ভারতের কমিউনিস্ট বিপ্লবী ঐতিহ্য ও সিপিঅাই(এমএল) লিবারেশন

মুখবন্ধ


ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-র অাদি গঠনের (২২ এপ্রিল ১৯৬৯) বিপ্লবী ঐতিহ্য ও প্রকৃত উত্তরাধিকারকে (২৮ জুলাই ১৯৭৪, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন হওয়ার বিপ্লবী ধারাকে) নস্যাৎ করার বহু অপপ্রয়াস চলেছে। কিন্তু ইতিহাস এবং বাস্তব জীবন প্রমাণ করেছে এহেন অপপ্রয়াসগুলো অবশেষে কেবল ব্যর্থতারই পরিহাস প্রতিপন্ন হয়েছে। কেননা সুবিধাবাদ ও নৈরাজ্যবাদ কিছুতেই বিপ্লবী পার্টি-কেন্দ্র গঠনের পরম্পরা রক্ষা ও পুনর্গঠনে তথা প্রকৃত পার্টি ঐক্য ও গণবিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার জন্য সহায়ক হতে পারে না। তবে এই ভ্রান্ত ধারাগুলো নির্মল না হওয়া পর্যন্ত নানা সময়ে নানা রূপে পের চাগিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এহেন প্রতিটি অপপ্রয়াস অাসলে তাদের অস্তিত্বের সংকটকে জগাখিচুড়ি উপায়ে সামাল দেওয়ার প্রান্তিক প্রবণতায় ভাসমান। ফিলহাল এই ধরনের অাবার দুটি চেষ্টা শুরু হয়েছে। একদিকে নৈরাজ্যবাদী দুটি গোষ্ঠী ‘জনযুদ্ধ’ এবং এমসিসি মিলে তৈরি করেছে ‘সিপিঅাই(মাওবাদী)’, অন্যদিকে বিলোপবাদী-সুবিধাবাদী কানু সান্যাল গোষ্ঠী অারও কিছু সমগোত্রীয় ও বিভ্রান্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে বানিয়েছে এক নয়া ‘সিপিঅাই(এমএল)’। রকমফের এই গোষ্ঠীগুলোর বুনিয়াদী সাংগঠনিক অবস্থান গ্রহণে যে বিন্দুতে মতৈক্য অাছে সেটা হল ১৯৬৯-এর সিপিঅাই(এমএল) গঠনকে কোনো না কোনোভাবে অস্বীকার করা এবং পরিবর্তিত ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক পরিপ্রেক্ষিতে সিপিঅাই(এমএল)-এর প্রকৃত বিপ্লবী পরম্পরার বিপরীতগামী হওয়া। এমসিসি পন্থীরা সিপিঅাই(এমএল)-এর অাদি গঠনকালের সময় থেকেই বরাবর উগ্র বিরোধী। অার, ‘জনযুদ্ধ’ পন্থীরা এখন এমসিসি-র সাথে নয়া ‘মাওবাদী’ কেন্দ্রে সামিল হয়ে সিপিঅাই(এমএল) ঐতিহ্যের সাথে শেষ সম্পর্কটুকুও ছিন্ন করল। কানু সান্যাল সত্তর দশকে প্রথম বিপ্লবী অান্দোলন পর্বে ধাক্কা নেমে অাসার সময় থেকেই সিপিঅাই(এমএল) গঠন হওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা-মন্দ শুনিয়ে এসেছেন। প্রায় তিন দশক ধরে চারু মজুমদারের নেতৃত্বাধীন সিপিঅাই(এমএল)-এর উগ্র বিরোধিতার বিলোপবাদী ধারায় কানু সান্যাল এখন তথাকথিত এক নয়া ‘সিপিঅাই(এমএল)’-এর মধ্যমণি। কি বিচিত্র সব প্রহসনের প্রবণতা !


এই সমস্ত ভ্রান্ত ধারা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবী শ্রেণীশক্তি ও তরুণদের সজাগ-সচেতন করে তোলার দায়বদ্ধতা থেকে সিপিঅাই(এমএল) লিবারেশনের দ্বিতীয় পার্টি কংগ্রেস থেকে ষষ্ঠ পার্টি কংগ্রেস পর্যন্ত নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত কমরেড বিনোদ মিশ্রের দুটি লেখা — “অামাদের পার্টি গড়ে উঠল কিভাবে” এবং “সিপিঅাই(এমএল) লিবারেশন — ভারতীয় কমিউনিস্টদের বিপ্লবী ঐতিহ্যের সুদৃঢ় রক্ষক” একসাথে প্রকাশ করা হল। উদ্দেশ্য সফল হলে পুস্তিকাটি প্রকাশ করা সার্থক হবে।