জমি লুঠ, খনি লুঠ, খাদ্য লুঠ বন্ধ কর

কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প কাটছাট করা চলবে না

বিজেপি-অার এস এসের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ কর

এ অাই পি এফ-এর প্রতিষ্ঠা সম্মেলন সফল করুন

১৪-১৫ মার্চ ২০১৫

দিল্লী চলো : ১৬ মার্চ – গণসংসদ – অাম্বেদকর স্টেডিয়াম

প্রিয় বন্ধুগণ,

জিনিসপত্রের দাম কমানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা, দেশে কালো টাকা ফিরিয়ে অানা এবং দেশের জন্য সুদিন অানার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নরেন্দ্র মোদী ন-মাস অাগে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৪ শেষ হয়ে গেছে অার এখন ২০১৫। মোদী সরকার ঐ সমস্ত চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বলে কি অামরা দেখতে পাচ্ছি? এর উত্তর একেবারেই না।

সারা বিশ্বেই তেলের দাম কমছে, কিন্তু ভারতে অামরা এটা একেবারেই বুঝতে পারছি না। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অল্প কিছু কমলেও ভাড়া ও পরিবহন খরচ এবং তার সাথে প্রতিটি অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের দাম বেড়ে চলেছে। কালো টাকা পুনরুদ্ধারের কোনো চিহ্ন অামরা দেখতে পাচ্ছি না, বিপরীতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, কালো টাকা ফিরিয়ে অানার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি পরিবারের ১৫ লক্ষ টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল শূন্যগর্ভ নির্বাচনী বুলি।
সরকার সাধারণ মানুষকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো রূপায়িত না করলেও দেশী-বিদেশী বড় বড় কোম্পানিগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টার কোনো কসুর করছে না। কর্পোরেট স্বার্থে জমি গ্রাসকে ত্বরান্বিত করতে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খননের জন্য কয়লা এবং অন্যান্য খনিগুলো বেসরকারী ক্ষেত্রের কাছে খুলে দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদেশী বিনিয়োগ অানুকূল্য পাচ্ছে। অার ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় মোদী ভারতকে পারমাণবিক চুল্লি সরবরাহকারী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা থেকে কার্যত অব্যাহতি দিয়ে দিয়েছেন।

যোজনা কমিশনকে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচীগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রণালীবদ্ধভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে। মোদীর প্রথম বাজেটে এম এন অার ই জি এ-র বরাদ্দ অর্থকে হ্রাস করা হয়েছিল অার দ্বিতীয় বাজেটের অাগে সরকার খাদ্য নিরাপত্তার মোট পরিমাণকে ব্যাপকহারে ছাঁটাই করে ৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ করার কথা বলছে। সরকার একদিকে ভারতে এসে এখানকার সস্তা শ্রমকে শোষণ করার জন্য বিদেশী পুঁজিকে অামন্ত্রণ জানাচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রম অাইনগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে তোলা হচ্ছে যাতে ভারতীয় শ্রমিকরা মজুরি চুরি, নিরাপত্তাহীন কর্মস্থান এবং নির্মম কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে কোনো অাইনি রক্ষা কবচ না পায়।

সাধারণ মানুষের ওপর এই অর্থনৈতিক অাক্রমণের সাথেই চলছে সংঘ পরিবারের বিদ্বেষপরায়ণ সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা যার পিছনে মোদী সরকারের মদত রয়েছে। যে কোনো ছোটোখাটো স্থানীয় ঘটনাকেই অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, অার না হয় পুরোদস্তুর গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা উসকিয়ে তুলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অাক্রমণ হানা হচ্ছে। অার এস এস প্রধান ভারতবর্ষকে হিন্দুরাষ্ট্র বলে ঘোষণা করেছেন, অার বিজেপির সাংসদ, মন্ত্রী এবং তথাকথিত সাধু ও সাধ্বীরা হিন্দু নারীদের বলছেন চারটি বা তার বেশি বাচ্চার জন্ম দিতে। খোদ জাতীয় রাজধানীতেই গির্জাগুলোর ওপর ভাঙচুর চালানো হচ্ছে অার মোদী সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

মোদী সরকারের এই দুরভিসন্ধিমূলক জনবিরোধী অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় উপস্থিত। অার প্রতিরোধ সুনিশ্চিতভাবেই শুরু হয়ে গেছে। একের পর এক ক্ষেত্রে শ্রমিক এবং কর্মচারিরা সরকারের নীতিগুলোর বিরোধিতা করছেন, জমি গ্রাসের অর্ডিন্যান্সের বিরুদ্ধে কৃষকরা রুখে দাঁড়াচ্ছেন এবং গ্রামীণ দরিদ্ররা কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা এবং খাদ্য সুরক্ষার অধিকারের দাবি জানাচ্ছেন। অার দিল্লী বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে দিল্লীর জনগণ বিজেপিকে মোক্ষম জবাব দিয়েছেন, অাপ-এর পক্ষে নির্ধারক রায় দিয়ে দরিদ্র ও শ্রমজীবী জনগণ এবং দিল্লীর বঞ্চিত এলাকাগুলোর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পূরণের সুযোগ দিয়েছেন।

সাধারণ জনগণের ওপর মোদী সরকারের অাক্রমণ এবং সংঘ পরিবারের সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক এজেন্ডাকে প্রতিরোধ করা এবং সর্বাঙ্গীণ গণতন্ত্র, মর্যাদা ও ন্যায় অর্জনের জন্য ভারতীয় জনগণের লড়াইকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধারার বহুসংখ্যক গণতান্ত্রিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ মিলিত হয়ে একটি জাতীয় মঞ্চ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যে মঞ্চের নাম হবে সারা ভারত গণমঞ্চ (এ অাই পি এফ)। এ অাই পি এফ-এর প্রতিষ্ঠা সম্মেলন দিল্লীতে অামবেদকর ভবনে অনুষ্ঠিত হবে ১৪-১৫ মার্চ ২০১৫, অার তার পরই সংসদের কাছে এক বিশাল জনসংসদ অনুষ্ঠিত হবে যেখান থেকে জমি গ্রাসের অর্ডিন্যান্স এবং অন্যান্য জনবিরোধী পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা, জিনিসপত্রের দাম কমানো, দুর্নীতি দূর করা ও কালো টাকা ফিরিয়ে অানার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা এবং সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক শক্তিগুলোকে প্রতিহত করার দাবি সরকারের কাছে জানানো হবে।

এ অাই পি এফ-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ অাই পি এফ-এর প্রতিষ্ঠা সম্মেলন ও জনসংসদকে সার্বিকভাবে সফল করে তোলার জন্য সি পি অাই (এম এল) অাপনাদের সবার কাছে অাবেদন জানাচ্ছে।

জমি লুট এবং খাদ্য কেড়ে নেওয়া থেকে সরকারকে প্রতিহত করুন!

দুর্নীতি ও কর্পোরেট রাজ থেকে দেশকে রক্ষা করুন!

সংঘ বাহিনীর সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক এজেন্ডাকে প্রতিহত করুন!

ভারতীয় জনগণের গণতন্ত্র, মর্যাদা, ন্যায় ও কল্যাণের জন্য লড়াই করুন!

ধন্যবাদান্তে,

সি পি অাই (এম এল) লিবারেশন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি