COMMENTARY

জরুরি অবস্থার একাল-সেকাল — প্রতিরোধ জরুরি

একজন খ্যাতনামা সমাজতত্ত্ববিদ একটি নিবন্ধে লিখেছিলেন, ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত “মৌলিক অধিকারগুলো” (ফান্ডামেন্টাল রাইটস) বস্তুত “হ্যাঁ-সূচক” (পজিটিভ) নয়, বরং বলা ভালো “নেগেটিভ” (না-সূচক)। কথাটা বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে ভেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, সংবিধানের “মুখবন্ধে” (প্রিঅ্যাম্বল) সাম্যের অধিকার (রাইট টু ইকোয়ালিটি)-র কথা বলা হয়েছে তা কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে, প্রতিষ্ঠা না পেলে কাকে দায়ী করা হবে, তার শাস্তির কি ব্যবস্থা হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। এটা কি মৌলিক অধিকার? নাকি প্রসাধনী অধিকার? একই কথা প্রযোজ্য “রাইটস টু ফ্রিডম” (স্বাধীনতার অধিকার)-এ উল্লেখিত ৮টি অধিকার সম্পর্কেও। সংবিধানের ১৪ থেকে ৩০ এবং ৩২ নং ধারায় উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলোও একইভাবে না-সূচক। সংবিধানের ১৯নং ধারায় উল্লেখিত “সমাবেশিত হওয়ার স্বাধীনতা”, ঐ ধারারই ১৯(৩) ধারায় নিয়ন্ত্রণ বা কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। এমনকি “রাইট টু লাইভ ও লাইভলিহুড” (বেঁচে থাকা ও জীবনধারণের) মতো চূড়ান্ত বুনিয়াদী ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে এই “সংবিধানে” ! সাধারণ সময়ে অনালোচিত বা কম চর্চিত এই প্রশ্নগুলোই মূর্ত হয়ে উঠেছিল “অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা”র দিনগুলোতে। “জরুরি অবস্থা”র দিনগুলো নিয়ে তদন্তের জন্য গঠিত “শাহ কমিশনে” এসব প্রশ্নই ছিল মূল বিবেচ্য। ভারতে তিন তিন বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল – ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের সময় – এক্সটার্নাল এমারজেন্সি (বৈদেশিক জরুরি অবস্থা)। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ও এক্সটার্নাল জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫২নং ধারায় “অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা”, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা এবং রাজ্য স্তরে জরুরি অবস্থা (ধারা ৩৫৬, যা রাষ্ট্রপতির শাসন বলে পরিচিত) জারি করার সুযোগ করে দেওয়া অাছে। যে “নীরব প্রতিবিপ্লব” ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন মধ্যরাতে সংঘটিত হল, তার সূত্রপাত মোটেই নীরব ছিল না। ৬০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকেই যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে দেশ জর্জরিত হচ্ছিল তা থেকে বেরিয়ে অাসার জন্য শাসকশ্রেণী ও তাদের বিশ্বস্ত প্রতিনিধি কংগ্রেস দল কোনো গণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে রাজি ছিল না। কংগ্রেস দলের শ্রেণীচরিত্র তাকে স্বৈরাচারী পথেই যেতে বাধ্য করল। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তার মিশ্র অর্থনীতি বিপর্যস্ত। খাদ্য সংকট চরমে। টাকার অবমূল্যায়ন করেও বৈদেশিক বাণিজ্যে কোনো লক্ষ্যণীয় উন্নতি নেই। শাসক দলের অভ্যন্তরে চরম গোষ্ঠীকোন্দল, পরিণতিতে বড় ধরনের বিভাজন। ৫০-এর দশকে কংগ্রেস দলের রীতি ও কাঠামোয় যতটুকু লিবারেল ডেমোক্রেসির অস্তিত্ব ছিল, ৬০-এর দশকের শেষপর্বে সেটুকুও উধাও হয়ে গেল। রাজ্যে রাজ্যে জনবিচ্ছিন্ন বশংবদ অাঞ্চলিক নেতার হাতে ক্ষমতার রাশ অার কেন্দ্রীয় স্তরে তথাকথিত হাইকম্যান্ডের নামে এক দুষ্টচক্র ক্ষমতাকে করায়ত্ত করল। সংকট সমাধানে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার বা ভূমি বণ্টনের গণতান্ত্রিক পথে হাঁটার বদলে শুরু হল পুঁজির কেন্দ্রীভবন-ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের মনভোলানো শ্লোগানের অাড়ালে ব্যাঙ্কগুলোকে করা হল কর্পোরেটের সেবাদাস। কর্পোরেট বসদের ঐ সমস্ত 'জাতীয়' ব্যাঙ্কের মাথায় বসানো হল। নন পারফর্মিং এ্যাসেট-এর যে রমরমা অাজ চোখের সামনে চলে এসেছে, তার সূত্রপাত ঐ সময়েই। ভূমিসংস্কার, অভ্যন্তরীণ মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য সংকটের সমাধান করার বদলে বিদেশী পুঁজি-প্রযুক্তি, বীজ-সার-কীটনাশক কাজে লাগিয়ে তথাকথিত সবুজ বিপ্লব অামদানি খাদ্য সংকটের সাময়িক কিছু সুরাহা করলেও চিরস্থায়ী সর্বনাশের পথ তৈরি করল। দেশের মধ্যে নেমে এল স্বৈরাচারী হামলা। অামাদের এরাজ্যে কৃষকের বিদ্রোহ ও বিস্ফোরণকে স্তব্ধ করার জন্য চলল রাষ্ট্রের হামলা। বিপ্লবী অভ্যুত্থান মুখোমুখি হল হিংস্র প্রতিবিপ্লবের। শাসক দলের অভ্যন্তরে যেমন ভাঙন ঘটলো, ক্ষমতা কুক্ষিগত হল একটি দুষ্ট চক্রের হাতে, বাম অান্দোলনেও এল বিভ্রান্তি ও বিকৃতি। 'ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ সমাজতন্ত্রের পথে এক ধাপ অগ্রগতি' এই অাজগুবি শ্লোগান তুলে বাম অান্দোলনের একটা অংশ সরাসরি স্বৈরাচারের পক্ষ নিল। মধ্যপন্থায় বিশ্বাসী অন্য একটি অংশ পরিস্থিতি যাচাইয়ের নামে নিষ্ক্রিয় হল। স্বৈরাচারকে মুখোমুখি প্রতিহত করার বদলে বুর্জোয়াদের মধ্যে বন্ধু খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। পরিস্থিতির এই সুযোগে স্বৈরাচার তার অাগ্রাসী হামলা নামিয়ে দিল। ১৯৭৫-এর ২৫ জুন মধ্যরাতে রবার-স্ট্যাম্প রাষ্ট্রপতি সংবিধানকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে গণতন্ত্র হত্যার কালা ফতোয়ায় স্বাক্ষর করলেন। অথচ সংবিধানের ৩৫২ ধারায় পরিষ্কার লেখা অাছে যুদ্ধ, বহিঃশত্রুর অাগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র বিদ্রোহ (অার্মড রিবেলিয়ন)-এর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। ১৯৭৫ সালে উপরোক্ত কোনো পরিস্থিতিই বিরাজ করছিল না। ২১ মাস দীর্ঘ (২৫ জুন, ১৯৭৫ থেকে ২১ মার্চ ১৯৭৭) এই জরুরি অবস্থার বাড়াবাড়ি ও স্বৈরাচার নিয়ে তদন্ত করার জন্য সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত শাহ কমিশনের তিনটি রিপোর্টের কোথাও নেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা কবে, কখন, কোথায়, কোন অধিবেশনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার এক দুষ্টচক্র (ইন্দিরা-সিদ্ধার্থ-প্রণব মুখার্জী), সংবিধান বহির্ভূত ক্ষমতার কেন্দ্র সঞ্জয় গান্ধী, দেবকান্ত বরুয়া (কংগ্রেসের সভাপতি), রজনী প্যাটেল (মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি) ইত্যাদিরা দেশজুড়ে সন্ত্রাস-উচ্ছেদ (তুর্কমান গেটে বস্তি উচ্ছেদ স্মরণ করুন), নাসবন্দি, গ্রেপ্তার (মিসা, ভারত রক্ষা অাইন) হত্যা-গণহত্যার ধ্বংসলীলা চালাল। কিন্তু স্বৈরাচার শেষ কথা বলে না। ২১ মাস সংবিধান-বহির্ভূত ক্ষমতার চক্র যে ক্ষমতার অপব্যবহার করল, তা গণরায়ে পরাজিত হল ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে। অথচ কি অশ্চর্য! এই স্বৈরাচারের বিচারের দাবি দিনের পর দিন অবহেলিত থাকার পর ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে দুটি অাদালত গঠন করা হল। কোনো রকমের সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলেন ইন্দিরা গান্ধী। প্রণব মুখার্জীর কথা অাজও মনে পড়ে, ‘‘মন্ত্রগুপ্তির শপথ নিয়েছি, তাই কোনো কথা বলব না”। বিচারপর্বে প্রশ্ন উঠল, “বেঁচে থাকা ও জীবনধারণে ”র মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে কি শাস্তি প্রযোজ্য? তৎকালীন এ্যাটর্নি জেনারেল জানাচ্ছেন, ‘‘সরকার যদি অাদালতের নির্দেশ কার্যকরী না করে, তবে কী করণীয় অাছে”। সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলো এভাবেই বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে। ঘোষিত 'জরুরি অবস্থা'র ইতিহাস কি বর্তমানের জন্য কোনো শিক্ষা বহন করে? অতীত যদি বর্তমানের সেবা করে ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশিকায় সাহায্য করে, তবে নিশ্চিত বলতে হবে স্বৈরাচার ভারতে নতুন রূপে ও নতুন চরিত্রে অাবির্ভূত হচ্ছে। নয়া অর্থনীতি ও শিল্পনীতির পৃষ্ঠভূমে জন্ম নিচ্ছে কর্পোরেট সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদ। জল-জমি-জঙ্গল-প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ লুঠ চলছে। যে অাদিবাসী-ভূমিজ জনগণ এই লুঠের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করছেন, তারা হচ্ছেন দেশের 'এক নম্বর শত্রু'। বস্তার থেকে গাড়চিরোলি, জঙ্গলমহল থেকে গিরিডি-লোহারদাগা – সর্বত্রই এক ছবি। শত্রুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সংখ্যালঘু জনগণ। সামন্ততান্ত্রিক পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নারীরা হচ্ছেন 'বেহায়া'। বেয়নেট ও বুলডোজারের মাধ্যমে জমিগ্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কৃষকরা হচ্ছেন 'উন্নয়ন

...Full Text

The Left and the Ambedkarite Movements Need Dialogue and Unity

(This letter by AISA leader Chintu Kumari was in response to an open letter to her by Chinmay Mahanand, leader of the Birsa Ambedkar Phule Students Association (BAPSA). We reproduce it here in full, in the context of the Utho

...Full Text

Blaming Victims of Communal Violence

The recent verdict of a special SIT Court in the Gulberg society massacre case of Gujarat 2002 is a massive travesty of justice. It has not only acquitted several key masterminds of the massacre, it has shamefully blamed the massacre on

...Full Text

The Crisis of the CPI(M) And the Struggle Against Opportunism

The debacle of the CPI(M) in West Bengal Assembly elections has given rise to a sharp debate within the Left movement, and for once, within the CPI(M) itself. The post-election meeting of the CPI(M) PB had mildly

...Full Text

মোদী সরকারের দু-বছর : ‘উন্নয়নের’ মরীচিকা সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের অভিমুখে ‘বদল’

নরেন্দ্র মোদীর অতিমানবের ভাবমূর্তি নির্মাণে এবং তার হাতে ‘উন্নয়নের’ জাদুদন্ড থাকার আষাঢ়ে গল্প ছড়াতে প্রচার মাধ্যম কোমর বেঁধে নামে এবং এর উপর ভিত্তি করেই মোদী ক্ষমতায় আসেন। দু-বছর ক্ষমতায় থাকার পর লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থতা এবং হিন্দু রাষ্ট্রের অভিমুখে সর্বনাশা পদক্ষেপগুলো গ্রহণের বাস্তবতাকে আড়াল করতে মোদী সরকার কর্পোরেট অর্থে চালিত প্রতারণা সৃষ্টি এবং বিজ্ঞাপনের সেই আগের কৌশলের আশ্রয়ই আবার নিচ্ছেন। ২০১৪-র নির্বাচনী প্রচারে মোদী মূল্যস্ফীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে এবং ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। মোদী আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন – প্রতি বছর দু-কোটি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বস্তুত, ২০০৯-এর পর থেকে ভারতে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি সবচেয়ে কম হয়েছে এবং ৮টি শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ২০,০০০ কমে গেছে। এমএনআরইজি-তেও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হ্রাস হয়েছে এবং সুপ্রীম কোর্টের হস্তক্ষেপের পরই এই খাতে টাকা মেটানো হয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে দেয় অর্থের ৫৫ শতাংশ ছাঁটাই করায় মঞ্জুরি কমিশন এক নতুন নীতি ঘোষণা করেছে যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদে ব্যাপক ছাঁটাই হবে এবং বর্তমান শিক্ষকদের কাজের বোঝা বাড়বে। এতে শুধু তরুণ স্কলারদের চাকরির সম্ভাবনাই মার খাবে না, তা দেশের উচ্চ শিক্ষার মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলবে। কৃষক আত্মহত্যা অব্যাহত রয়েছে। কৃষি সঙ্কট, কৃষকদের দুর্দশা এবং তীব্র খরা পরিস্থিতির লাঘবে মোদী সরকার যখন কিছুই করছে না, তখন সরকারের মন্ত্রীরা এবং বিজেপি নেতৃবৃন্দ নিজেদের মধ্যে এমন সমস্ত মন্তব্যের প্রতিযোগিতা চালাচ্ছেন যা কৃষকদের অপমানিত ও হেয় করে তুলছে। কর্পোরেটদের দ্বারা উপজাতিদের জমি-গ্রাসকে সহজসাধ্য করে তুলতে বন অধিকার আইনগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে তোলা হয়েছে। বিজেপি সভাপতি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, দেশে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার মোদীর প্রতিশ্রুতি ছিল শূন্যগর্ভ বুলি। বস্তুত, মোদী সরকারকে ‘শূন্যগর্ভ বুলির সরকার’ বলে বলা যেতে পারে। ঢাকঢোল বাজিয়ে শুরু করা ‘জন ধন যোজনা’ বলতে গেলে সচলই হয়নি, কেননা ২৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কে জমার পরিমাণ শূন্য এবং ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির দুটি করে অ্যাকাউন্ট দেখা গেছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প তেমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি; কিন্তু ‘ব্যবসায়ী উদ্যোগকে অনায়াস করে তোলার’ নামে শ্রম ও পরিবেশ আইনকে ধ্বংস ও দুর্বল করে তোলা এবং মজুরিকে দমিয়ে রাখার একটা কৌশল হয়ে উঠেছে ওই প্রকল্প। নিজের সমর্থনে মোদী সরকার এই দাবিটুকু করতে পারে যে বড় মাপের কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির কালি তার গায়ে এখনও লাগেনি। কিন্তু কেলেঙ্কারির নায়ক ললিত মোদী এবং ব্যাঙ্কের ঋণ খেলাপি বিজয় মাল্যকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার ব্যাপারে মোদীর মন্ত্রীরা জড়িত। মোদী সরকার ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধে নিকৃষ্ট অনাগ্রহীদের অন্যতম গৌতম আদানির ঋণ পরিশোধের সময়সীমাকে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আদানি হলেন মোদীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মোদী ২০১৪-র নির্বাচনী প্রচারে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় করে দেখিয়েছিলেন সেই গুজরাট মডেলের স্বরূপও উদ্ঘাটিত হয়েছে এবং তা কর্মহীন বৃদ্ধি এবং বিপজ্জনক কাজের পরিবেশের বৃত্তান্ত বলেই প্রমাণিত হয়েছে। গুজরাট সরকার সম্প্রতি সুপ্রীম কোর্টে তিরস্কৃত হয় এবং শীর্ষ আদালত সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে নিহত পরিযায়ী উপজাতি শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সরকারি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে, মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তার সরকার নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণে ‘কিছুই করেনি', কর্মস্থলে মৃত ৭৩১ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেয়। মোদী সরকারের ‘দেশ বদল রহা হ্যায়’ শ্লোগান বাজপেয়ী সরকারের ‘ভারত উদয়’ শ্লোগানের মতোই শোনাচ্ছে, যে শ্নোগান ২০০৪-এর ভোটারদের কাছে নিজেদের জীবনের শোচনীয় পরিস্থিতির বিদ্রুপ বলেই মনে হয়েছিল। তবে দুরভিসন্ধিমূলক কিছু অভিমুখে ভারত অবশ্যই পাল্টাচ্ছে। মোদীর অধীনে দেশ এতটাই পাল্টে গেছে যে ‘গো মাংস ভক্ষণ’ বা ‘গো হত্যা করা’-র অভিযোগে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে; শাসক দলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘বেহায়া’ বলছেন এবং যাদবপুর থেকে বেনারস পর্যন্ত বিস্তৃত শিক্ষাঙ্গনে এবিভিপি-র ছেলেরা তাদের গায়ে হাত দিচ্ছে ও শ্লীলতাহানি করছে; সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বায়ত্ততা ও গণতন্ত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে; হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিবাহগুলোকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে সেগুলোর উপর আক্রমণ চালাচ্ছে; রোহিত ভেমুলার প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা থেকে দাদরির নৃশংস হত্যা, দলিত শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহ নির্মমতাগুলোর সমর্থনে যুক্তি দিয়ে এই সরকার অন্যদের থেকে নিজেকে বিশিষ্ট করে তুলেছে। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোকে বেকসুর খালাস দেওয়া হচ্ছে; এই গোষ্ঠীগুলো যুক্তিবাদী পণ্ডিতদের হত্যায় মদত জুগিয়েছে; তারা আবার প্রকাশ্যেই সশস্ত্র ‘প্রশিক্ষণ শিবির’ চালাচ্ছে যেগুলো প্রণালিবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রস্তুতি নেয়। স্কুলের পাঠ্যক্রমগুলোতে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের অনুকূলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে – যে পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য অল্প বয়সী পড়ুয়াদের মনে যুক্তিহীনতা ও ধর্মান্ধতা সঞ্চার করা। মোদীর নেতৃত্বে ভারতকে সুনির্ধারিতভাবেই কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের পথে চালিত করা হচ্ছে। সরকারের দু-বছর পূর্তি উদযাপনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় বিপজ্জনক অভিমুখে এই ‘পরিবর্তনকে’ মোদী ‘বিকাশবাদ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে বর্ণনা করেছেন ‘বিরোধবাদ’ বলে। তার কর্পোরেটপন্থী সাম্প্রদায়িকমুখী নীতিগুলোর প্রতি প্রতিরোধকে ‘বিরোধবাদ’ বলে ছাপ মেরে দিয়ে নিজের অজান্তেই মোদী প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, জনগনের আন্দোলনকে তিনি কতটা ভয় পান। কর্পোরেটদের জমি গ্রাসকে অনায়াস করে তুলতে একটি আইন পাশ করানোর তার প্রচেষ্টা কৃষক প্রতিরোধের মুখে বানচাল হয়ে যায়; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাপ্য অর্থে ছাঁটকাট করা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবাঞ্ছিতভাবে হস্তক্ষেপ করার তার নীতি ছাত্র ও শিক্ষকদের দৃঢ় ও অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতিরোধের মুখে পড়েছে; সারা দেশে শ্রমিকদের প্রতিবাদ (বেঙ্গালুরুতে পোশাক তৈরির শ্রমিকদের প্রতিবাদ যার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত) সরকারের শ্রমিক-বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ানোর যে প্রচার মোদী সরকার শুরু করেছে তা দেশের জনগণের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিরোধিতা ও প্রতিরোধকে থামিয়ে দিতে পারবে না।

...Full Text

Facing the Facts about Swine Flu

Swine Flu, technically a variety of flu caused by the H1N1 virus, is the latest of epidemics (following close on the heels of avian flu) to have affected people all over the globe. The virus has now spread to 74

...Full Text

Chhattisgarh Government’s Cultural Fascism

True to its character, the Chhattisgarh Government on July 8 banned Habib Tanvir’s internationally reputed play Charandas Chor, which had been running since 1974. This play, based on a Rajasthani folk tale, was written by Vijaydan Detha, and was initially called

...Full Text

ভাবের ঘরে চুরি নয়, কংগ্রেসের সাথে জোটের জট ছেড়ে গণঅান্দোলনের মেঠো পথে এগিয়ে চলুক স্বাধীন সংগ্রামী বামপন্থা — দীপঙ্কর ভট্টাচার্য

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবাংলার বামপন্থী কর্মীবাহিনী ও সমর্থকদের কাছে এক বিরাট প্রশ্ন রেখে গেল। এই প্রশ্নের সঠিক সমাধানের মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে অাগামীদিনে বামপন্থী রাজনীতি ও অান্দোলনের অগ্রগতির পথনির্দেশ। নির্বাচনী অভিযান পর্বে ও ফলাফল ঘোষণার প্রাকমুহূর্ত পর্যন্ত বাম-কংগ্রেস জোটের নেতারা সরকার গঠনের দাবিতে সরব থেকেছেন। কিন্তু ফলাফল ঠিক উল্টো কথা বলল। জোট ক্ষমতা থেকে বহু দূরে। বামপন্থী সমর্থনের সুবাদে কংগ্রেস তার অাসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৪-এ পৌঁছে গেলেও বামফ্রন্ট অাটকে থাকল মাত্র ৩২টি অাসনে। বলতে গেলে ২০১১ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। পশ্চিমবাংলার বিধানসভায় এই প্রথম বামপন্থীরা নেমে গেলেন তৃতীয় স্থানে। এই ফলাফলকে কীভাবে দেখব? শাসক দলের সন্ত্রাস ও কারচুপির প্রতিফলন হিসেবে? সন্ত্রাস ও কারচুপির ঘটনা অবশ্যই অনেক ঘটেছে, বেশ কিছু প্রচারমাধ্যমেও সামনে এসেছে, কিন্তু সামগ্রিক বিশ্লেষণে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা, সংবাদমাধ্যমের তীক্ষ্ণ নজর, জনগণের সোচ্চার অংশগ্রহণ – সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও কারচুপির প্রহসন বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে কি? সন্ত্রাস ও কারচুপিই যদি সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে থাকে তাহলে 'জনগণ ভোট দিতে পেরেছেন এবং জনগণের রায়ে অামরা সরকার গঠন করতে চলেছি' এই দাবি জোটের নেতারা কেন করলেন? নিছক সন্ত্রাস ও কারচুপির পরিণাম নয়, নির্বাচনী ফলাফলকে পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক শক্তির বর্তমান ভারসাম্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখাটাই হবে বাস্তবোচিত। ভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণে যদি নজর দেওয়া যায় তাহলে অামরা দেখব জোটপন্থী নেতা ও প্রবক্তাদের দুটো বড় তর্ক ছিল। এক, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভোট যোগ করলে তৃণমূলের ভোটকে অনেক জায়গাতেই ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে, অার দুই, লোকসভা নির্বাচনে মোদী হাওয়াতে বিজেপি যে ১৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তা বিজেপি ধরে রাখতে পারবে না এবং সে ভোট তৃণমূল-বিরোধী বিক্ষোভে জোটের ঘরে জমা পড়বে। কংগ্রেসের ভোট অত সহজে বামপন্থীদের কাছে কেন অাসবে, বিজেপি সমর্থকরা বিজেপি থেকে সরে দাঁড়ালেও তৃণমূলকে ছেড়ে কংগ্রেস অার সিপিএমকে কেন ভোট দিতে যাবেন এই সব প্রশ্নকে তাঁরা গ্রাহ্যই করতে চাননি। ফলাফল দেখাচ্ছে জোটের ফলে ভোট বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা তৃণমূলের ভোটকে টেক্কা দিতে পারেনি। অর্থাৎ তৃণমূল বিরোধী মেরুকরণ তৃণমূলের পক্ষে মেরুকরণকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনী গণিত বিশেষজ্ঞরা ভেবে দেখতে পারেন বিরোধী ভোটের মেরুকরণের এই তীব্রতা না থাকলে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ও অাসনসংখ্যা একই মাত্রায় পৌঁছাতো কিনা। বিরোধী ভোটের মেরুকরণের ছবিটা অবশ্যই সর্বত্র একরকম নয়। এক-তৃতীয়াংশ অাসনে লড়ে কংগ্রেস ৪৪টি অাসনে জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অাসনে লড়ে বামফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থীদের সংখ্যা ৩২। সাফল্যের হার দেখিয়ে দিচ্ছে সিপিএমের ভোট থেকে কংগ্রেস যে মাত্রায় লাভবান হয়েছে, সে তুলনায় কংগ্রেসের ভোট থেকে সিপিএমের লাভের অঙ্ক খুবই সামান্য। অাসন সমঝোতার গণিতের রাজনৈতিক রহস্যও বোঝা দুষ্কর। লোকসভা নির্বাচনে যখন অধিকাংশ অাসনে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল তখন জলপাইগুড়ি অাসনে এগিয়ে ছিল সিপিএম। এবার জোটের নকশায় জলপাইগুড়ি অাসনটি চলে যায় কংগ্রেসের হাতে এবং জেলায় মাত্র ওই একটি অাসনেই জোট জয়যুক্ত হয়েছে। একইভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সূর্যকান্ত মিশ্র কংগ্রেস সমর্থন নিয়েও নিজের নারায়ণগড় অাসনটি ধরে রাখতে পারলেন না, কিন্তু ২০১৪-র নির্বাচনে যে সবং কেন্দ্রে সিপিএম এগিয়ে ছিল সেখানে সিপিএমের ভোট দিয়ে কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়াকে জিতিয়ে দেওয়া হল। ভোটের গাণিতিক বিশ্লেষণ চোখে অাঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সিপিএম বা বামফ্রন্ন্ট প্রার্থীদের অাসনে কংগ্রেসের ভোট অনেক ক্ষেত্রে ভালোমাত্রায় তৃণমূলের দিকে চলে গিয়েছে বা এমনকি নোটার সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটিয়েছে, কিন্তু সিপিএম বা বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয়লাভের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেনি। উত্তরবাংলার বহু চর্চিত যে শিলিগুড়ি মডেল থেকে জোটের ফর্মুলা বেরিয়ে এল সেই উত্তরবাংলার পরীক্ষাগারেই জোট বড় ধাক্কা খেল। কোচবিহার, অালিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি জেলা সহ উত্তরবাংলায় জোটের হিসেবকে পরাস্ত করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। মালদহ বাদে অবশিষ্ট উত্তরবঙ্গে জোটের অাসন সংখ্যা ১৪, তৃণমূলের ২৪। এমনকি বিগত লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদে যে সাফল্য বামফ্রন্ট পেয়েছিল জোটের জটে তাও হারিয়ে গেল। বিজেপির ভোট লোকসভা থেকে অবশ্যই কমেছে, কিন্তু যতটা কমবে বলে জোটপন্থীরা অাশা করেছিলেন, বহুক্ষেত্রেই ততটা কমেনি। এতে অবাক হওয়ার কোনো কারণ অাছে কি? পশ্চিমবাংলায় বিজেপি ক্রমাগত সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়িয়ে চলেছে। মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর তাগিদে সিপিএম-কংগ্রেস জোটের দিকে বিজেপির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক ভিত্তি কেন সরে অাসবে? লোকসভা নির্বাচনে মোদী হাওয়ায় যে ভোটাররা পদ্মফুলে অাকৃষ্ট হয়েছিলেন তাঁদের একাংশের বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুলে চলে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক ও বোধগম্য। অাসলে এবারের নির্বাচনে যে নির্মম রাজনৈতিক সত্য অাবার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল তা হল শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত যুবসমাজের এক বড় অংশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও গ্রামাঞ্চলে কৃষক জনগণ ও খেটেখাওয়া নিম্নবিত্ত মানুষের ব্যাপক অংশ এখনও সিপিএম সম্পর্কে অত্যন্ত বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ এবং তৃণমূল সম্পর্কে যথেষ্ট মোহাচ্ছন্ন। অার এই রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে অামাদের বার বার বামফ্রন্ট জমানার শেষ পর্যায়ে ফিরে যেতে হবে। পঞ্চায়েতী দুর্নীতি ও সরকারী ঔদাসীন্যে রেশনব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ার মুখে, রেশন বিদ্রোহে গ্রামবাংলা তোলপাড়, একশ দিনের কাজের প্রকল্প অাইন বানিয়ে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার যখন নিজেকে গরিবের বন্ধু সাব্যস্ত করতে উদ্যত, তখনই পশ্চিমবাংলায় বুদ্ধবাবুর নেতৃত্বে সিপিএম 'শিল্প অামাদের ভবিষ্যৎ' বলে পুলিশ নামিয়ে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণে নেমে পড়ল। নন্দীগ্রামে ঘটে গেল পুলিশ-ক্যাডার যৌথ অাক্রমণে দু-দুটি গণহত্যা, লালগড়ে চলল যৌথ বাহিনী নামিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ২০০৬ সালে বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এভাবেই একদিকে ক্ষমতার ঔদ্ধত্য ও অন্যদিকে অানন্দবাজার থেকে শুরু করে অান্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের হাততালিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে পশ্চিমবাংলার 'ব্র্যান্ড বুদ্ধ' শিল্পায়নের উন্মাদনায় ২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পটভূমি রচনা করেছিল সিপিএম। অথচ সিপিএমের বঙ্গীয় নেতৃত্বের এক বড় অংশ এই দিবাসত্যকে তখনও স্বীকার করেননি, অার অাজও মানতে নারাজ। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অাংশিক ধাক্কা ও ২০১১ সালের পূর্ণ বিপর্যয়ের তাঁরা একটাই কারণ খুঁজে বের করেছিলেন – কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া ও রাজ্যে কংগ্রেসকে তৃণমূলের সঙ্গে জোট গঠনের দিকে 'ঠেলে দেওয়া'। ভুল সংশোধনের নামে তাঁরা তাই এবারের নির্বাচনের অাগে এই একটি 'ভুলই' সংশোধন করে নিলেন। কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার নেই তাই কেন্দ্রে সমর্থন ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না, রাজ্যে কংগ্রেসকে তৃণমূল থেকে অালাদা রেখে সিপিএমের সঙ্গে জোটবদ্ধ করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করলেন এই নেতৃত্ব। যে কোনো কারণেই হোক কংগ্রেস-সিপিএমের এই জোটের কল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে অাবার সেই ব্র্যান্ড বুদ্ধ নির্মাতা অানন্দবাজার গোষ্ঠীকেও ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেল। নিজের ভোট কংগ্রেসের ঘরে তুলে দিয়ে নিজে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়ে কংগ্রেসকে প্রধান বিরোধী দলের অাসনে বসিয়ে দেওয়াকে জোটের স্বার্থে জরুরি অাত্মত্যাগ হিসেবে সিপিএম যতই প্রচার করুক না কেন রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের নামে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার কৌশল যে পুরোপুরি ব্যর্থ তা বুঝতে কারুরই অসুবিধে হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিপিএম পলিটব্যুরো নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বৈঠকের পরে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার কৌশল পার্টির রাজনৈতিক লাইন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে, পার্টি লাইন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পশ্চিমবাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে, সিপিএমের এককালের সবচেয়ে বড় দুর্গে এমনটা কী করে হল? সিপিএমের বিশাখাপত্তনম কংগ্রেসে গৃহীত লাইনে বলা অাছে বিজেপি বিরোধিতার নামে কংগ্রেস বা শাসনক্ষমতায় থাকা বা প্রাধান্যমূলক অবস্থানে থাকা অাঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সিপিএম কোনো অাঁতাত বা বোঝাপড়ায় যাবে না। রাজ্যের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাজ্যভিত্তিক কৌশল নির্ধারণের প্রসঙ্গে বলা অাছে তা যেন ব্যাপক বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। এর ঠিক বিপরীতে বামপন্থী ঐক্যকে শিকেয় তুলে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে তোলা হল। জোটপন্থী নেতারা কেউ কেউ বলছেন পশ্চিমবঙ্গে ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায় না থাকার জন্য কংগ্রেসের শ্রেণীচরিত্রে পরিবর্তন ঘটে গেছে, তাই কংগ্রেসের সঙ্গে এরাজ্যে জোট গড়তে নাকি কোনো অসুবিধে নেই। কেউ কেউ বিশাখাপত্তনম কংগ্রেসে গৃহীত লাইনে অ-সাধারণ পরিস্থিতিতে নমনীয় কৌশলের যে কথা বলা অাছে সেই যুক্তি দেখাচ্ছেন। তাই যদি হবে তাহলে খোলাখুলি সে কথা বলা হল না কেন? অ-সাধারণ পরিস্থিতি ও নমনীয় কৌশলের কথা নির্বাচনের অাগে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্তে কেন সরাসরি উল্লেখ করা হল না? কেন বলা হল কংগ্রেসের সঙ্গে যে বোঝাপড়া হচ্ছে তা কোনো অাঁতাত বা রাজনৈতিক জোট নয়, নীচুতলা থেকে জনগণের ইচ্ছায়, জনগণের দাবিতে, জনগণের চাপে গড়ে ওঠা মানুষের জোট? অথচ বাংলার মানুষ পরিষ্কার দেখলেন দু-দলের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে অাসন সমঝোতাকে মূর্ত রূপ দিলেন এবং গোটা রাজ্য জুড়ে যৌথ প্রচার চলল। বলা হল বাইরে থেকে অাসা কেন্দ্রীয় নেতারা কংগ্রেসের সঙ্গে একই মঞ্চে সভা বা একযোগে প্রচার করেননি, তাই এই জোট রাজনৈতিক জোট নয়। নিছক নীচুতলার স্থানীয় বোঝাপড়া। কোন দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোরকে এভাবে ঘরের নেতা ও বাইরে থেকে অাসা নেতা বলে ভাগ করা যায়? মঞ্চ ভাগাভাগি কে করলেন অার কে করলেন না এই কূটনৈতিক তর্ক দিয়ে রাজনীতির চরিত্র নির্ধারণ করা যায়? নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে জোটের সরকার তৈরি হবে এই ক্ষমতা ভাগাভাগির কথা ঘোষণা করার পর কে মঞ্চ ভাগ করে নিলেন অার কে করলেন না তাতে কী এসে যায়? জোটের নির্বাচনী ফলাফলের সমীক্ষা করতে গিয়ে এখন কেউ কেউ বলছেন জোটের ব্যাপারটা জনগণকে ঠিক বোঝানো যায়নি। কী অদ্ভুত কথা। নির্বাচনের অাগে বলা হল জনগণের দাবিতে, জনগণের চাপে জোট, অার নির্বাচনের পরে বলা হচ্ছে জনগণকে বোঝানো গেল না! নির্বাচন চলা কালে, এমনকি ফলাফল ঘোষিত হওয়ার প্রাকমুহূর্ত পর্যন্ত সূর্যকান্ত মিশ্র বললেন জোট ডবল সেঞ্চুরি করবে। এখন জোটের পক্ষে যু্ক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলছেন জোট না হলে সিপিএম ডবল ডিজিট বা দুই অঙ্ককেও ছুঁতে পারত কিনা সন্দেহ। এখন শোনা যাচ্ছে এই সংখ্যা নাকি পাঁচ হয়ে যেত। স্বাধীনভাবে লড়লে দু-অঙ্কের নীচে অার কংগ্রেসকে সঙ্গী পেলে ডবল সেঞ্চুরি – মতাদর্শের কথা দূরে থাক, পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রকৃত শক্তির মূল্যায়ন সম্পর্কে বাস্তবোচিত বিবেচনাবোধও কি অাজ সিপিএম নেতৃত্বের কাছে এতই কঠিন হয়ে পড়েছে? এত ফাঁপা বিশ্লেষণের উপর দাঁড়িয়ে বামপন্থী রাজনীতি কখনও পরিচালিত হতে পারে? নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার অাগে জোটপন্থীরা যা দাবি করলেন তা তো চূড়ান্ত ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। এখন জোটের পক্ষে ওকালতি করে এই নেতারা যা বলছেন তা যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেওয়া যায় তাহলে সেটা নিজেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে পরিগণিত হবে। যে সিপিএম পার্টি ৩৪ বছর লাগাতার ক্ষমতায় থাকল, অাজ ক্ষমতা থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তার ক্রমাগত শক্তিক্ষয়ের হার এত বেশি যে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে লড়লে দু-অঙ্কের অাসন পাওয়া যাবে কিনা ভাবতে হচ্ছে। এই দুর্বলতা ঢাকার জন্য যদি জোটনীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে মানতেই হবে যে তাতে সিপিএমের চেয়ে কংগ্রেসই অনেক বেশি লাভবান হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়ে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা যে ২৮টি বিধানসভা অাসনে এগিয়ে ছিলেন তার মধ্যে ৬টি অাসন বামপন্থীরা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হাতে তুলে দিয়েছেন – জলপাইগুড়ি, কালিয়াগঞ্জ, রানীনগর, মুর্শিদাবাদ, বাদুড়িয়া, সবং। বিপরীতে কংগ্রেস ২০১৪ সালে যে ২৮টি অাসনে এগিয়ে ছিল তার মধ্যে মাত্র একটি অাসনই (মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল) এবার সিপিএমের পক্ষে এসেছে, তাও কংগ্রেস প্রার্থীকে 'বন্ধুত্বমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়' পরাজিত করে। ২০১৪ সালে এগিয়ে থাকা অাসনের ২৮টির মধ্যে ২২টি অাসনকে ধরে রাখা ছাড়াও বামফ্রন্টের সমর্থনের ভিত্তিতে কংগ্রেস অারও ২২টি অাসন বাড়িয়ে ৪৪টি অাসনে পৌঁছে গেছে, কিন্তু ২০১৪ সালে এগিয়ে থাকা বামফ্রন্টের ২৮টি অাসনের মধ্যে ১২টি অাসন জোট সত্ত্বেও চলে গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। নির্বাচনী ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছে দু-একটি জেলা বাদ দিলে গোটা রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৃণমূলের পক্ষে ঝুঁকে রয়েছে। এর ভিত্তিতে কেউ কেউ বলছেন সারদা কেলেঙ্কারি বা দুর্নীতির প্রশ্ন সেভাবে রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দাগ কাটতে পারেনি। নারদ ঘুষ ভিডিও অপারেশনের তেমন প্রভাব না পড়লেও সারদা কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভ নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়নি একথা অবশ্যই বলা যাবে না। সারদা কেলেঙ্কারির অন্যতম দুই খলনায়ক মদন মিত্র ও শ্যামাপদ মুখার্জী এই নির্বাচনে পরাজিত। সব মিলিয়ে মন্ত্রীসভার অাটজন সদস্য নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্য বহু মন্ত্রী ও নেতা যাঁরা জিতেছেন তাঁদের জয়ের ব্যবধান ২০১১ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দুর্নীতি বা সন্ত্রাসের প্রশ্ন জনমানসে কতটা ধাক্কা দিয়েছে তা নিয়ে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ হতে পারে, কিন্তু বামপন্থী কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল এর বিরুদ্ধে জোরালো অান্দোলন গড়ে তোলা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে দোসর করে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো যায় না একথা তো বলাই বাহুল্য। সুপ্রীম কোর্টের চাপে অবশেষে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেও দীর্ঘদিন ধরে জেলে থেকেও মদন মিত্র কী করে বহাল তবিয়তে মন্ত্রীসভায় থেকে গেলেন এটা পশ্চিমবাংলায় দুর্নীতি-বিরোধী অান্দোলনের কাছে, বামপন্থী অান্দোলনের কাছে একটা বড় প্রশ্ন। দুর্নীতির চেয়েও বোধ করি অারও জোরালো প্রশ্ন সন্ত্রাস মোকাবিলা ও গণতন্ত্র রক্ষা। গণতন্ত্রের প্রশ্নেই ১৯৭৭ সালে বামপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু ইতিহাসের নির্মম প্রহসনে ২০১১ সালে গণতন্ত্রের নামেই পশ্চিমবাংলায় সরকার পরিবর্তন হয়। অার তাই বিগত পাঁচ বছরে গণতন্ত্রের প্রশ্নে সিপিএম সরব হলেও তা সিপিএম জমানার সন্ত্রাস ও দলতন্ত্রের স্মৃতিকেই অাবার উস্কে দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতের বড় বড় ভুলভ্রান্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্য অান্তরিকভাবে অাত্মসমালোচনা না করলে গণতন্ত্রের প্রশ্নে সিপিএমের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া অসম্ভব। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে একদিকে যেমন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে, অন্যদিকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা প্রকল্প এবং পরিকাঠামোগত কিছু উন্নয়নের ফলে জনগণের একাংশের মধ্যে সরকার সম্পর্কে অাস্থা এবং অাশারও সঞ্চার হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে যে সংবাদমাধ্যম তৃণমূল শাসনের সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছিল, ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর অাজ অাবার সেই সংবাদ মাধ্যমেই মমতা-মহিমা কীর্তনে বুদ্ধিজীবীদের মুখর হতে দেখা যাচ্ছে। দুটি কথা অাজ বিশেষভাবে চর্চিত। এক, পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে 'ভদ্রলোক' সমাজের চিরাচরিত অাধিপত্যের বিপরীতে মমতা ব্যানার্জী হয়ে উঠেছেন নিম্নবর্গের মানুষের উত্থানের প্রতীক; দুই, তৃণমূল সরকার জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের এক সফল মডেল রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই দুটি দাবিকেই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গ্রাম-শহরে গরিব শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস এক ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে তা অনস্বীকার্য। এক দশক অাগেও গ্রামাঞ্চলে এই ব্যাপক প্রভাব ছিল বামপন্থীদের। দীর্ঘদিনের শ্রেণীসংগ্রাম ও গণঅান্দোলনের মধ্য দিয়ে এই গণভিত্তি, গণপ্রভাব গড়ে উঠেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে সরকার ও দল মিলেমিশে প্রায় একাকার হয়ে যাওয়া ক্ষমতাতন্ত্রের মাধ্যমে এই গণসমর্থন ও প্রভাবকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অাসার চেষ্টা, অন্যদিকে শ্রেণীসংগ্রাম ও গণঅান্দোলনে শিথিলতা ও অানুষ্ঠানিকতা, অার সবচেয়ে বড় কথা সরকারের দিশা ও অগ্রাধিকারে স্পষ্ট কর্পোরেটমুখী পরিবর্তন-এর ফলে গণভিত্তিতে যে ক্ষয় ও ফাটল দেখা দেয় তা অাজ মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের গণসমর্থন এবং রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় শ্রেণীসংগ্রামের মাধ্যমেই সামাজিক-রাজনৈতিক জগতে বড় পরিবর্তন ঘটেছে, হিন্দী বলয়ের মতো অালাদা করে সামাজিক ন্যায় রাজনীতির ধারা পশ্চিমবাংলায় গড়ে ওঠেনি। সামাজিক দৃষ্টিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অাবির্ভাবের অাগে অবধি কংগ্রেস ও বাম অামলে বাংলার রাজনীতিতে একইভাবে অভিজাত অাধিপত্য বজায় থেকেছে এমন বক্তব্যের কোনো ঐতিহাসিক বাস্তব ভিত্তি নেই। শ্রেণীগতভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের সামাজিক পৃষ্ঠভূমিতেও অনিবার্যভাবেই পরিবর্তন ঘটেছে। জোতদার-জমিদারের অাধিপত্যের রাজনীতি ও শ্রমিক-কৃষক অান্দোলনের রাজনীতির সামাজিক গঠন ও অভিব্যক্তি অবশ্যই এক জায়গায় অাটকে থাকেনি। কিন্তু অপারেশন বর্গার পর সিপিএম অামলে ভূমিসংস্কার কর্মসূচী অার না এগোনোর ফলে অবশ্যই গরিব কৃষক, ক্ষেতমজুর বা সামাজিক ও শ্রেণীগত বিচারে যাঁদের নিম্নবর্গ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে তাঁদের সামাজিক-রাজনৈতিক উত্থানের প্রক্রিয়াটিও বাধাপ্রাপ্ত হয়। অার বিশেষ করে বাম জমানার শেষ পর্যায়ে পঞ্চায়েতী দুর্নীতি, প্রোমোটার রাজ ও শিল্পায়নের নামে কর্পোরেট তুষ্টিকরণের নীতির ফলে শ্রেণীগত ও সামাজিক বিচারে নিম্নবর্গের সঙ্গে বাম জমানার এক ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হয়, বামপন্থী রাজনীতির অাকর্ষণ ও প্রভাব ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং বাম-বিরোধী শিবির দীর্ঘদিনের বামপন্থী গণভিত্তির মধ্যে একটা বড় জায়গা করে নেয়। বাস্তব ছবিটা এটাই। এই রাজনৈতিক বাস্তবিকতার উপর রং চড়িয়ে মমতা ব্যানার্জীকে কেন্দ্র করে নিম্নবর্গের উত্থানের কাহিনী গড়ে তুললে তা হবে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের লালুপ্রসাদের তথাকথিত

...Full Text

WTO: US Plays Villain Again

The limping Doha round of WTO negotiations has stumbled once again, this time too on the rock of American obduracy. Senior trade officials from around 11 countries — the United States, European Union, Brazil, India, Australia, New Zealand, South Africa and Mexico

...Full Text

The Ambanis: Private Plunder of Public Resources

The ongoing Ambani brothers’ case before Bombay High Court and now in Supreme Court has brought to fore the spectre of loot of our natural resources (land, water, mines) by tiny elite hand in glove with corrupt politicians. The roles

...Full Text

Act Against ‘Honour’ Killings Now!

An Open Letter to P Chidambaram (Circulated by the AIPWA) Dear Home Minister, We appreciate your strong statement in Parliament on July 28, 2009 against killing of couples by caste panchayats in Haryana. You said that you “hang your head in shame”

...Full Text

Chaos in the BJP and Prospects for the Left

In the wake of its second successive defeat in Lok Sabha elections, the BJP finds itself in a deep and protracted crisis. The summary expulsion of Jaswant Singh following the publication of his book on Jinnah has only added fuel

...Full Text