COMMENTARY

Verdict 2009 and the Left: Key Issues and the Road Ahead

Five years ago, the 14th Lok Sabha had witnessed the largest ever presence of Left parliamentarians. Along with the defeat of the NDA, the arrival of the Left as a major player in national politics was a key message of

...Full Text

आपदा पीड़ीतों को संवेदना व्यक्त करने के साथ-साथ दूरगामी योजनाओं पर विचार करने की आवश्यकता

उत्तराखंड में मानसून, आपदा जैसे विस्फोट के साथ आया है. पहली बारिश में चमोली जिले के घाट और पिथौरागढ़ जिले के बस्तडी समेत कई क्षेत्रों में कई लोगों के बहने और जिन्दा दफ़न की दुखद खबरें दिन भर से प्राप्त हो रही हैं. लगभग 30 के करीब लोग अब तक बरसात का ग्रास बन चुके हैं.  यह बेहद दुखद है, जिनपर यह कहर टूटा, उनकी पीड़ा को कोई संवेदना, कोई मुआवजा नहीं भर सकता है. उनकी जीवन में ऐसी रिक्तता पैदा हो गयी है, जिसे भरा जाना बेहद मुश्किल है. बारिश द्वारा लील लिए जाने वालों के प्रति श्रद्धांजलि और उनके परिजन के प्रति हार्दिक संवेदना के अतिरिक्त अभी और दिया भी क्या जा सकता है-सो श्रद्धांजलि एवं संवेदना.

जिस समय आपदा का कहर टूटता है, उस समय कोई कुछ नहीं कर सकता. कोई सरकार नहीं, कोई प्रशासन नहीं. लेकिन उसके आगे-पीछे जरुर कदम उठाये जा सकते हैं, उठाये जाने चाहिए. यह स्पष्ट हो चुका है कि हमारे यहाँ बारिश तबाही ले कर ही आ रही है. हम बारिश पर काबू नहीं कर सकते. उससे उफनते नदी-नालों, गाड़-गदेरों पर भी काबू नहीं कर सकते. लेकिन हम अपनी आबादी के बड़े हिस्से को उनका ग्रास बनने के लिए भी नहीं छोड़ सकते. जिस समय बारिश का कहर टूटे, वह सोचने का समय नहीं है. सोचने का सही समय उससे पूर्व है. बारिश को होने से नहीं रोका जा सकता, लेकिन उससे होने वाले जान और माल के नुकसान को न्यूनतम करने के रास्ते तो निकालने ही होंगे. प्राकृतिक जल निकासी के अवरोध जितने कम किये जा सकेंगे, हम उतने आपदाओं के कम शिकार होंगे. गाड़-गदेरों से लेकर नदियों के मुहानों तक बसासत जितनी कम होगी, आपदा के शिकार भी हम उतना ही कम होंगे. मकान आदि बनाने की तकनीक पर भी विचार करने की जरुरत है. सीमेंट-कंक्रीट के बजाय ऐसी तकनीक और सामग्री के मकान जिनका बोझ जमीन पर कम-से-कम हों, जो पहाड़ की जमीन की भार वहन क्षमता (carrying capacity) के अनुरूप हों, वे भी आपदा की मार की तीव्रता को कुछ कम कर सकते हैं. विकास के नाम पर पहाड़ तोड़ने, पहाड़ खोदने और पहाड़ उजाड़ने को भी रोकना ही होगा. जिन क्षेत्रों/गाँवों नष्ट होने के कगार पर हैं, उन्हें तत्काल विस्थापित किया जाना चाहिए. हमारे यहाँ 90 के दशक से विस्थापन के लिए चिन्हित गाँव हैं, जो किसी भी क्षण आपदा का ग्रास बन सकते हैं. ऐसे बहुत सारे उपाय किये जाने की जरुरत है जो प्राकृतिक आपदाओं के कहर को न्यूनीकृत कर सके.

यह सब सिर्फ लोगों के चाहने मात्र से नहीं होगा बल्कि सरकार के स्तर पर ठोस नीति और दूरदृष्टि की, इस काम के लिए अत्याधिक आवश्यकता है. यही सबसे दुष्कर चीज है, जो हासिल की जानी है.   इन्द्रेश मैखुरी राज्य कमेटी सदस्य भाकपा(माले)

...Full Text

গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা সম্পর্কে রায়-এ সাম্প্রদায়িক হিংসায় অাক্রান্তদেরই দোষী সাব্যস্ত করা হল

২০০২ সালে গুজরাটে গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যায় এসঅাইটি-র বিশেষ অাদালতের সাম্প্রতিক রায়টি হল বিচারের এক বড় প্রহসন। এই রায় কেবলমাত্র গণহত্যার মূল মাথাগুলোকে বেকসুর খালাসই করেনি, গণহত্যার চক্রান্তকারীদের ছাড় দিয়ে অাক্রান্তদের দিক থেকে প্ররোচনা প্রদানকে দায়ী করা হয়েছে। ২০০২ সালে গুরজাটে হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম জঘন্য হত্যাকাণ্ড হল গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা। প্রকাশ্য দিবালোকে গুলবার্গ সোসাইটিতে অাগুন লাগানো হয়, ৬৯ জনকে খুন করা হয়। প্রাক্তন সাংসদ ইসান জাফরি ছিলেন অাক্রমণের লক্ষ্য। তাঁর হাত দুটি কেটে উলঙ্গ করে হাঁটানো হয়, তারপর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। জাফরির কয়েক শো প্রতিবেশী তাঁর কাছে অাশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে জাফরি মরিয়াভাবে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে যান। কিন্তু এ সমস্ত ফোনে কিছুই লাভ হয় না এবং পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা গুলবার্গ সোসাইটিতে এলেও খুনে দাঙ্গাকারীদের হঠিয়ে দিতে কোনো কিছুই করেনি। সোসাইটির বাইরে কয়েক ঘণ্টা ধরে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীরা যে জড়ো হয় সে সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রাথমিক সাক্ষ্যকে এই রায়ে উপেক্ষা করা হয়। পুলিশ কর্তারা যে ঘটনাস্থলে যায়, দাঙ্গাকারীদের দেখতে পায়, তা সত্ত্বেও দাঙ্গাকারীদের হঠিয়ে দিতে বাহিনীকে ডাকেনি -- এই অবিসংবাদী তথ্যকেও এই রায়ে অগ্রাহ্য করা হয়। বিপরীতে এই রায়ে ইসান জাফরি যে গুলি ছুঁড়েছে সে সম্পর্কে 'ইচ্ছাকৃত স্মৃতিবিলোপের' অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শীদের নিন্দা জানানো হয়। রায়ে বলা হয় যে উপস্থিত উচ্ছৃঙ্খল লোকেরা কেবল গাড়িই পোড়াতে চেয়েছিল এবং জাফরির গুলি চালনার পরই কেবলমাত্র এই লোকেরা খুন করতে শুরু করে। এ হল এক হতবুদ্ধিকর জঘন্য রায়। একই দিনে গুলবার্গ সোসাইটির কাছেই নারোদা পাটিয়ায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকারীরা মুসলিমদের হত্যা করে। সমস্ত গুজরাট জুড়েই বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের হত্যা করা হয়। স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক গুণ্ডারা মুসলিমদেরই হত্যা করতে চেয়েছিল, এমনকি যে সমস্ত স্থানে জাফরি বা গুলি চালনার মতো কেউ নেই সেখানেও তারা মুসলিমদের হত্যা করে। গুলবার্গ সোসাইটিতে সাম্প্রদায়িক হিংসাকে কীভাবে স্বতঃস্ফূর্ত বলা যায়, যেখানে জাফরির দ্বারা তথাকথিত গুলি চালনার অাগেই কয়েক ঘণ্টা ধরে সাম্প্রদায়িক গুণ্ডারা জড়ো হয়? এই গুণ্ডাদের হঠিয়ে দিতে পুলিশের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল – কিন্তু কেন তারা তা করেনি? এই প্রশ্নগুলোকেই অাদালত অগ্রাহ্য করতে চেয়েছিল। এই রায় খোলাখুলিভাবে অাক্রান্তদেরই দোষী সাব্যস্ত করে, দাঙ্গাকারীদের অাক্রমণ থেকে নিজেদের অাত্মরক্ষার জন্য কোনো অধিকারই তাদের দেয়নি। এই রায়ে নিরাপত্তার দায় অাক্রমণকারী ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর না দিয়ে অাক্রান্তদের অাচরণের ঘাড়েই চাপানো হয়েছে, অথচ এ ধরনের অাক্রমণকে রোখার দায়িত্ব পুলিশ-প্রশাসনেরই ছিল। অাশারাম বাপু যেমন এক সময় বলেছিল ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের ধর্ষিতা পাল্টা না রুখে দাঁড়িয়ে ধর্ষণকারীদের ভাই বলে অাহ্বান করে ধর্ষণ এড়াতে পারত, সেইভাবেই এই রায়ের অভিমত হল যে পুলিশ নয়, গুলবার্গে অাক্রান্তকারীরাই সাম্প্রদায়িক খুনেদের হিংসাকে এড়াতে পারত। এই ধরনের এক রায় ঘোষণা করে বিশেষ অাদালত মোদীর কথাই প্রতিধ্বনিত করল। মোদী ২০০২ সালে গুলবার্গ গণহত্যার জন্য জাফরির গুলি চালনাকেই দায়ী করেন এবং নিউটনের সূত্র এবং 'ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া'র তত্ত্বকে উল্লেখ করে কুখ্যাত হয়েছেন। বাথানিটোলা রায়েও পাটনা হাইকোর্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নাকচ করে দলিত হত্যায় অভিযুক্ত সকলকেই বেকসুর ঘোষণা করে। অাদালতের যুক্তি ছিল যে গণহত্যার অাগে দলিত গ্রামবাসীরা গুলি চালিয়েছিল। দাদরি হত্যাকাণ্ডেও অাক্রান্তকেই দায়ী করার একই ধরন দেখা যাচ্ছে। এখানে অাক্রান্ত অাখলাকই যে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য 'অপরাধী' তা প্রমাণ করার প্রচেষ্টা অাসলে এই হত্যার পিছনে যে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত রয়েছে তা অাড়াল করা এবং গরুর মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে 'স্বতঃস্ফূর্ত' ক্রোধ হিসাবে এই হত্যাকে যুক্তিযু্ক্ত করার চেষ্টা করা। এখন গুজরাট হত্যালীলার মাথারা, যারা এখন ভারত শাসন করছে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও হিংসাকে পুঁজি করে ভোট সংগ্রহ করার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। অাগামী উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে বিজেপি (বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্থানীয় বিজেপি সাংসদ হুকুম সিং সহ) গুজব ছড়াবার চেষ্টা চালাচ্ছে যে মুসলিমদের হুমকির মুখোমুখি হয়ে উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে কইরানা ও কাঁধালা থেকে হিন্দুরা পালাচ্ছে। তবে এটা উৎসাহজনক যে খোদ কইরানা ও কাঁধলার অধিবাসীরা বিজেপির এই প্রচারকে মিথ্যা অাখ্যায়িত করেছেন। ভারতবাসীকে এটা মেনে চলতে হচ্ছে যে গণহত্যার রাজনৈতিক মাথাদের রয়েছে সুরক্ষা কবচ, বড় জোর দু-চারটে বোড়ে স্থানীয় ব্যক্তি শাস্তি পেতে পারে। গুজরাট গণহত্যায় অভিযুক্ত অারএসএস এবং বিজেপির নেতাদের ও পুলিশের কর্তাদের অাজও বিচার হল না। একই কথা কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও সত্য, ১৯৮৪ সালের শিখ গণহত্যায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতাদেরও অাজও বিচার হয়নি। ১৯৮৪ সালের শিখ গণহত্যায় অভিযুক্ত কমল নাথকে পাঞ্জাবে পার্টি ইনচার্জ বানানোর জন্য কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত (যা অবশ্য প্রতিবাদ ওঠায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়) শিখদের ক্ষতে নুনের ছিটে দিয়েছে। ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে জাকিয়া জাফরি ও গুলবার্গ গণহত্যায় অন্যান্য জীবিতদের প্রচেষ্টা বহু বাধা বিপত্তির সম্মুখীন। সুপ্রীম কোর্টের তৈরি করা এসঅাইটি এই মামলা চাপা দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রেই লিপ্ত হয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মোদী ও অমিত শাহ এখন তিস্তা শীতলাবাদ ও যাঁরা ন্যায় বিচারের জন্য জীবিতদের লড়াইকে সমর্থন করছেন, সেই সমস্ত সমাজ কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন যদি উচ্চ অাদালত গুলবার্গ মামলায় বিচারের প্রহসনকে সংশোধন না করে তবে তা হবে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থারই লজ্জা। গুলবার্গ বিচার হল সেই ধরনের বিচার যা সাম্প্রদায়িক হিংসাত্মক অাক্রমণকারীদের 'প্ররোচনা' প্রদানের জন্য অাক্রান্তদেরই দোষী সাব্যস্ত করে ভারতবর্ষের সংবিধান ও গণতন্ত্রের মূল মর্মবস্তুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী সরকারের দ্বারা যে কুখ্যাত জরুরি অবস্থা জারি হয়, ২৫ জুন ২০১৬ হল তার বার্ষিকী। জরুরি অবস্থার বার্ষিকীর অনুষ্ঠান কেবলমাত্র কংগ্রেস সরকারের বা নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরাচারকে নিন্দা জানিয়েই শেষ হতে পারে না, বিপরীতে এটা অবশ্যই হল সাংবিধানিক স্বাধীনতার ধারাবাহিক ও বেপরোয়া লঙ্ঘনকে এবং দলিত, অাদিবাসী, সংখ্যালঘু ও মহিলাদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে এক সংকল্প অনুষ্ঠান।

...Full Text

Getting Away with Murder

The public lynching of Prof. Sabharwal by ABVP leaders during Students’ Union elections in an Ujjain college, caught on camera by TV channels, shocked the entire country. Three years later, it is even more shocking that all the accused have

...Full Text

End Corporate Control over Natural Resources

The Ambani brothers are currently fighting each other at the Supreme Court over the interpretation and implementation of a private MoU the two brothers had reportedly signed in 2005 when the Ambani empire was formally split into two. The dispute pertains

...Full Text

Delhi HC Verdict on Section 377

The landmark Delhi High Court verdict calling for revision of Section 377 IPC is not only a significant victory for the struggles of sexual minorities for their rights, it also enriches and broadens the understanding of equality, freedom and dignity in

...Full Text

G-8 Summit and Climate Change

The recently concluded G-8 summit, which was held in Italy, once more saw an intense debate on climate change and the need to reduce greenhouse gas emissions. On the positive side, this time around there was no attempt to question

...Full Text

Budget Reaffirms Neo-liberalism : Bonanza for the Classes, Rhetoric for the Masses

The Central Budget placed on 6th July has reaffirmed the policy direction of the UPA Government. Behind all the misleading rhetoric of aam aadmi, is an enduring commitment to pro-corporate liberalisation and privatisation. Speculative expectations of the liberalizers were rekindled

...Full Text

The UPA Budgets: Public Funding of Private Investment

All through the capitalist world, state intervention in economic affairs is back in a big way in the wake of the global economic meltdown. Almost all developed capitalist countries have gone in for major increases in public expenditure, stricter regulation

...Full Text

Of Congress Crassness and Maya’s Narcissism

Even as simmering disillusionment against the BSP regime has begun to surface in UP, Congress’ UP President Rita Bahuguna Joshi’ remarks, made in the context of the rise in rapes of dalit women, have generated political heat. As a result

...Full Text

নীতীশ বনাম নীতীশ ও টপারগেট দুর্নীতি : বিহারে ছাত্রদের উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের অাত্মপ্রতিষ্ঠার সময় সমুপস্থিত

পাটনার নামকরা কলেজ অফ অার্টস এ্যান্ড ক্রাফটসের উজ্জ্বল ছাত্র নীতীশ কুমারের অাত্মহত্যার চেষ্টা রোহিত ভেমুলা অাখ্যানের স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে। হায়দ্রাবাদে যা ঘটেছে এবং পাটনায় যা ঘটে চলেছে এই দুইয়ের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। রোহিতের মতো নীতীশও এক দলিত ছাত্র যাকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। অাবার রোহিতের মতো নীতীশও তার সহপাঠীদের ন্যায়বিচার লাভের জন্য লড়াইয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। অার্টস কলেজের ছাত্রদের মিথ্যা অভিযোগে শুধু সাসপেন্ড করাই হয়নি, গ্রেপ্তারও করা হয়েছে, নীতীশ ছাত্রদের ওপর এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। তবে এ দুইয়ের মধ্যে পরিহাসময় ফারাকটা হল – হায়দ্রাবাদে রোহিত ও তার সহপাঠীদের এমন একটা গাঁটছড়ার হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল যার শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এবিভিপি কর্মীদের ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এবং বিস্তৃত হয়েছিল কেন্দ্রের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যন্ত; অার পাটনায় এই গাঁটছড়া নীতীশ কুমার সরকারকে ধরেই সচল হয়েছে, যে সরকার নিজেকে সামাজিক ন্যায় ও সুশাসনের একনিষ্ঠ রূপকার বলে দাবি করে এবং মূলত সামাজিক ন্যায়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের প্রচারকে ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে বিপুল জয় হাসিল করেছিল। পাটনার অার্টস এ্যান্ড ক্রাফটসে নীতীশ ও তার বন্ধুরা কলেজের প্রিন্সিপাল চন্দ্রভূষণ শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে; এই প্রিন্সিপাল ২০১২-র অক্টোবর থেকে 'অস্থায়ী' পরিবর্ত হিসাবে তার সময়কালে ন্যক্কারজনক জাতপাতবাদী এবং যৌন অাসক্তিময় অাচরণের জন্য ছাত্রদের মধ্যে প্রবল কুখ্যাতি অর্জন করেছেন; এই কুখ্যাতি অর্জনের অারও কারণ হল স্বৈরাচারী অাচরণের মধ্যে দিয়ে এমন এক কলেজ পরিচালনা করা যা 'অংশগ্রহণমূলক এবং সৃষ্টিশীল পরিমণ্ডল'-এর কথা বলে। প্রিন্সিপালের অপসারণের এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ১৩০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর স্বাক্ষর করা একটি অাবেদনপত্র জমা পড়েছে উপাচার্য এবং তার সাথে মুখ্যমন্ত্রী, নারী কমিশনের চেয়ারপার্সন, এসসি/এসটি কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনের কাছে। কলেজের জঘন্য পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য যে সমস্ত ছাত্রকে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে, সেই অাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ছাত্ররা এপ্রিলের শেষদিক থেকে অান্দোলন করে অাসছে। ছাত্ররা জোরের সাথে বলছে -- তাদের সমস্ত অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি তাঁর পদে থেকে যেতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার জন্য। পুনের এফটিঅাইঅাই-এর চেয়ারম্যান পদে গজেন্দ্র চৌহানের নিয়োগ এবং ভারতের সেন্সর বোর্ডের প্রাধন হিসাবে পহলাজ নিহালনির নিয়োগ সারা দেশের সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে প্রবল ধাক্কা হয়েই দেখা দেয়। এই নিয়োগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুধু গৈরিক নাশকতার চক্রান্ত থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার গণতান্ত্রিক তাগিদ থেকেই উৎসারিত হয়নি, এই নিয়োগগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি প্রকাশিত ধৃষ্টতাময় অবজ্ঞা সৃষ্ট প্রতিঘাত ঐ প্রতিবাদের পিছনে অারও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। শাসক দলের প্রতি অানুগত্য বা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই যদি সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হয়ে ওঠে, তবে তা সৃজনী স্বাধীনতা এবং উৎকর্ষের মৃত্যুঘণ্টাই বাজিয়ে দেয়। পাটনা অার্টস কলেজের ব্যাপারটাও কম মর্মঘাতী নয়। প্রিন্সিপাল যখন অাতঙ্ক ও স্বৈরাচারের পরিমণ্ডলে লজ্জাকর জাতপাতবাদী অারচণ এবং যৌন অাসক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে একটি সৃজনধর্মী প্রতিষ্ঠানকে শাসন করেন, তখন তা সৃজনশীল মানুষের শালীনতাবোধের প্রতি অাঘাত এবং ছাত্রদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর অাক্রমণ হয়েই দেখা দেয়। এবং এই ধরনের এক ব্যক্তি যদি ছাত্রদের বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও উচ্চতর কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা ও মদত পেয়ে চলেন তবে তা ক্ষমতার ঔদ্ধত্য ও তার অপব্যবহারের একটি প্রশ্নহীন দৃষ্টান্তই হয়ে ওঠে, গণতন্ত্রপ্রেমী প্রতিটি মানুষকেই যার বিরোধিতা করতে হবে। অার্টস কলেজ উপাখ্যান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা বিহারের শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীরতর ও ক্রমবর্ধমান পচনের প্রতীক হয়েই দেখা দিচ্ছে। 'সর্বোচ্চ স্থানাধিকারীদের কেলেঙ্কারি' অার একটি অালোড়নময় লজ্জাকর দৃষ্টান্ত। মোদীর তথাকথিত 'সমগ্র রাষ্ট্র বিজ্ঞানে' ডিগ্রি হাসির রোল তুলতে পারে, কিন্তু এবারের বোর্ডের বারো ক্লাসের পরীক্ষায় অার্টস বিভাগে প্রথম স্থানাধিকারী যখন বলে যে, রাষ্ট্র বিজ্ঞান থেকে সে 'রন্ধন নৈপুণ্য' শিখেছে তখন তাতে বিহারে লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখ কপালে উঠেছিল। বিহার স্কুল পরীক্ষা বোর্ডের প্রধান লালকেশ্বর প্রসাদ সিং -- যিনি নীতীশ কুমার অনুগত বলেই সুবিদিত – তদন্তের মুখোমুখি হওয়াকে এড়াতে পদত্যাগ করে ফেরার হয়েছেন। তার স্ত্রী, যিনি নালন্দা জেলার হিলসা কেন্দ্রের প্রাক্তন জেডিইউ বিধায়ক, নির্বাচনী হলফনামায় এমন ডিগ্রিধারী বলে নিজেকে দাবি করেছেন যা সন্দেহজনক। টপার দুর্নীতির চাঁই বাচ্চা রাইকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জেডিইউ, অারজেডি এবং বিজেপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার দহরম মহরম নিয়ে বিহারের সংবাদপত্রগুলোতে শিরোনাম হচ্ছে। ইনি তাঁর বাবার নামে নামকরণ করা বৈশালীর বিষুণরাই কলেড চালান এবং জালি উচ্চ স্থানাধিকারীদের জন্ম দেন। যথাযথভাবে তদন্ত হলে টপার দুর্নীতি বিহারে মধ্যপ্রদেশের ভ্যাপম দুর্নীতির সমতুল্য হয়ে দেখা দিতে পারে। ২০০৫ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নীতীশ কুমার মুচকুন্দ দুবে কমিশন গঠন করেন, যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। কিন্তু এখন প্রকাশিত ঘটনা দেখাচ্ছে যে, ঐ কমিটির সুপারিশ করা অভিন্ন বিদ্যালয় ব্যবস্থাকে যেমন বিস্মৃতির অতলে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তেমনই উচ্চস্তরের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনিক মদতের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রণালীবদ্ধ বিপর্যয় চলতে থাকে। এই অবক্ষয়ের পিছনে কারণকে খুঁজে বার করতে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। বিহার ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ছাত্র অান্দোলনের এক ধাত্রীভূমি হয়ে থেকেছে। নীতীশ কুমার ও লালু প্রসাদের মতো ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক উত্থান ১৯৭৪-এর ছাত্র অান্দোলন থেকেই হয়েছিল। ১৯৭০-এর দশক ও পরবর্তী প্রজন্মের ৠাডিক্যাল ছাত্র অান্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। চন্দ্রশেখর থেকে শুরু করে অাজকের প্রজন্মের কানহাইয়া কুমার, অাশুতোষ ও চিন্টু, বিহারের এই ছাত্র অান্দোলনের কর্মীরা জেএনইউ এবং দেশের অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে প্রগতিবাদী ছাত্র অালোচনাধারাকে গড়ে তুলতে নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেছেন। অাজ যখন পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অান্দোলনের কর্মীদের সন্ত্রাসবাদী বলে ছাপ মেরে সমস্ত ধরনের শাস্তি ও নিগ্রহের শিকার করে তোলা হচ্ছে, তখন বিহারে প্রগতিশীল ছাত্র অান্দোলনকে পুনরায় অাত্মপ্রতিষ্ঠা করতে হবে, নীতীশ এবং পাটনা অার্টস কলেজ ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য লড়াকু ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং শিক্ষা ও কাজ এই দুই ক্ষেত্রে বিহারের যুবকদের সঙ্গে যে তামাশা ও বিশ্বাসঘাতকতা চলছে তার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।

...Full Text

গুলবার্গ সোস্যাইটি গণহত্যা ন্যায়বিচার বঞ্চিত হল

গুলবার্গ সোস্যাইটি গণহত্যায় আহমেদাবাদ বিশেষ আদালতের রায়ে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ৩৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে এবং “প্রমাণের অভাবে” ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে বাতিল করা হয়েছে। ঐ রায় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচারের অনুগামী হয়নি। গুলবার্গ সোস্যাইটি গণহত্যা ছিল ২০০২-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা হত্যালীলার পরপরই অবাধে চালিত ব্যাপক তাণ্ডবলীলায় সংঘটিত এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। ওই রায়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদের কয়েকজন নেতাকে অভিযুক্ত করা হলেও অভিযুক্ত এক বিজেপি কাউন্সিলার এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর কে কে এরডাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। উন্মত্ত জনতা ২০০২-এর ২৮ ফেব্রুয়ারী গুলবার্গ সোস্যাইটিতে প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরি সহ ৬৯ জনকে হত্যা করে এবং অনেকে নিখোঁজ হয়ে যায় যাদের পরে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়। যারা হত্যাকারীদের হাত থেকে বেঁচে যায় তারা ঐ গণহত্যায় পুলিশ ও প্রশাসনের মদত ছিল বলে অভিযোগ করে। দাঙ্গার ঘটনাগুলোর তদন্তে সুপ্রীম কোর্ট নিয়োজিত বিশেষ তদন্তকারী দল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে এড়িয়ে যায় যে প্রশ্নগুলো নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন পুলিশ, প্রশাসন ও সরকারের সচেতনভাবে কর্তব্যে অবহেলা উন্মোচিত করতে পারত। ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ বাতিল করাকে উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর অনেক কারণই রয়েছে। প্রথমত, নারোদা পাটিয়া গণহত্যায় উল্লেখযোগ্য রায়ে --- যে গণহত্যা গুলবার্গ সোস্যাইটির মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে সংঘটিত হয় --- এটা সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, মূল অপরাধী বাবু বজরঙ্গি এবং মন্ত্রী মায়া কোদনানি ছিলেন এক ষড়যন্ত্রের চাঁই। ফোন কলের রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, বজরঙ্গি এবং গুলবার্গ সোস্যাইটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত বিশ্বহিন্দু পরিষদ নেতা অতুল বৈদ্য পরস্পরের সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন; ফোন রেকর্ড থেকে এটাও যানা গেছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঐ গণহত্যার আগের দিন, ২৭ ফেব্রুয়ারী গুলবার্গ সোস্যাইটির আশেপাশেই ছিলেন। আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসাররা গুলবার্গ সোস্যাইটির গণহত্যা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না বলে যে দাবি করেছেন, ফোন রেকর্ড তাকেও মিথ্যা বলে প্রমাণিত করেছে। ফোন কলের রেকর্ড দেখিয়েছে যে, উচ্চপদের পুলিশ অফিসাররা গুলবার্গ সোস্যাইটিতে গিয়েছিলেন, উন্মত্ত জনতার এক বড় দল যে হিংসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে সম্পর্কে অবহিত ছিলেন, জনতাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও পুলিশ বাহিনী মোতায়নের নির্দেশ না দিয়েই তারা সেখান থেকে চলে যান। সাক্ষীরা তাদের সাক্ষ্যে বলেছেন, এহসান জাফরি সাহায্যের জন্য পুলিশ এবং ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এল কে আদবানি এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ সর্বোচ্চ স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে শতাধিক ফোন করেন, কিন্তু কেউই সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। সরকার এবং পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঘুরিয়ে রেখে উন্মত্ত জনতাকে মহিলাদের ধর্ষণ, এহসান জাফরির নৃশংস হত্যা সহ ৬৯ জনের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেয়। ২০০২-এর তাণ্ডবলীলায় রাষ্ট্রের যোগসাজশের সবচেয়ে ঘৃণ্য নিদর্শন হল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীর আচরণ, যিনি আজ প্রধানমন্ত্রী। নারোদ পাটিয়া এবং গুলবার্গ সোস্যাইটির ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড শেষ হওয়ার পর ২০০২-এর ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় মোদী দূরদর্শনে একটি বক্তৃতা দেন, কিন্তু সেই বক্তৃতায় তিনি শুধু গোধরা হত্যাকাণ্ডেরই উল্লেখ করেন এবং ঐ দুই গণহত্যা সম্পর্কে নীরব থাকেন। বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে তিনি দাবি করেন যে, কেবলমাত্র সেদিন অনেক রাতেই তাকে ঐ গণহত্যাগুলো সম্পর্কে জানানো হয়। বড় বড় পুলিশ অফিসাররা যদি প্রকাশ্য দিবালোকে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নিজেদের এবং মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করতে না পারেন তবে ঐ অফিসারদের শাস্তি দেওয়া হল না কেন? এর পরিবর্তে তাদের পদোন্নোতি ঘটানো হল কেন? এর পরদিনই ২০০২-এর ১ মার্চ মোদী একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন এবং তাতে গুলবার্গ সোস্যাইটি গণহত্যা এবং বস্তুত সমস্ত দাঙ্গাকেই ‘ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার শৃঙ্খল’-এর যুক্তিতে সমর্থন করেন। মোদী দাবি করেন, জনতার দিকে জাফরির গুলি ছোঁড়ার ক্রিয়াই গণহত্যার ‘প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি করে। এর থেকে যে প্রশ্নটা উঠে আসে তা হল — পুলিশ এবং সরকার যদি আতঙ্কগ্রস্ত জাফরির আবেদনে সাড়া দিত তাহলে কি খুনে জনতার হাত থেকে গুলবার্গ সোস্যাইটিকে রক্ষা করতে তাকে শুধুই নিজের বন্দুকের উপর নির্ভর করতে হত? গুলবার্গ মামলায় পুলিশ যে চার্জশিট দেয় তাতেও প্রথমে এই দাবিই করা হয় যে জাফরির উন্মত্ত জনতার উপর গুলি চালানোর জন্যই ঐ হিংসাকান্ড ঘটেছিল। পুলিশ অফিসার রাহুল শর্মা যিনি বলেন যে, এই চার্জশিট এফ আই আর-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না, তাকে বদলি করা হয় এবং তারপর থেকে তাকে নিগ্রহ ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আজও তার ক্ষমতা ব্যবহার করে তিস্তা শিতলওয়াড় (যার নিরলস প্রচেষ্টার জন্যই নারোদ পাটিয়া মামলার রায় এবং গুলবার্গ মামলায় আংশিক ন্যায়বিচার লাভ সম্ভব হয়েছে) এবং ইন্দিরা জয়সিং-এর মতো (যিনি মোদী এবং তার ডান হাত অমিত শাহর মোকাবিলায় রত হয়েছেন) ন্যায়বিচার যোদ্ধাদের হেনস্থা ঘটাচ্ছেন ও লাঞ্ছনার শিকার করে তুলছেন। সাংবাদিক রানা আয়ুব গুজরাট ফাইলস নামে সম্প্রতি একটি বই প্রকাশ করেছেন, যাতে স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথপোকথন বিশদে বর্ণিত হয়েছে। এই বইও ২০০২-এর তাণ্ডবলীলায় রাষ্ট্রের মদতকে প্রমাণ করছে। ঐ কথপোকথনগুলোতে তাণ্ডবলীলা চলার সময়কার স্বরাষ্ট্রসচিব অশোক নারায়ণকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, মোদী দাঙ্গায় বিশ্বহিন্দু পরিষদকে সমর্থনের জন্য তার পছন্দের ও বিশ্বস্ত পুলিশ অফিসারদের মৌখিক নির্দেশ দিতেন এবং মোদী তা করতেন ‘হিন্দু ভোট’-এর জন্য। কথপোকথনে তাণ্ডব চলার সময়কার আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার পি সি পাণ্ডেকেও সাম্প্রদায়িক হিংসার সমর্থন করতে শোনা গেছে, কেননা তার কথা অনুযায়ী আগের দাঙ্গাগুলোতে মুসলিমরাই কর্তৃত্ব করত আর তারই প্রতিশোধ হল এই দাঙ্গা। কংগ্রেসের মদতে চালিত ১৯৮৪-র শিখ-বিরোধী গণহত্যাই হোক বা মোদীর নেতৃত্বাধীন গুজরাট সরকারের মদতে সংঘটিত ২০০২-এর গুজরাট গণহত্যাই হোক, উভয় ক্ষেত্রেই তদন্ত কমিশন এবং আদালত দাঙ্গার শিকার এবং দাঙ্গায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক চাঁইদের গায়ে আঁচড় লাগেনি; গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে; খুব বেশি হলে কিছু চুনোপুঁটিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০২-এর গণহত্যার চাঁইরা এখন কেন্দ্রের ক্ষমতায় এবং ন্যায়বিচার বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু জাকিয়া জাফরিসহ দাঙ্গায় বেঁচে যাওয়া অকুতভয় মানুষরা এবং অন্যান্য ন্যায়বিচার যোদ্ধারা কিন্তু লড়াইটা ছাড়বেন না। তাদের এই লড়াইয়ের পাশে ভারতের সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকেই সমাবেশিত হতে হবে।

...Full Text