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা-মন্দ শুনিয়ে এসেছেন। প্রায় তিন দশক ধরে চারু মজুমদারের নেতৃত্বাধীন সিপিঅাই(এমএল)-এর উগ্র...

Read More

বিনোদ মিশ্রের নির্বাচিত রচনা সংগ্রহ

অামার স্বপ্নের ভারত – বিনোদ মিশ্র অামার স্বপ্নের ভারত এমন এক ঐক্যবদ্ধ ভারত যেখানে কোনও পাকিস্তানী মুসলিমকে তাঁর শিকড়ের সন্ধানে অাসতে অাগে ভিসার সন্ধানে ছুটতে হয় না। একইভাবে যেখানে একজন ভারতবাসীর কাছে মহান সিন্ধু সভ্যতার ধাত্রীভূমি বিদেশ নয়। যেখানে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর মন থেকে শেষ পর্যন্ত মুছে যাবে ঢাকার তিক্ত দিনগুলোর স্মৃতি। একজন বাংলাদেশী মুসলিমকে ভারত থেকে বিদেশী নাগরিক বলে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দেওয়া হবে না। কথাগুলো বিজেপির মতো শোনাচ্ছে কি? অথচ বিজেপি কিন্তু মুসলিম পাকিস্তান অার হিন্দু ভারতের (অবশ্য ততটা বিশুদ্ধ নয়) মধ্যে দেশের এই মহাবিভাজনকে মূলধন করেই টিকে অাছে। তারা এই বিভাজনকে তার চরম সীমায় নিয়ে যেতে উদ্যত, তার ফলাফল যত মারাত্মকই হোক না কেন। অার এই কারণেই অামি নিশ্চিত যে তিনটি দেশেই দেখা দেবেন মহান চিন্তানায়করা, যাঁরা এক সৌভ্রাতৃত্বময় পুনর্মিলনের পক্ষে জনমতকে ঘুরিয়ে দিতে পারবেন। অার বিজেপির মতো শক্তিগুলোর কাছে নিঃসন্দেহে সেই হবে ‘‘শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর’’। অামার স্বপ্নের ভারতে গঙ্গা ও কাবেরী, সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র মুক্তধারায় পরস্পর মিলেমিশে বয়ে চলবে। ভারতের সমস্ত মহান সুরসৃষ্টির যুগলবন্দীতে জেগে উঠবে ভোর। কোনও এক রাষ্ট্রনায়ক তখন তাঁর টুকরো লেখাগুলোকে গেঁথে লিখতে বসবেন, ‘‘ভারতের পুনরাবিষ্কার’’। … … …...

Read More

ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির কেন বিরোধিতা ?

প্রকাশকের কথা ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি বা ১২৩ চুক্তি নিয়ে দেশজোড়া জোরালো চর্চা শুরু হয়েছে। সরকার ও মিডিয়ার পক্ষ থেকে জোরদার প্রচার করা চলছে যে, চুক্তিটি ভারতের পক্ষে অত্যন্ত লাভজনক। ওদিকে যে বামেদের সমর্থনের ওপর বিরাটভাবে নির্ভরশীল হয়ে ইউপিএ সরকার টিকে রয়েছে,তারা এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছে। তারা প্রকাশ্যে দাবি করেছে, চুক্তিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে নষ্ট করবে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই চুক্তির প্রশ্নে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তোলা হবে কি হবে না, তা নিয়ে বামেদের নিজেদের মধ্যেই বিতর্ক শুরু হযে গেছে। বেগতিক দেখে ইউপিএ সরকার বামেদের নিয়ে এক কমিটি গড়ে চুক্তিটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে। দু-পক্ষই অাশা প্রকাশ করেছে যে, অালাপ-অালোচনার মধ্যে দিয়েই সরকারের ওপর থেকে সংকটের মেঘ কেটে যাবে। বিষয়টা যেহেতু পরমাণু চুক্তি সম্পর্কিত, তাই খুবই জটিল। তার ওপরে উভয়পক্ষের চাপান-উতোরে সারারণ মানুষ বিভ্রান্ত। চুক্তিটার মধ্যে সত্যিসত্যিই কী অাছে, তার প্রেক্ষাপট কী, পরমাণু শক্তি উৎপাদন সম্পর্কিত বিষয়গুলি কী, কোন ভূ-রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত থেকে চুক্তিটা করা হল, চুক্তিটার পেছনে কোন রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করছে, এই চুক্তি রূপায়িত হলে দেশের সার্বভৌমত্ব কিভাবে বিপন্ন হতে পারে ইত্যাদি বিষয়গুলি সম্পর্কে একটা মোটামুটি ধারণা না থাকলে চুক্তিটা বিবেচনা করে ও চুক্তিটিকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য থেকে এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করা হল। পুস্তিকাটিতে সুকান্ত মণ্ডলের লেখাটি ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ”এম-এল অাপডেট” সম্পাদকীয় মুদ্রিত হয়েছে। অাশা করি, পুস্তিকাটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতায় অক্লান্ত বামপন্থী কর্মীদের প্রয়োজনে অাসবে। সিপিঅাই(এমএল) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য...

Read More

মার্কসবাদ শিক্ষা : শুরু করব কোথা থেকে

প্রকাশকের কথা পুস্তিকাটির প্রথম যে সংস্করণ ২০০৩-এর অক্টোবরে প্রকাশিত হয়েছিল, এটি তার দ্বিতীয় বর্ধিত সংস্করণ। মার্কসবাদের সব শিক্ষার্থীর মনেই একটা প্রশ্ন জাগে : শুরু করব কোথা থেকে। এ প্রশ্নে কিছুটা অালোকপাত করার চেষ্টা করেছে এই পুস্তিকা। এটি এক প্রথম পাঠ মাত্র, বলা যেতে পারে পাঠকের নিজস্ব অধ্যয়নের সহায়িকা। এই উদ্দেশ্য মাথায় রেখে সংক্ষিপ্ত এক গ্রন্থসূচী বই-এর শেষে দেওয়া হয়েছে। মূল লেখায় অালোচিত হয়নি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সংযোজনী (অারও কিছু কথা) হিসাবে দেওয়া হয়েছে। সকলের কাছ থেকেই পরামর্শ ও সমালোচনা অাহ্বান করা...

Read More

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০১৬-র শিক্ষা

২০১৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শিক্ষা : ভাবের ঘরে চুরি নয়, কংগ্রেসের সাথে জোটের জট ছেড়ে গণঅান্দোলনের মেঠো পথে এগিয়ে চলুক স্বাধীন সংগ্রামী বামপন্থা প্রকাশকের কথা প্রকাশের দিন তিনেকের মধ্যে প্রথম সংস্করণের সমস্ত কপি নিঃশেষ। এরাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ও অাগ্রাসী বিজেপির জনবিরোধী নীতি, বিভাজনের রাজনীতি ও শাসক দলের সন্ত্রাস-দুর্নীতিকে কোন পথে প্রতিহত করা হবে তা নিয়ে বামপন্থী মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ সম্পর্কে সিপিঅাই(এমএল) লিবারেশনের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার এক বিনম্র প্রচেষ্টা এই পুস্তিকা। বামপন্থী রাজনীতি/অান্দোলনের একটি অংশ যখন দুর্বলতা ঢাকা দেওয়ার জন্য কংগ্রসেের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত, গণতন্ত্র-বিরোধী, শাসকশ্রেণীর অনুগত দলের সঙ্গে জোট/সমঝোতা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গণঅান্দোলন/শ্রেণীঅান্দোলন গড়ে তোলার তত্ত্ব ফেরি করছে তখন বাম অান্দোলনের সংগ্রামী, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান কী হ‍ওয়া উচিত, অভিজ্ঞতাই বা কী বলছে তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব অামাদের সকলের। দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে দুর্বলতা অারও বে-অাব্রু করলেন সিপিএম নেতৃত্ব। জোট করে ক্ষমতায় ফেরার বদলে দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শৃঙ্খলাভঙ্গের নানাবিধ ঘটনা। পার্টি লাইনকে রক্ষা করার কথা যারা বলছেন, তাঁদের শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিস্কার করা হচ্ছে (কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা কমরেড জগমতী সাঙ্গায়ান), ‘উপদলীয়’ চক্র বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। উল্টোদিকে যারা ‘জোট রাজনীতির নৈতিকতা’ রক্ষায় কংগ্রেসের সাথে মিছিলে হাঁটছেন (বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের কথা স্মরণ করুন) তাঁদের ‘সতর্ক’ করা হচ্ছে। ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের’ বিরুদ্ধে এই দুই ধরনের শাস্তি বিতর্ককে অারও গভীর ও পরিষ্কার করল। নিছক বিতর্ক করাই লক্ষ্য হতে পারে না। দেশ ও রাজ্য জুড়ে শাসকশ্রেণীর হামলা ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলার দায়িত্ব লড়াকু বাম-গণতান্ত্রিক শক্তিকেই কাঁধে...

Read More

গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা সম্পর্কে রায়-এ সাম্প্রদায়িক হিংসায় অাক্রান্তদেরই দোষী সাব্যস্ত করা হল

২০০২ সালে গুজরাটে গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যায় এসঅাইটি-র বিশেষ অাদালতের সাম্প্রতিক রায়টি হল বিচারের এক বড় প্রহসন। এই রায় কেবলমাত্র গণহত্যার মূল মাথাগুলোকে বেকসুর খালাসই করেনি, গণহত্যার চক্রান্তকারীদের ছাড় দিয়ে অাক্রান্তদের দিক থেকে প্ররোচনা প্রদানকে দায়ী করা হয়েছে। ২০০২ সালে গুরজাটে হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম জঘন্য হত্যাকাণ্ড হল গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলবার্গ সোসাইটিতে অাগুন লাগানো হয়, ৬৯ জনকে খুন করা হয়। প্রাক্তন সাংসদ ইসান জাফরি ছিলেন অাক্রমণের লক্ষ্য। তাঁর হাত দুটি কেটে উলঙ্গ করে হাঁটানো হয়, তারপর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। জাফরির কয়েক শো প্রতিবেশী তাঁর কাছে অাশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে জাফরি মরিয়াভাবে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে যান। কিন্তু এ সমস্ত ফোনে কিছুই লাভ হয় না এবং পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা গুলবার্গ সোসাইটিতে এলেও খুনে দাঙ্গাকারীদের হঠিয়ে দিতে কোনো কিছুই করেনি। সোসাইটির বাইরে কয়েক ঘণ্টা ধরে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীরা যে জড়ো হয় সে সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক সাক্ষ্যকে এই রায়ে উপেক্ষা করা হয়। পুলিশ কর্তারা যে ঘটনাস্থলে যায়, দাঙ্গাকারীদের দেখতে পায়, তা সত্ত্বেও দাঙ্গাকারীদের হঠিয়ে দিতে বাহিনীকে ডাকেনি — এই অবিসংবাদী তথ্যকেও এই রায়ে অগ্রাহ্য করা হয়। বিপরীতে এই রায়ে ইসান জাফরি যে গুলি ছুঁড়েছে সে সম্পর্কে ‘ইচ্ছাকৃত স্মৃতিবিলোপের’ অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শীদের নিন্দা জানানো হয়। রায়ে বলা হয় যে উপস্থিত উচ্ছৃঙ্খল লোকেরা কেবল গাড়িই পোড়াতে চেয়েছিল এবং জাফরির গুলি চালনার পরই কেবলমাত্র এই লোকেরা খুন করতে শুরু করে। এ হল এক হতবুদ্ধিকর জঘন্য রায়। একই দিনে গুলবার্গ সোসাইটির কাছেই...

Read More

নীতীশ বনাম নীতীশ ও টপারগেট দুর্নীতি : বিহারে ছাত্রদের উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের অাত্মপ্রতিষ্ঠার সময় সমুপস্থিত

পাটনার নামকরা কলেজ অফ অার্টস এ্যান্ড ক্রাফটসের উজ্জ্বল ছাত্র নীতীশ কুমারের অাত্মহত্যার চেষ্টা রোহিত ভেমুলা অাখ্যানের স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে। হায়দ্রাবাদে যা ঘটেছে এবং পাটনায় যা ঘটে চলেছে এই দুইয়ের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। রোহিতের মতো নীতীশও এক দলিত ছাত্র যাকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। অাবার রোহিতের মতো নীতীশও তার সহপাঠীদের ন্যায়বিচার লাভের জন্য লড়াইয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। অার্টস কলেজের ছাত্রদের মিথ্যা অভিযোগে শুধু সাসপেন্ড করাই হয়নি, গ্রেপ্তারও করা হয়েছে, নীতীশ ছাত্রদের ওপর এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। তবে এ দুইয়ের মধ্যে পরিহাসময় ফারাকটা হল – হায়দ্রাবাদে রোহিত ও তার সহপাঠীদের এমন একটা গাঁটছড়ার হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল যার শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এবিভিপি কর্মীদের ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এবং বিস্তৃত হয়েছিল কেন্দ্রের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যন্ত; অার পাটনায় এই গাঁটছড়া নীতীশ কুমার সরকারকে ধরেই সচল হয়েছে, যে সরকার নিজেকে সামাজিক ন্যায় ও সুশাসনের একনিষ্ঠ রূপকার বলে দাবি করে এবং মূলত সামাজিক ন্যায়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের প্রচারকে ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে বিপুল জয় হাসিল করেছিল। পাটনার অার্টস এ্যান্ড ক্রাফটসে নীতীশ ও তার বন্ধুরা কলেজের প্রিন্সিপাল চন্দ্রভূষণ শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে; এই প্রিন্সিপাল ২০১২-র অক্টোবর থেকে ‘অস্থায়ী’ পরিবর্ত হিসাবে তার সময়কালে ন্যক্কারজনক জাতপাতবাদী এবং যৌন অাসক্তিময় অাচরণের জন্য ছাত্রদের মধ্যে প্রবল কুখ্যাতি অর্জন করেছেন; এই কুখ্যাতি অর্জনের অারও কারণ হল স্বৈরাচারী অাচরণের মধ্যে দিয়ে এমন এক কলেজ পরিচালনা করা যা ‘অংশগ্রহণমূলক এবং সৃষ্টিশীল পরিমণ্ডল’-এর কথা বলে। প্রিন্সিপালের অপসারণের এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ১৩০ জনেরও বেশি...

Read More

জরুরি অবস্থার একাল-সেকাল — প্রতিরোধ জরুরি

একজন খ্যাতনামা সমাজতত্ত্ববিদ একটি নিবন্ধে লিখেছিলেন, ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত “মৌলিক অধিকারগুলো” (ফান্ডামেন্টাল রাইটস) বস্তুত “হ্যাঁ-সূচক” (পজিটিভ) নয়, বরং বলা ভালো “নেগেটিভ” (না-সূচক)। কথাটা বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে ভেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, সংবিধানের “মুখবন্ধে” (প্রিঅ্যাম্বল) সাম্যের অধিকার (রাইট টু ইকোয়ালিটি)-র কথা বলা হয়েছে তা কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে, প্রতিষ্ঠা না পেলে কাকে দায়ী করা হবে, তার শাস্তির কি ব্যবস্থা হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। এটা কি মৌলিক অধিকার? নাকি প্রসাধনী অধিকার? একই কথা প্রযোজ্য “রাইটস টু ফ্রিডম” (স্বাধীনতার অধিকার)-এ উল্লেখিত ৮টি অধিকার সম্পর্কেও। সংবিধানের ১৪ থেকে ৩০ এবং ৩২ নং ধারায় উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলোও একইভাবে না-সূচক। সংবিধানের ১৯নং ধারায় উল্লেখিত “সমাবেশিত হওয়ার স্বাধীনতা”, ঐ ধারারই ১৯(৩) ধারায় নিয়ন্ত্রণ বা কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। এমনকি “রাইট টু লাইভ ও লাইভলিহুড” (বেঁচে থাকা ও জীবনধারণের) মতো চূড়ান্ত বুনিয়াদী ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে এই “সংবিধানে” ! সাধারণ সময়ে অনালোচিত বা কম চর্চিত এই প্রশ্নগুলোই মূর্ত হয়ে উঠেছিল “অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা”র দিনগুলোতে। “জরুরি অবস্থা”র দিনগুলো নিয়ে তদন্তের জন্য গঠিত “শাহ কমিশনে” এসব প্রশ্নই ছিল মূল বিবেচ্য। ভারতে তিন তিন বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল – ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের সময় – এক্সটার্নাল এমারজেন্সি (বৈদেশিক জরুরি অবস্থা)। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ও এক্সটার্নাল জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫২নং ধারায় “অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা”, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা এবং রাজ্য স্তরে জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৫৬, যা রাষ্ট্রপতির শাসন বলে পরিচিত) জারি করার সুযোগ করে দেওয়া অাছে। যে “নীরব প্রতিবিপ্লব” ১৯৭৫ সালের ২৫...

Read More

ভাবের ঘরে চুরি নয়, কংগ্রেসের সাথে জোটের জট ছেড়ে গণঅান্দোলনের মেঠো পথে এগিয়ে চলুক স্বাধীন সংগ্রামী বামপন্থা — দীপঙ্কর ভট্টাচার্য

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবাংলার বামপন্থী কর্মীবাহিনী ও সমর্থকদের কাছে এক বিরাট প্রশ্ন রেখে গেল। এই প্রশ্নের সঠিক সমাধানের মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে অাগামীদিনে বামপন্থী রাজনীতি ও অান্দোলনের অগ্রগতির পথনির্দেশ। নির্বাচনী অভিযান পর্বে ও ফলাফল ঘোষণার প্রাকমুহূর্ত পর্যন্ত বাম-কংগ্রেস জোটের নেতারা সরকার গঠনের দাবিতে সরব থেকেছেন। কিন্তু ফলাফল ঠিক উল্টো কথা বলল। জোট ক্ষমতা থেকে বহু দূরে। বামপন্থী সমর্থনের সুবাদে কংগ্রেস তার অাসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৪-এ পৌঁছে গেলেও বামফ্রন্ট অাটকে থাকল মাত্র ৩২টি অাসনে। বলতে গেলে ২০১১ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। পশ্চিমবাংলার বিধানসভায় এই প্রথম বামপন্থীরা নেমে গেলেন তৃতীয় স্থানে। এই ফলাফলকে কীভাবে দেখব? শাসক দলের সন্ত্রাস ও কারচুপির প্রতিফলন হিসেবে? সন্ত্রাস ও কারচুপির ঘটনা অবশ্যই অনেক ঘটেছে, বেশ কিছু প্রচারমাধ্যমেও সামনে এসেছে, কিন্তু সামগ্রিক বিশ্লেষণে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা, সংবাদমাধ্যমের তীক্ষ্ণ নজর, জনগণের সোচ্চার অংশগ্রহণ – সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও কারচুপির প্রহসন বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে কি? সন্ত্রাস ও কারচুপিই যদি সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে থাকে তাহলে ‘জনগণ ভোট দিতে পেরেছেন এবং জনগণের রায়ে অামরা সরকার গঠন করতে চলেছি’ এই দাবি জোটের নেতারা কেন করলেন? নিছক সন্ত্রাস ও কারচুপির পরিণাম নয়, নির্বাচনী ফলাফলকে পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক শক্তির বর্তমান ভারসাম্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখাটাই হবে বাস্তবোচিত। ভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণে যদি নজর দেওয়া যায় তাহলে অামরা দেখব জোটপন্থী নেতা ও প্রবক্তাদের দুটো বড় তর্ক ছিল। এক, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভোট যোগ করলে তৃণমূলের ভোটকে অনেক জায়গাতেই ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে, অার দুই, লোকসভা নির্বাচনে মোদী হাওয়াতে বিজেপি যে ১৬...

Read More

মে ২০১৬-র রায় এবং বামেদের জন্য বার্তা

গোটা ২০১৫ জুড়ে একের পর এক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অাবার বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করল। পশ্চিমবাংলা ও কেরলে নিজের খাতা খোলা এবং এই দুটি রাজ্যে ভোট শতাংশ চোখে পড়ার মতো দুই অঙ্কে অর্জন করার পাশাপাশি এই প্রথম তার রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সম্ভাবনাকে বিরাটভাবে বাড়িয়ে তুলল। ক্ষমতার মসনদে দু-বছর অাসীন হওয়ার পর প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রে মোদি সরকার যখন দ্রুতগতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো শুরু করেছে তখন অসম বিজয় বিজেপির মনোবলে বহু প্রতীক্ষিত উৎসাহ যোগাবে। অসম ও কেরল, এই দুটো রাজ্যে কংগ্রেস বিরাটভাবে পরাজিত হয়েছে। যখন কেরল পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলের এক প্রতিষ্ঠিত প্রবণতাকে হাজির করেছে, সেই প্রেক্ষিতে এল ডি এফ-এর বিজয় সেই প্রবণতারই অঙ্গ। গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার ফলে অসম হাতছাড়া হওয়াটা কংগ্রেসকে সত্যিকারে ভালোই ধাক্কা দিয়েছে। কিছুদিন অাগে পর্যন্ত অসম রাজ্যে অাশু ক্ষমতায় চলে অাসাটা বিজেপি প্রত্যাশাই করতে পারত না, যদিও সেই সম্ভাবনা ছিল, অার হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে অবলম্বন করে বিজেপি সর্বদাই ‘বিদেশী নাগরিক’-এর মতো সংবেদনশীল ইস্যুটিকে ধরে নিজের ফায়দা লোটার জন্য মুখিয়েই ছিল। অসমে কংগ্রেসের ভাঙ্গন এবং বেশ কিছু বিধায়ককে ভাঙ্গিয়ে তরুণ গগৈ-এর একদা ঘনিষ্ঠ সহযোগী হেমন্ত বিশ্বশর্মার বিজেপিতে যোগদান এবং এজিপি-বিজেপি জোট অসম রাজ্যে বিজেপির সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করল। এই সুযোগের ফসলকে দুহাতে তুলতে বড়ো সহ বিজেপি বেশ কয়েকটি ছোটখাটো উপজাতির কাছে পৌঁছে যায়, অার অপরদিকে সঙ্গী খুইয়ে কংগ্রেস নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হল একা, বিশ্বাসযোগ্যতা খুইয়ে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই বিপুল জয়ের ফলে বিজেপি এখন এক সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে যা গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তার উপস্থিতিকেই...

Read More

২০১৬-র মে দিবসের অাহ্বান : প্রতিরোধ কর ভারত, প্রতিরোধ কর

নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দু-বছর পেরিয়ে গেল। এই দু-বছরে তিনি এমন এক প্রশাসনিক পথে দেশকে নিয়ে গেছেন যা অামাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বলতে গেলে এক রাজনৈতিক বিপর্যয় হয়েই দেখা দিয়েছে। জনগণের দুর্দশার প্রতি এমন নির্মম ও নির্লিপ্ত সরকার ভারত অাগে অার দেখেনি। দেশের এক বড় অংশ যখন খরা ও দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে টলমল করছে এবং প্রতিদিনই বহুসংখ্যক কৃষক ঋণ ও নিরাপত্তাহীনতার ভারে পিষ্ট হয়ে অাত্মহত্যার পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সরকার তখন ঐ দুর্দশার প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে নিজের পিঠ চাপড়ে বলছে যে, কৃষি অায়কে বাড়িয়ে ২০২২ সালের মধ্যে তারা দ্বিগুণ করবে। সবচেয়ে খরাক্লিষ্ট রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের দুর্দশার প্রতি চরম নিষ্পৃহ থাকছেন, অার যারা ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে অস্বীকার করছে তাদের রাজ্য থেকে নির্বাসনের হুমকি দিচ্ছেন। তার মন্ত্রীসভার এক সদস্যা খরা কবলিত অঞ্চলগুলোতে তার সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের স্মার্টফোনে নিজস্বী (সেলফি) তুলে যাচ্ছেন! প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ব্যস্ত থাকছেন বিদেশ সফর, নির্বাচনী সভায় বক্তৃতা দিতে, কখনও সখনও সময় বার করে তার বেতার বাণী বিলোচ্ছেন বা মাদাম তুসোর সংগ্রহশালায় নিজের মোম মূর্তির তারিফ করছেন। প্রদত্ত ভোটের মাত্র ৩১ শতাংশ পেয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু প্রায় প্রথম দিন থেকেই নাগরিকদের বড় অংশের বিরুদ্ধেই যেন স্থায়ী যুদ্ধে রত রয়েছে, যে নাগরিকদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা ভোট দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। এই সরকারের জমি অধিগ্রহণ অধ্যাদেশ সবার কাছেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, এ সত্ত্বেও সে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্রতিভূ ২০১৩-র অাইনের বেপরোয়া লঙ্খনের মধ্যে দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ কৃষি-জমিকে...

Read More

২২ এপ্রিলের অাহ্বান (২০১৬)

যুব-ছাত্রদের উত্থানকে শক্তিশালী করুন! গণ-প্রতিরোধের প্রাচীর গড়ে তুলুন! গণতন্ত্র বাঁচান, ভারত বাঁচান! অাগামী ২২ এপ্রিল হল সিপিঅাই(এমএল) প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বার্ষিকী এবং ২৫ মে ঐতিহাসিক নকশালবাড়ি অভ্যুত্থান ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। এই অভ্যুত্থান ভারতের কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমগ্র নতুন প্রজন্মের এক নতুন সমাবেশ কেন্দ্র হিসাবে সিপিঅাই(এমএল) প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। অামরা যখন অামাদের উজ্জ্বল অতীতকে স্মরণ করি, তা করি বর্তমানের সংগ্রামী ময়দানে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে এবং অামাদের নজরে থাকে সামনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলি। কেন্দ্রে ভারতের প্রথম বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের প্রধান হিসাবে মোদী অাসার পর এটা খুবই স্পষ্ট যে সংঘ বাহিনী কর্পোরেট ভজনাকারী সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী সমগ্র এজেন্ডাকে ধারাবাহিকভাবে রূপায়ন করে চলেছে। দেশের প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ থেকে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পর্যন্ত, ইতিহাস-সংস্কৃতি ও জ্ঞানের জগৎ থেকে জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকারের সাংবিধানিক ক্ষেত্র এবং প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিভূমি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংঘ বাহিনী সম্মিলিত অাক্রমণ নামিয়েছে। তারা ভিন্ন মতাবলম্বীদের অপরাধী বানাতে ও তাদের দমন করতে নির্লজ্জের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল মূল পদগুলিতে বাছাই করা ব্যক্তিদের বসাতে রাষ্ট্রক্ষমতাকে পুরোপুরি ব্যবহার করছে এবং নিজেদের গুণ্ডা ও দুর্বৃত্তদের পুরো নিরাপত্তা দিয়ে রক্ষা করছে। সংঘ বাহিনীর এই অাক্রমণকে মোকাবিলা করার সময় অামাদের অবশ্যই পরিস্থিতির যে উজ্জ্বল দিকগুলিতে নজর রাখতে হবে তা হল – জনগণ সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক অাক্রমণকে সাফল্যের সঙ্গে উন্মোচিত করছেন, চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এবং এমনকি কখনও কখনও এই অাক্রমণকে পিছু হঠতে বাধ্য করছেন। ২০১৫ সালে কৃষক সংগঠনগুলির ও বেশিরভাগ রাজনৈতিক পার্টিগুলির জোরালো বিরোধিতায় সরকারকে জমি অধিগ্রহণ অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। এ বছরের...

Read More

হে অামার দেশ : উঠে দাঁড়াও

এক নয়া ভারত গড়ে তুলতে : ভগৎ সিং-অাম্বেদকরের পথে এইচসিইউ থেকে জেএনইউ : ক্যাম্পাস বাঁচাও! গণতন্ত্র বাঁচাও! ভারত বাঁচাও! এইচসিইউ, জেএনইউ ও উচ্চ শিক্ষার ওপর অার এস এস-বিজেপি সরকারের হামলা রুখে দাও! বন্দি জেএনইউ ছাত্রদের মুক্তি চাই! জেএনইউ ছাত্রদের ওপর থেকে দেশদ্রোহ ও অন্যান্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে নাও! ইন্ডিয়ান পেনাল কোড থেকে দেশদ্রোহ ধারা বাতিল কর ! ৮ জেএনইউ ছাত্রের ওপর থেকে সাসপেনশন তুলে নাও ! বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বর্ণ বৈষম্য সমাপ্ত করতে “রোহিত অাইন” চালু কর! এইচসিইউ ও জেএনইউ ছাত্রদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন এবং মিথ্যা প্রচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য স্মৃতি ইরানিকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে! “ভগৎ সিং এই সময় তুমি ভারতে জন্ম নিয়ো না এখনো এখানে দেশপ্রেমিকদের ফাঁসি দেওয়া হয় যদি তুমি জনতার পক্ষে মুখ খোল, তোমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে, ধর্মঘট তো দূর অস্ত – এমনকি বক্তৃতা দিলেও জেল হবে।” – শৈলেন্দ্র এফটিঅাইঅাই থেকে শুরু করে অাইঅাইটি মাদ্রাজ, এইচসিইউ ও জেএনইউ এবং এখন এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় – মোদী সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসমূহের ওপর এবং ভিন্ন মত পোষণের অধিকারের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যদি এই যুদ্ধে এক তরুণ জীবন – রোহিত ভেমুলার – অকালে খসে পড়েছে, অারও কয়েক জন জেএনইউ তরুণ ছাত্র দেশদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত, তাদের অকথ্য কুৎসাপ্রচার, গ্রেপ্তারি, সাসপেনশন ও থানা লক-অাপে অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে এইচসিইউ ও জেএনইউ ছাত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিজেপির ওপর বুমেরাং হয়ে পড়েছে। সারা দেশের জনগণ জেএনইউ ছাত্রদের পুঁজিবাদ, জাতিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ থেকে স্বাধীনতার শ্লোগানকে সমর্থন করেছেন। তারা রোহিত ভেমুলা এবং জেএনইউ...

Read More
LIBERATION - Central Organ of CPI(ML) October 2017

LIBERATION - Central Organ of CPI(ML) October 2017