Bengali

বামপন্থী বন্ধু, সমর্থক, দরদিদের প্রতি খোলা চিঠি

প্রিয় সাথী, অাপনি, অামি, অামরা সকলেই এই মুহূর্তে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশীদার। সকলেরই ইচ্ছা বিগত ৫ বছর ধরে যে প্রতারক, বিশ্বাসঘাতক সরকারটা চলল তাকে উচিত শিক্ষা কিভাবে দেওয়া যায়। বাংলার বুকে প্রতিদিন যেভাবে গণতন্ত্র অাক্রান্ত ও রক্তাক্ত হচ্ছে, জনগণের অধিকারগুলো যেভাবে বিপন্ন ও পদদলিত হচ্ছে, তাকে কিভাবে প্রতিহত করা যায় এবং গণতন্ত্র ও অধিকারকে রক্ষা করা যায়। এটি অামাদের সম্মিলিত ইচ্ছা। এ প্রশ্নে বোধহয় অামাদের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। নিঃসন্দেহে বলা যায়, রাজ্যের সমাজসচেতন, শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় সমস্ত মানুষই অামাদের সাথে একমত হবেন। প্রতিদিন হাজার হাজার প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নমুখী কাজ-কর্মের নামে যে তঞ্চকতা চলল, তার স্বরূপ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা অামাদের অাশু কর্তব্য। ‘সততার প্রতীক’ যেভাবে ‘দুর্নীতির মডেল’ হয়ে উঠলেন, তাও মানুষ স্বচক্ষে দেখছেন। কিন্তু জনগণের এই ইচ্ছা-অাকাঙ্খা ও অভিজ্ঞতার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে সিপিএম নেতৃত্ব এক বিপথগামী পথে পুনরায় যাত্রা শুরু করলেন। যুক্তি হিসাবে হাজির করলেন একরাশ কুযুক্তি : “অামরা দুর্বল, তাই একার পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করা সম্ভব নয়”, “অামরা কোনো জোট বা অাঁতাত করছি না, অামরা একসাথে বসে অাসন বোঝাপড়া করছি”, যাতে “একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়া যায়” – ইত্যাদি। বলা হল, অতীত ভুলে যেতে হবে, বর্তমানটাই অাসল কথা। বর্তমানের প্রয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক’ কংগ্রেস দলের সাথে অাসন বোঝাপড়া কোনো অন্যায় নয়, বরং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ সম্মত। দলের প্রথম সারির নেতা ও রাজ্য সম্পাদক কমরেড সূর্যকান্ত মিশ্র জানালেন, এটা বুঝতে না পারা রাজনৈতিক সংকীর্ণতা। সূর্যবাবু দলের মুখপত্র গণশক্তি পত্রিকায় (১৩ মার্চ ২০১৬) এক বিরাট মাপের নির্দেশাত্মক নিবন্ধ লিখলেন,...

Read More

২৪ বছর অাগের ঘটনায় দেশদ্রোহের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার “শহীদ হাসপাতালের” চিকিৎসক ডাঃ শৈবাল জানার মুক্তি চাই

মিথ্যা অভিযোগে দেশদ্রোহ মামলায় ডাঃ বিনায়ক সেনের গ্রেপ্তারের পর দেশজোড়া অালোড়নের মুখে ছত্তিশগড়ের বিজেপি পরিচালিত রমন সিং সরকার পিছু হঠলেও সরকার ও রাষ্ট্রের সন্ত্রাস অব্যাহত। ডাঃ বিনায়ক সেনের পর দেশদ্রোহের মিথ্যা অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হলেন ছত্তিশগড়ের দল্লি-রাজহারার প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ শৈবাল জানা। ডাঃ জানা কলকাতার অার জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং অাশির দশকের জুনিয়ার ডাক্তার অান্দোলনের অন্যতম সংগঠক। এখন তিনি ছত্তিশগড়ের অাদিবাসী সম্প্রদায় ও শ্রমিকদের মধ্যে চিকিৎসার কাজে নিযুক্ত। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্পোরেট মদতে অাঁততায়ীর হাতে শংকর গুহনিয়োগীর হত্যার পর ১৯৯২ সালের জুন মাসে শ্রমিকরা রেল অবরোধ করেছিলেন। এই রেল অবরোধে পুলিশের গুলিচালনায় ১৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। অার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অাহত শ্রমিকদের চিকিৎসার কাজে ডাঃ শৈবাল জানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ‘অপরাধে’ ২৪ বছর পর গত ১৬ মার্চ ২০১৬, ছত্তিশগড়ের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ডাঃ জানার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল দুর্গের এক হাসপাতালে পুলিশের নজরদারিতে গ্রেপ্তার অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন। শুধু চিকিৎসক নন, প্রখ্যাত অাইনজীবী শালিনী বেরা, ঈশা খান্ডেলওয়ালাকেও পুলিশ হুমকি দিয়েছে অবিলম্বে ছত্তিগড় ছেড়ে চলে যেতে। সাংবাদিক বন্ধুরা ছত্তিশগড়ের দন্তেওয়াড়া, জগদ্দলপুর অঞ্চলে অাধা-সামরিক বাহিনীর অত্যাচার সম্পর্কে অাদিবাসী মানুষের কাছে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদেরও হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির নেতৃত্বে ছত্তিশগড়ে অাধা-ফ্যাসিস্ত সরকার চলছে। সি পি অাই (এম এল) লিবারেশন ডাঃ শৈবাল জানা সহ অাইনজীবী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধিক্কার ও নিন্দা এবং অবিলম্বে ডাঃ জানার মুক্তির দাবি জানাচ্ছে। ডাঃ জানাকে মুক্তি না দিলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সমাজকর্মী ও অাইনজীবী-সাংবাদিকদের...

Read More

প্রিকল-এর অাট জন শ্রমিককে মুক্তি দাও!

অাট জন শ্রমিককে দ্বিতীয় বারের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থে লড়াই করার ‘অপরাধে’ এবং ট্রেড ইউনিয়নে সংগঠিত করার জন্যই তাঁদের দেওয়া হয়েছে এই সাজা। সম্ভবত এটাই হল প্রথম এমন এক ঘটনা, যেখানে শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এরকম এক রায় দেওয়া হয়েছে, অার যেখানে শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্নে পুঁজিপতি/কর্পোরেট ঘরানার তীব্র ঘৃণা, পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব ও শত্রুতা পরিষ্কারভাবেই ফুটে উঠেছে। রায়দানের বার্তা খুবই স্পষ্ট – যদি তুমি মাথা তুলে দাঁড়াও, যদি তুমি তোমার পছন্দমতো ইউনিয়ন গঠন কর, যদি তুমি তোমার অধিকার ও মজুরি সংক্রান্ত ব্যাপারে কথাবার্তা বল, তোমাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। গোটা দেশজুড়ে লাগাতারভাবেই শ্রমিকশ্রেণীকে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রিকল লিমিটে‌‌ড অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের উৎপাদক এবং কোয়েম্বাত্তুর, পুনে, গুরগাঁও ও উত্তরাখণ্ডে রয়েছে তাদের ইউনিট। বিদেশে, যেমন ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলেও রয়েছে তাদের ইউনিট। রিয়েল এস্টেট, নির্মাণ, ভ্রমণ, অাতিথেয়তা ক্ষেত্রে রয়েছে এদের কারবার। প্রিকল লিমিটেড-এর শ্রমিকরা (কোয়েম্বাত্তুর) শ্রমকানুন রূপায়ণ এবং অাইন মোতাবেক মজুরির দাবিতে অান্দোলন করছিলেন। এজন্য তাঁরা নিজেদের ইউনিয়ন গঠন করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এই ইউনিয়নকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে কোয়েম্বাত্তুর সেশন কোর্ট (দায়রা অাদালত) প্রিকল ইউনিয়নের (কোয়েম্বাত্তুর জেলা প্রিকল ওয়ার্কার্স ইউনিটি ইউনিয়ন) ৮ জন শ্রমিক – গুনাবালান, মনিভান্নান, রাজেন্দ্রন, রামামূর্তি, সম্পত কুমার, সরভান কুমার, শিবকুমার ও ভি ভেলমুরুগন-কে দু-দুবারের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। শ্রমিক অান্দোলনের ওপর এক পরিকল্পিত অাক্রমণ : ‘কোনো ধরনের অপরাধ বা এমনকি খুনের সাক্ষ্য না পাওয়া গেলেও এই রায়দানের নির্মমতা প্রমাণ করে যে অার যাই হোক, এটা কয়েকজন অভিযুক্ত শ্রমিকের বিরুদ্ধে সাধারণ এক...

Read More

“বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি, বুঝে নিক দুর্বৃত্ত” : পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলী শাসনের মোকাবিলা ও বামপন্থী পুনর্জাগরণের চ্যালেঞ্জ

পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ও মা-মাটি-মানুষের অবিরাম ঢক্কা-নিনাদের পাঁচটি বছর পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অাবার বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায়। পাঁচ বছর অাগে পরিবর্তনের যে ডাক মানুষের মনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল তার পেছনে ছিল প্রায় জগদ্দল পাথরের মতো অচলায়তনে পরিণত দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম শাসন। সাড়ে তিন দশকের নিরবচ্ছিন্নতার ক্লান্তি নয়, বাংলার ব্যাপক মানুষের কাছে, এমনকি বামফ্রন্ট সমর্থক ভোটদাতাদের এক বড় অংশের কাছেও, যা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল তা হল বুদ্ধবাবুর নেতৃত্বে বাম শাসনের ঔদ্ধত্য, উন্নাসিকতা ও নির্লজ্জ কর্পোরেট বন্দনা। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, লালগড় – সিপিএম রাজত্বের অবসানের বার্তা দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হয়ে গেলেও সি পি এম সে লেখা পড়তে চায়নি। ২০০৬-এর নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়লাভের এক মাসের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে সিঙ্গুর থেকে যে পটপরিবর্তনের সূচনা হয় তা যেন অনিবার্যভাবেই ২০১১-র নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারের শোচনীয় পরাজয়ের সুনিশ্চিত ঠিকানায় পৌঁছে যায়। অাজ পাঁচ বছর পরে, সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি পূরণ ছাড়া তৃণমূল সরকারের ‘সাফল্যের’ ভাঁড়ারে তেমন কিছু নেই। সরকারী খয়রাতি বণ্টনের সীমিত কর্মসূচী ও কিছু সাংকেতিক পারিবারিক সহায়তা প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে একদিকে তুমুল প্রচার অভিযান, অন্যদিকে চা-বাগানে অনাহার মৃত্যুর মিছিল, রাজ্যজুড়ে ভেঙে পড়া দুর্নীতিগ্রস্ত রেশন ব্যবস্থা, সরকারী ঔদাসীন্যে ও সংকটে নাজেহাল কৃষকসমাজ। একদিকে সারদা কেলেঙ্কারীতে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ ও যুব-সমাজ, অন্যদিকে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের নির্লজ্জ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষণ। একদিকে রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতন, যৌন হিংসা ও হয়রানির ক্রমবর্ধমান তালিকা, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর চোখে এসবই হয় সাজানো ঘটনা, নয় ছোটখাট ব্যাপার। সিপিএম অামলে দলতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অাজ রাজ্যজুড়ে মমতা শাসনে নেমে এসেছে তৃণমূলী অাক্রমণ ও পুলিশী নির্যাতন। একদা...

Read More

সিপিএমের কলকাতা প্লেনাম : উত্তরগুলো অধরা

একটি নির্মম স্বীকারোক্তি ও একটি নির্ভেজাল সত্যকে দলিলে গুরুত্বসহ তুলে ধরার জন্য সিপিএমের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে কথা শুরু করা যাক। অামরা প্রথমে এই ‘স্বীকারোক্তি’ ও ‘নির্ভেজাল সত্য’ দলিলে যেভাবে অাছে, তা বাংলায় তর্জমা করে পাঠকের কাছে হাজির করব। দলিলটি হল, অতি সম্প্রতি (২৭-৩১ ডিসেম্বর ২০১৫) কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিপিএমের সাংগঠনিক প্লেনামে গৃহীত রিপোর্ট। দলিল শুরুতেই অামাদের জানিয়েছে : গণভিত্তি সম্পন্ন একটি শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টি কিভাবে গড়ে তোলা যায় তার উপর অালোচনা কেন্দ্রীভূত (ফোকাস) থাকবে। অর্থাৎ অামরা যা নিয়ে কথা বলছি তা একটি ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির’ দলিল। তাই কমিউনিস্ট কর্মী ও সমর্থকরা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব ও তার অনুশীলন-লব্ধ অভিজ্ঞতার অালোকে দলিলটিকে অালোচনা ও বিচার করবেন। এই অাশা করা যায়। নির্মম স্বীকারোক্তিটি হল, “বামফ্রন্ট সরকারের গৃহীত নীতিগুলো নিয়ে যখন বিতর্ক উঠছে, সেই জটিল সন্ধিক্ষণে (ক্রুশিয়াল জাংচার) পলিট ব্যুরোর পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করতে অামরা অসমর্থ (? ব্যর্থ) হয়েছি । যদিও কেন্দ্রীয় কমিটিতে বামেদের পরিচালিত সরকারের নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চর্চা হয়েছে এবং ১৮তম পার্টি কংগ্রেস ও ১৯তম পার্টি কংগ্রেসে যথাক্রমে “কিছু পলিসি (নীতি) সংক্রান্ত বিষয়” ও “বর্তমান পরিস্থিতিতে বামেদের পরিচালিত সরকারের ভূমিকা” নিয়েও চর্চা হয়েছে।” কিন্তু “পার্টি কেন্দ্র ও পলিটব্যুরো” শক্তিশালী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে নিজে থেকে হস্তক্ষেপ না করে যুক্তরাষ্ট্রবাদী (ফেডেরাল) প্রবণতাকে সহায়তা করেছে, কেবলমাত্র যখন সংশ্লিষ্ট রাজ্য এ ধরনের কোনো বিষয় তুলতো তখন কেন্দ্র চর্চা করত” (১.১৪২ ধারা)। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে পরিচালিত পার্টি যে সমস্ত রোগে অাক্রান্ত – গোষ্ঠীবাদ, কেরিয়ারইজম (উচ্চাকাঙ্খা), যুক্তরাষ্ট্রবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতা, অামলাতান্ত্রিক মনোভাব, যৌথ নেতৃত্বে পরিচালনাকে অগ্রাহ্য করা, নীচুতলা...

Read More

১৮ জানুয়ারী ২০১৬ পার্টির রাজ্য অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ ও পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পালের প্রেস বিবৃতি

১। ঐক্যবদ্ধ বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলনে পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত (সাবোতাজ) বিগত দেড় বছরে বিশেষত কেন্দ্রে বিজেপি-অার এস এস পরিচালিত নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় অাসার পর দেশজুড়ে ৬টি বামপন্থী সংগঠন কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট হামলা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী গ্রহণ করে। পশ্চিমবাংলায় ৬টি বামপন্থী দলের সাথে যৌথভাবে অার‍ও কিছু সংগঠন (যা সংবাদ মাধ্যমে বামপন্থী দলগুলোর যৌথ কার্যক্রম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে) গণতন্ত্রের ওপর হামলা, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি, জনজীবনের বুনিয়াদী বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ বামপন্থী গণতান্ত্রিক অান্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। ২ সেপ্টেম্বরের সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে বামপন্থী দলগুলো যৌথ কর্মসূচী গ্রহণ করে। এই সমস্ত কর্মসূচীতে দক্ষিণপন্থী কংগ্রেস বা বিজেপিকে অাহ্বানের কোনো প্রশ্নই ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয়। সি পি এমের ২১তম পার্টি-কংগ্রেসও বিজেপি-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিরোধিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অাজ হঠাৎ নির্বাচনের মুখে এসে কি এমন ‘অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ঐক্যবদ্ধ বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বামপন্থী অান্দোলনের অভ্যন্তর থেকে স্বার্থান্বেষী অংশ কংগ্রেসের প্রতি প্রকাশ্য অাহ্বান জানাচ্ছে ”কংগ্রেস কোন দিকে জানাক”। পার্টি-কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের থেকেও কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত ঐ স্বার্থান্বেষী অংশের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? কংগ্রেস কোন দিকে এটা অজানা প্রশ্ন নয় – কংগ্রেস পুঁজির দিকে, দুর্নীতির দিকে, জনবিরোধী কার্যকলাপের দিকে। এহেন কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী অাঁতাত বামপন্থী অান্দোলনকে কলুষিত করবে এবং প্রকারান্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতকেই শক্তিশালী করবে। অামরা রাজ্যের সমস্ত সংগ্রামী বামপন্থী শক্তির কাছে প্রকাশ্যে অাহ্বান জানাচ্ছি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে এবং জনগণের বুনিয়াদী ইস্যুগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলন শক্তিশালী করার। ২। সিঙ্গুরের কৃষক...

Read More

ভাষ্য : সম্মিলিত কণ্ঠে অাওয়াজ উঠুক প্রতারকদের জবাব চাই

২১ জানুয়ারী ২০১৬ শহীদ মিনার চলুন প্রিয় সাথী, এই নিয়ে বেশ কয়েকবার জাঁকজমক করে এ রাজ্যে শিল্পের হাল ফেরাতে শিল্পপতিদের শীর্ষ সম্মেলন হয়ে গেল। রাজ্য কোষাগারের দেউলিয়া অবস্থা থাকলেও জাঁকজমকে কোনো ফাঁক ছিল না। অনেকটা উৎসব উৎসব ভাব, প্রচুর ‘প্রস্তাব’ জমা পড়লো – বড় বড় অঙ্কের টাকা (পুঁজি) বিনিয়োগের প্রস্তাব। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এত প্রস্তাব পুরোটা হিসাব করে ওঠা যায়নি’। কিন্তু অামরা বন্ধ-রুগ্ন কলকারখানা পুনরুজ্জীবনের যে ‘প্রতিশ্রুতি’ পেয়েছিলাম, তাতে কোনো পুঁজি বিনিয়োগের কথা তো শুনলাম না । ৫০ হাজারের বেশি বন্ধ-রুগ্ন শিল্পগুলো বাঁচানোর কথা কি মুখ্যমন্ত্রী ভুলে গেলেন? উত্তরবাংলার চা-শ্রমিকদের অনাহারে মৃত্যু-মিছিল নিয়ে শিল্প সম্মেলনে কোনো কথা হল কি? পশ্চিমবাংলায় অালোড়ন তোলা ‘সিঙ্গুর’ নিয়ে কি কিছু কথা হল? তাঁত-শিল্প, পাট-শিল্প নিয়ে তো কোনো কথাই শুনলাম না। কেউ কেউ বলছেন, অাজকের যুগে ওসব মান্ধাতা অামলের শিল্প নিয়ে কথা বলার কি অাছে? অাগে ‘অাধুনিক’ সব শিল্প হোক, উন্নয়ন হোক, ‘চুঁইয়ে চুঁইয়ে ‘ সে উন্নয়নের ‘সুফল’ একদম নীচুতলায় পৌঁছে যাবে। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই ‘উন্নয়ন তত্ত্ব’ বুদ্ধিমান মানুষেরা অামাদের শুনিয়ে এসেছেন। অাম্বানি-অাদানি-টাটা-বিড়লাদের পাহাড় প্রমাণ মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করলেও এই ‘উন্নয়ন তত্ত্বে’ অামাদের কথা কে ভাবে? চাকরি বা কর্মসংস্থান কত হবে – এ প্রশ্ন তোলা নাকি সেকেলে ব্যাপার। তোমরা চাষের জমি দিয়ে দাও, উন্নয়নের জন্য লাগবে! অার ওদিকে ১০-১৫-২০ বছর ধরে শহর ও শহরতলিতে যে ‘প্রাইম ল্যান্ড’ বন্ধ-রুগ্ন কারখানার কঙ্কালগুলো ধরে রাখার জন্য পড়ে অাছে, তার উদ্ধার কেন হল না, অাদৌ হবে কিনা, এ নিয়ে শিল্পপতিরা বা তাদের মুখপাত্ররা শিল্প-সম্মেলনে কিছু বললেন...

Read More

সি পি অাই (এম এল)-এর ডাকে ২১ জানুয়ারী শহীদ মিনারে ”জবাব চাই সমাবেশ” সফল করার অাবেদন : স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে বাম-গণতান্ত্রিক অান্দোলন শক্তিশালী করুন

অামাদের এই দেশ ও এই রাজ্য ইন্দিরা-সিদ্ধার্থের স্বৈরশাসন ও গণতন্ত্রহত্যার রাজনীতি প্রত্যক্ষ করেছে। গোটা দেশজুড়ে ‘এশিয়ার মুক্তি সূর্যের’ জয়ধ্বনি তুলে অার বন্দেমাতরম শ্লোগান দিতে দিতে সংগঠিত হয়েছিল হত্যা-গণহত্যার বর্বর রাজনীতি। হত্যা করা হয়েছিল সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখা একটা গোটা প্রজন্মকে, বিপ্লবী নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অসংখ্য সংগ্রামী বামপন্থী সংগঠককে। শাসকের সংকট মোচনে জারি করা হয়েছিল গণতন্ত্র হত্যার কালো ফতোয়া – জরুরি অবস্থা। সেই কালো ইতিহাসের বিচার এখনও বাকি। অাজ অাবার দেশজুড়ে শুরু হয়েছে কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক জমানাকে স্থায়ী করার দুরভিসন্ধি। ‘সুদিন’ অানার ধোঁকাবাজি ধরা পড়ে যাওয়ার পর শুরু হল সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার বিষবাষ্পে সমাজ ও দেশকে বিভাজিত করার ঘৃণ্য রাজনীতি। দরিদ্র ভারতবাসীকে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়ার’। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কাজ ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত মানুষকে প্রতারণার এই রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশ ও সমাজ অালোড়িত ও অান্দোলিত। শ্রমজীবী জনগণের গণতন্ত্র হরণের জন্য জারি হচ্ছে একের পর এক কালা ফরমান, পুঁজিপতিদের স্বার্থে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে জল-জমি-জঙ্গল সহ দেশের সমস্ত প্রাকৃতিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এত করেও বিজেপি-ফানুস চুপসে গেছে, তাই নতুন করে উগ্রজাতীয়তাবাদী যুদ্ধজিগির তৈরির ঘৃণ্য চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান বিরোধী, মুসলমান বিরোধী উগ্র জাতীয়তাবাদ শাসকের পরিচিত রাজনীতি। বামপন্থী-গণতান্ত্রিক জনগণকে এর বিরুদ্ধে অাওয়াজ তুলতে হবে। পাঁচ বছর অাগে ‘সততার প্রতীক’ কাট-অাউট টাঙিয়ে অার পরিবর্তনের ধূয়ো তুলে এরাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল যারা, তারা অাজ অাকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে অাছে। মনমোহনীয় কংগ্রেসী জমানার মতো অাজ একে, কাল ওকে সিবিঅাই ডেকে পাঠাচ্ছে। কেউ জামিন পাচ্ছে তো অন্যজন জেলে ঢুকছে বা ঢোকার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। যে হাজারো প্রতিশ্রুতি ছিল লাখো লাখো বেকার যুবক ও...

Read More

প্রেস বিবৃতি : উত্তরবাংলার তরাই ও ডুয়ার্সের বন্ধ চা-বাগানে অনাহার মৃত্যু-মিছিল : কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতা ও দায়হীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

উত্তরবাংলার তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগানগুলোতে বিশেষত জি পি গোয়েঙ্কার পরিচালনাধীন ডানকান চা-বাগানগুলোতে একের পর এক চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মানুষজন অনাহার-অপুষ্টি ও বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। গত ৬ মাসেই এই মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ জন। টি প্ল্যান্টেশন এ্যাক্ট-কে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চোখের সামনে অপরাধী চা-বাগান মালিকরা শ্রমিকের মজুরি, পি এফের টাকা লোপাট করে দিয়েছে। চা-বাগান শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি পর্যন্ত পান না। অাজকের এই মূল্যবৃদ্ধির সময়ে একজন বাগান শ্রমিক ১১৫-১২০ টাকা মজুরি পান, বন্ধ হয়ে গেলে তাও পান না। গতকাল কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অালোচনায় সমস্যা সমাধানে বিন্দুমাত্র অাগ্রহ দেখাননি। নানা কথার অাড়ালে মূল সমস্যাকে এড়িয়ে গেছেন। এর প্রতিবাদে অাজ সি পি অাই (এম এল) লিবারেশনের পক্ষ থেকে উত্তরবাংলার ৭টি জেলায় – উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ-কালিয়াগঞ্জে, দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামে, জলপাইগুড়ি জেলায় গোশালা মোড়ে, মালদার চাঁচোলে, কোচবিহার জেলায় জাতীয় সড়ক ও পথ অবরোধ করা হয়। দার্জিলিং শহরে অাদালতের সামনে গণঅাইন অমান্য কর্মসূচী সংগঠিত হয়। কালিয়াগঞ্জে রাজ্য কমিটির সদস্য তসলিম অালি ও জেলা সম্পাদক জগদীশ রাজভর সহ ২৬ জন কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শিলিগুড়ি শহরে অাইন অমান্য কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অভিজিৎ মজুমদার ও রাজ্য কমিটি সদস্য বাসুদেব বসু। কলকাতায় পার্টির জেলা কমিটির উদ্যোগে মৌলালী মোড় থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হয় এবং মৌলালী মোড় অবরোধ করা হয়। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এই মৃত্যুমিছিল বন্ধ করতে অাপতকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রাজ্য জুড়ে বড় ধরনের...

Read More

৪ জানুয়ারী ২০১৬ পার্টির রাজ্য অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ ও পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পালের প্রেস বিবৃতি

১। বন্ধ চা-বাগানে অনাহার মৃত্যু বন্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে অাপতকালীন ব্যবস্থা করতে হবে। ডানকান মালিক জি পি গোয়েঙ্কাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পরিবর্তনের নামে যে সরকার প্রায় পাঁচ বছর রাজত্ব করল, সেই শাসনকালে উত্তরবাংলার তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের চা-বাগানগুলোতে প্রায় তিন শতাধিক চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের অনাহার মৃত্যু ঘটেছে। ডানকানের ১৬টি বন্ধ চা-বাগানে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রাজ্যজুড়ে অালোড়নের পর রাজ্য সরকার যে ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে তা বস্তুত চা-বাগান মালিকদেরই বেল-অাউট প্যাকেজ। চা-বাগানগুলোতে ন্যূনতম মজুরি অাইন কার্যকরী করতে রাজ্য সরকার বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় উঠেই গেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এই বাংলায় অনাহার মৃত্যু চলছে। অামরা দাবি করি — (ক) বন্ধ চা-বাগানগুলো খোলার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। (খ) চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি অাইন কার্যকরী করতে হবে। (গ) ডানকান চা-বাগান মালিক জি পি গোয়েঙ্কাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বন্ধ বাগানগুলো খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। (ঘ) বন্ধ চা-বাগানগুলোর শ্রমিকদের ফাউলাই স্কীমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। (ঙ) চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারবর্গের জন্য খাদ্য সুরক্ষা অাইন জরুরি ভিত্তিতে লাগু করতে হবে। (চ) অবসরপ্রাপ্ত চা-শ্রমিকদের জমির পাট্টা দিতে হবে। এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখে অাগামীকাল ৫ জানুয়ারী উত্তরবাংলার জেলাগুলোতে সকাল ১১টা থেকে ১২টা জাতীয় সড়ক অবরোধ ও গণঅাইন অমান্য সংগঠিত হবে এবং কলকাতায় দুপুর ২টোয় বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হবে। অাগামী ২১ জানুয়ারী ২০১৬ সি পি অাই...

Read More

২০১৫ সালের সংকল্প দিবসে কেন্দ্রীয় কমিটির অাহ্বান : প্রতিটি মুহূর্ত অাঁকড়ে ধরুন, পার্টির বিস্তার ঘটান ও কমিউনিস্ট অান্দোলনকে শক্তিশালী করুন

(১৭ বছর অাগে ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর লক্ষ্ণৌতে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক চলাকালীন অামরা কমরেড বিনোদ মিশ্রকে হারাই। তার পর থেকে প্রত্যেক বছর পার্টি এই দিনটিকে সংকল্প দিবস হিসাবে পালন করে অাসছে। এই দিন থেকে পার্টির সদস্যপদ নবীকরণ অভিযান শুরু হয় এবং পার্টি বিপ্লবী লক্ষ্য সম্পাদন করতে নতুন করে সংকল্প গ্রহণ করে)। ১৭ বছর অাগে যখন অামরা কমরেড বিনোদ মিশ্রকে হারাই অামাদের দেশ তখন প্রথম এন ডি এ সরকারের এবং কেন্দ্রে বিজেপি পরিচালিত সরকারের অবস্থান জনিত রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত তাৎপর্যকে সবেমাত্র মোকাবিলা করা শুরু করে। কমরেড বিনোদ মিশ্রের নেতৃত্বে সমগ্র পার্টি বিজেপির গৈরিকীকরণ এজেন্ডার বিরুদ্ধে এক দৃঢ় পাল্টা মতাদর্শগত অভিযান ও শক্তিশালী ”গৈরিক হঠাও, দেশ বাঁচাও” অভিযান শুরু করে। প্রথম এন ডি এ সরকার বেশিদিন টেকেনি। কিন্তু তা ১৯৯৯ সালে অারও বড় জোট নিয়ে ফিরে অাসে। অবশ্য ২০০২ সালে গুজরাট গণহত্যাকাণ্ডের পর দেশ প্রথম সুযোগেই বিপর্যয়কর এন ডি এ জমানা হঠাতে সমর্থ হয়। অাজ ১৭ বছর পর, অামরা অার এক বিজেপি পরিচালিত সরকারের দ্বারা চালানো এক সম্পূর্ণরূপে ও পুরো মাত্রায় কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক অাক্রমণকে দেখতে পাচ্ছি এবং এবারে তারা ক্ষমতায় ফিরেছে অারও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। কিন্তু অামরা এটাও বলতে পারি, কমরেড বিনোদ মিশ্র দূরদৃষ্টিতে শক্তিশালী বিপ্লবী-গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ সংগ্রামের যে সম্ভাবনা দেখেছিলেন তা অামরা এখন প্রত্যক্ষ করছি। ২০১৪ সাল যদি ভারতীয় জনগণের কাছে ধাক্কা খাওয়ার বছর হয়ে থাকে, যে বছর নরেন্দ্র মোদী তুমুল বক্তৃতাবাজির ওপর ভর করে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় বসে পরিকল্পিতভাবে বিপর্যয়কর গৈরিক এজেন্ডাকে তার সামগ্রিক পরিসরে প্রয়োগ করতে শুরু করেন, তবে ২০১৫...

Read More

সি পি অাই (এম এল) লিবারেশনের ডাকে জবাব চাই সমাবেশ

শহীদ মিনার : ২১ জানুয়ারী ২০১৬ : বেলা ১২টা প্রিয় বন্ধুগণ, ২০১৪ সাল যদি নরেন্দ্র মোদী-বিজেপি-সংঘ পরিবারের অাগ্রাসী রাজনীতির উত্থানের বছর হয়ে থাকে, যে বছরে কর্পোরেট দেশী-বিদেশী পুঁজিপতিদের তোষণ ও সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে, তবে ২০১৫ সাল জনগণের প্রত্যাঘাতের বছর হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কৃষকের জমি কেড়ে নেওয়ার কুখ্যাত জমি অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার, শ্রম অাইন সংশোধনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ২ সেপ্টেম্বর শ্রমিক শ্রেণীর সর্বাত্মক সফল ধর্মঘট, উচ্চ শিক্ষাকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-র কাছে বিক্রি করে দেওয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের “অকুপাই ইউ জি সি” অান্দোলন, নারীর নির্ভয় স্বাধীনতার দাবিতে দেশজুড়ে নারী জাগরণ, সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার রাজনীতির বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী সমাজের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও পদক প্রত্যাখ্যান – জনগণের প্রত্যাঘাতের জ্বলন্ত উদাহরণ। সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট শক্তির পূর্বাঞ্চলমুখী অভিযানও মুখ থুবড়ে পড়ল বিহারের মাটিতে। বাম শক্তির সম্মিলিত প্রতিবাদ এবং সি পি অাই (এম এল) লিবারেশনের নির্বাচনী সাফল্য অারেকবার প্রমাণ করল বামশক্তির স্বাধীন উত্থান কতটা প্রাসঙ্গিক। ২০১৬ সাল হোক এই লড়াইকে অারও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বছর। এই রাজ্যে অামরা মুখোমুখী এক স্বৈরাচারী-প্রতারক শাসকের, যেখানে প্রতিদিন অাক্রান্ত হচ্ছে গণতন্ত্র। সন্ত্রাস-ভোট লুঠ-নারী নির্যাতন-পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি-কৃষকের অাত্মহত্যা-চা শ্রমিকের অনাহার মত্যুমিছিল রাজ্যে সংবাদের শিরোনাম। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল ৫৬ হাজার বন্ধ-রুগ্ন কলকারখানার পুনরুজ্জীবন ও লাখো লাখো বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান, সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি ফেরত। সেই সব প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে ১০০ দিনের কাজ নেই, বকেয়া মজুরি কোটি কোটি টাকা। চাষিরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে চলছে ভাঁওতা। অাদিবাসীরা বনাঞ্চল অাইন বলে জমির অধিকার পেল...

Read More

রানাঘাট-গাংনাপুরে কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি ও ধর্ষণের নজিরবিহীন ঘটনায় গাংনাপুর থানার পুলিশ অফিসার ও নদীয়া জেলা পুলিশ অাধিকারিককে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে

প্রেস বিবৃতি বার্তা সম্পাদক কলকাতা রানাঘাট-গাংনাপুরে কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি ও ধর্ষণের নজিরবিহীন ঘটনায় গাংনাপুর থানার পুলিশ অফিসার ও নদীয়া জেলা পুলিশ অাধিকারিককে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় অাসার কিছুদিন পরেই কলকাতার বুকে পার্ক স্ট্রীটে বলাৎকারের শিকার হয়েছিলেন সুজেট জর্ডান। তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিচারের দাবিতে সুজেটের পাশাপাশি গোটা রাজ্য বারবার সোচ্চার হয়েছে। শাসকসুলভ দম্ভ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এই লজ্জাজনক ঘটনার পেছনেও ‘ষড়যন্ত্রের’ ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। সুজেট বিচার পায়নি। সুজেটের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার মধ্যরাতে রানাঘাটের গাংনাপুরে ক্রিশ্চান মিশনারী স্কুলে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতি। স্কুলের লকার ভেঙে কয়েক লক্ষ টাকা লুঠ-পাট করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, ৭২ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা সন্ন্যাসিনীকে বলাৎকার করে। ঘটনার বিবরণে গোটা রাজ্য স্তম্ভিত। সাত দিন অাগে ঐ স্কুলেই হুমকি ফোন এসেছিল এবং তা যথাযথভাবে নদীয়া পুলিশ অাধিকারিকদের জানিয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐ কনভেন্ট স্কুলের শিক্ষিকা ও কর্মচারিদের নিরাপত্তার বিন্দুমাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক কিলোমিটারের মধ্যেই রানাঘাট থানা। দীর্ঘ তিন-চার ঘণ্টা স্কুলের মধ্যে তাণ্ডব, সন্ন্যাসিনীকে বলাৎকার ও লুঠপাট চালিয়ে অপরাধীরা বিনা বাধায় চলে যায়। এখনও পর্যন্ত কোনো অপরাধীই ধরা পড়েনি। দেশ ও রাজ্য জুড়ে নারী নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের যে ঘৃণ্য রাজনীতি শুরু হয়েছে, রানাঘাটের ঘটনার সঙ্গে তার যোগ অাছে কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটা স্পষ্ট যে ঐ দুষ্কৃতিরা ঐ কনভেন্ট স্কুলের নাড়িনক্ষত্র জানত এবং নিছক লুঠপাটের জন্যই তারা হামলা চালায়নি। ঐ সন্ন্যাসিনী শিক্ষিকাকে নির্যাতন ও হেনস্ত করার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল। পুলিশের এই ক্রিমিনাল নেগলিজেন্সের (অপরাধসুলভ দায়িত্বহীনতা) জন্যই অপরাধীরা...

Read More

১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস # রাজ্য জুড়ে অালু ও টমাটো চাষিদের বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্তির দাবিতে অান্দোলন কর্মসূচী

প্রেস বিবৃতি বার্তা সম্পাদক কলকাতা ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস রাজ্য জুড়ে অালু ও টমাটো চাষিদের বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্তির দাবিতে অান্দোলন কর্মসূচী ১। ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস। হাজারো প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ২০০৭-এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে যে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছিল অাজও তার বিচার হয়নি। কোনো অপরাধী পুলিশ অফিসারের শাস্তি হয়নি। উল্টোদিকে মমতা ব্যানার্জীর সরকার সেই অপরাধী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে সি বি অাই-এর তদন্ত প্রক্রিয়াকে নানা অজুহাতে বাধা দিয়ে চলেছে। এমনকি তাদের কাউকে কাউকে প্রমোশন দিয়ে দল-দাস বানিয়েছে। প্রতি বছর অানুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে। জনগণকে স্তোক বাক্য দেয় কিন্তু বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে না। এভাবেই কাশীপুর-বরানগর গণহত্যার বিচারকে শেষপর্যন্ত হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সি পি অাই (এম এল) লিবারেশন এবং তার গণসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে প্রচার অান্দোলন সংগঠিত করবে। ২। অালু, টমাটো ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের দাম না পেয়ে কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে বারংবার স্মারকলিপি ও ডেপুটেশন দিলেও তাঁদের পক্ষ থেকে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ার ফলে বর্ধমান জেলায় দুজন কৃষক ঋণের দায়ে অাত্মহত্যা করেছেন। শাসকসুলভ দম্ভে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও কৃষিবিপণন মন্ত্রী দুজন কৃষকের অাত্মহত্যাকে নস্যাৎ করে বলেছেন ওরা অাত্মহত্যা করেছে ‘মাতাল’ হয়ে। অথচ কোনো মন্ত্রী বা অামলাই ওই বিপর্যস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যদের মুখ থেকে প্রকৃত তথ্য জানার বিন্দুমাত্র অাগ্রহ প্রকাশ করেননি। চার বছরে ‘কৃষক দরদী’ সরকার একটি মাত্র হিমঘর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। অার ব্লকে ব্লকে কিষাণমাণ্ডি ও হিমঘর তৈরির কথা উন্নয়নের বাকি গল্পের সঙ্গেই মিশে গেছে। ধানের...

Read More

১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস # রাজ্য জুড়ে অালু ও টমাটো চাষিদের বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্তির দাবিতে অান্দোলন কর্মসূচী

প্রেস বিবৃতি ১। ১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবস। হাজারো প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ২০০৭-এর ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে যে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছিল অাজও তার বিচার হয়নি। কোনো অপরাধী পুলিশ অফিসারের শাস্তি হয়নি। উল্টোদিকে মমতা ব্যানার্জীর সরকার সেই অপরাধী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে সি বি অাই-এর তদন্ত প্রক্রিয়াকে নানা অজুহাতে বাধা দিয়ে চলেছে। এমনকি তাদের কাউকে কাউকে প্রমোশন দিয়ে দল-দাস বানিয়েছে। প্রতি বছর অানুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে। জনগণকে স্তোক বাক্য দেয় কিন্তু বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে না। এভাবেই কাশীপুর-বরানগর গণহত্যার বিচারকে শেষপর্যন্ত হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সি পি অাই (এম এল) লিবারেশন এবং তার গণসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে প্রচার অান্দোলন সংগঠিত করবে। ২। অালু, টমাটো ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের দাম না পেয়ে কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে বারংবার স্মারকলিপি ও ডেপুটেশন দিলেও তাঁদের পক্ষ থেকে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ার ফলে বর্ধমান জেলায় দুজন কৃষক ঋণের দায়ে অাত্মহত্যা করেছেন। শাসকসুলভ দম্ভে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও কৃষিবিপণন মন্ত্রী দুজন কৃষকের অাত্মহত্যাকে নস্যাৎ করে বলেছেন ওরা অাত্মহত্যা করেছে ‘মাতাল’ হয়ে। অথচ কোনো মন্ত্রী বা অামলাই ওই বিপর্যস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যদের মুখ থেকে প্রকৃত তথ্য জানার বিন্দুমাত্র অাগ্রহ প্রকাশ করেননি। চার বছরে ‘কৃষক দরদী’ সরকার একটি মাত্র হিমঘর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। অার ব্লকে ব্লকে কিষাণমাণ্ডি ও হিমঘর তৈরির কথা উন্নয়নের বাকি গল্পের সঙ্গেই মিশে গেছে। ধানের দামও কৃষকরা পায়ননি। কুইন্ট্যাল প্রতি ১৩৫০ টাকা সহায়ক মূল্য ঘোষণা করা সত্ত্বেও কৃষকদের ৮৫০-৯০০ টাকার মধ্যেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।...

Read More