Biswayan, Leftfront, Salim Bitarka

কৃষক উচ্ছেদের ভয়াবহ ছবি : দক্ষিণবঙ্গ


জ্যোতি বসুর অামলে রাজারহাটে ৯,০০০ একর জমি দখল করে নিউটাউন উপনগরী করা হয়েছে। সেখানে কৃষক অাজও ক্ষতিপূরণ পায়নি। বর্ধমান-অাসানসোল, হলদিয়া, ব্যারাকপুর, দুর্গাপুর ও বারাসাতে ৭৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদি নদীর তীরে নন্দীগ্রাম থেকে খেজুরি পর্যন্ত বন্দর শিল্প গড়ার জন্য ২৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের সাগরদিখী ও বর্ধমানের কাটোয়ায় দুটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রায় ৩,০০০ একর জমি অধিগ্রহণ হবে। এর ফলে ১২,০০০ কৃষক জমি হারাতে বসেছে। নদীয়ার মায়াপুরে জমির সিলিং-এর সীমা ভেঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিদেশী সংস্থা অালফ্রেড ফাউন্ডেশনকে ৬০ একর জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অারও ৬০০ একর অালোচনায় অাছে। যা দেওয়া হবে অান্তর্জাতিক ধর্মকেন্দ্রের জন্য। বানতলায় নতুন চর্মনগরীর জন্য স্থানীয় মানুষকে উচ্ছেদ করে ৫৬৫.০৫ একর জমি দখল করা হয়েছে।


এই সমস্ত জায়গায় কৃষকদের উচ্ছেদের সময় কোথাও চাকরি এবং কোথাও ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছিল। রাজারহাটে উচ্ছেদপ্রাপ্ত মানুষের ভালো সংখ্যা অাজও ক্ষতিপূরণ পায়নি। তেমনি কোলাঘাট ও বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জমি নেওয়ার পর অাজও ৫০০০ চাষি কার্যত সম্পূর্ণ বেকার। কাজেই বিকল্পের কথা কোথাও তেমন কার্যকর হচ্ছে না। ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশিত এবং মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা দ্বারা ঘোষিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের জন্য প্রতি বছর ৫০ হাজার একর কৃষিজমি চলে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় অাড়াই লক্ষ একর কৃষিজমি অকৃষি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে।


১৯৯৫-৯৬ এবং ২০০১-এর মধ্যে প্রতিবছর ৫৮.৩২ একর কৃষিজমি অ-কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ৫ বছরের হিসাবে দেখা গেছে ২,৯১,৬২০ একর কৃষিজমি চলে গিয়েছে। তার ফলে ১৫ বছরে ২৪ লক্ষ চাষি ভূমিহীন ক্ষেতমজুরে পরিণত হয়েছে।