COMMENTARY

“বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি, বুঝে নিক দুর্বৃত্ত” : পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলী শাসনের মোকাবিলা ও বামপন্থী পুনর্জাগরণের চ্যালেঞ্জ

পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ও মা-মাটি-মানুষের অবিরাম ঢক্কা-নিনাদের পাঁচটি বছর পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অাবার বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায়। পাঁচ বছর অাগে পরিবর্তনের যে ডাক মানুষের মনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল তার পেছনে ছিল প্রায় জগদ্দল পাথরের মতো অচলায়তনে পরিণত দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম শাসন। সাড়ে তিন দশকের নিরবচ্ছিন্নতার ক্লান্তি নয়, বাংলার ব্যাপক মানুষের কাছে, এমনকি বামফ্রন্ট সমর্থক ভোটদাতাদের এক বড় অংশের কাছেও, যা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল তা হল বুদ্ধবাবুর নেতৃত্বে বাম শাসনের ঔদ্ধত্য, উন্নাসিকতা ও নির্লজ্জ কর্পোরেট বন্দনা। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, লালগড় – সিপিএম রাজত্বের অবসানের বার্তা দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হয়ে গেলেও সি পি এম সে লেখা পড়তে চায়নি। ২০০৬-এর নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়লাভের এক মাসের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে সিঙ্গুর থেকে যে পটপরিবর্তনের সূচনা হয় তা যেন অনিবার্যভাবেই ২০১১-র নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারের শোচনীয় পরাজয়ের সুনিশ্চিত ঠিকানায় পৌঁছে যায়। অাজ পাঁচ বছর পরে, সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি পূরণ ছাড়া তৃণমূল সরকারের 'সাফল্যের' ভাঁড়ারে তেমন কিছু নেই। সরকারী খয়রাতি বণ্টনের সীমিত কর্মসূচী ও কিছু সাংকেতিক পারিবারিক সহায়তা প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে একদিকে তুমুল প্রচার অভিযান, অন্যদিকে চা-বাগানে অনাহার মৃত্যুর মিছিল, রাজ্যজুড়ে ভেঙে পড়া দুর্নীতিগ্রস্ত রেশন ব্যবস্থা, সরকারী ঔদাসীন্যে ও সংকটে নাজেহাল কৃষকসমাজ। একদিকে সারদা কেলেঙ্কারীতে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ ও যুব-সমাজ, অন্যদিকে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের নির্লজ্জ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষণ। একদিকে রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতন, যৌন হিংসা ও হয়রানির ক্রমবর্ধমান তালিকা, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর চোখে এসবই হয় সাজানো ঘটনা, নয় ছোটখাট ব্যাপার। সিপিএম অামলে দলতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অাজ রাজ্যজুড়ে মমতা শাসনে নেমে এসেছে তৃণমূলী অাক্রমণ ও পুলিশী নির্যাতন। একদা অান্দোলনের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রীর অাসনে অধিষ্ঠিত হতেই গণতান্ত্রিক অান্দোলন ও মিছিল-সমাবেশের ওপর চেপে বসেছে অজস্র নিষেধাজ্ঞা। বিগত পাঁচ বছরের এই অভিজ্ঞতা অাজ স্বাভাবিকভাবেই বাংলার জনগণকে অাবার একবার মোহভঙ্গ ও বিক্ষোভের পথে ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতা ব্যানার্জী দ্বারস্থ হয়েছেন দেশী-বিদেশী কর্পোরেট মহলের। বৃহৎ পুঁজিকে খুশি করতে ও স্বাগত জানাতে বইয়ে দিয়েছেন প্রতিশ্রুতির বন্যা – মনে হচ্ছে গোটা রাজ্য সরকার অাজ কর্পোরেট লুটেরাদের স্বাগত জানাতে নিজেকে কার্পেট হিসাবে বিছিয়ে দিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে যেখানে জিন্দল গোষ্ঠীকে দশ বছর অাগে ১০ মিলিয়ন টন ইস্পাত ও ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ৪০০০ একর জমি দেওয়া হয়েছিল (পরবর্তীতে জিন্দল গোষ্ঠী কৃষকদের কাছ থেকে অারও ৩০০ একর জমি কিনে নেয়), অাজ ২০১৬ সালের গোড়ায় এসে জিন্দল গোষ্ঠী সেখানে ১৩৪ একর জমিতে ২৪ লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদনের কথা বলছে। সব ঠিকমতো এগোলে উৎপাদন শুরু হবে ২০১৮ সালে, স্থায়ী কাজ পাবেন মাত্র ২০০ জন শ্রমিক। মমতা ব্যানার্জীর প্রচারতন্ত্রের কাছে এটাই পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শিল্পবিপ্লবের মহান সূচনা। যে গণসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে মমতা ব্যানার্জী ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্বাভাবিকভাবেই সেই সমর্থনে অাজ ভাটা পড়েছে। সরকারের ব্যর্থতা ও বিশ্বাসঘাতকতা এবং তৃণমূলী সন্ত্রাস ও হিংসা মানুষের মনে অাবার মোহমুক্তি ঘটিয়ে বিক্ষোভ জাগিয়ে তুলছে। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলে সেই বিক্ষোভের প্রতিফলন ঘটছে না কেন ? ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবাংলায় বিজেপির এক অভূতপূর্ব উত্থান চোখে পড়েছিল, – অাসন সংখ্যার নিরিখে না হলেও ভোট শতাংশের হিসেবে। কিন্তু বিজেপির সেই শক্তিবৃদ্ধি যতটা না তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিক্ষয় ঘটিয়েছিল তার চেয়ে বেশি বোধকরি ভাগ বসিয়েছিল কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের ভোটে। পরবর্তী পর্যায়ে দেশজুড়ে মোদী ঢেউ স্তিমিত হয়ে অাসার সাথে সাথে পশ্চিমবাংলাতেও বিজেপির অাবার ভোট কমেছে, কিন্তু তৃণমূলের ভোটে সেরকম কোনো ক্ষয় সাধারণভাবে এখনও চোখে পড়েনি। এ থেকে একটা কথা সহজেই বেরিয়ে অাসে। সি পি এম-এর যে গণভিত্তি বিক্ষুব্ধ-বীতশ্রদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে সরে গিয়েছিল তা এখনও বামফ্রন্টের দিকে ফিরে অাসেনি। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার রাজনৈতিক প্যাটার্নের সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা এখানেই। কেরালায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাধারণভাবে সরকার পরিবর্তন হয়। কংগ্রেস ও সিপিএমের মূল গণভিত্তি সেখানে মোটামুটিভাবে স্থির এবং দু'তিন শতাংশ ভোটের পার্থক্যে সাধারণভাবে হার-জিত নির্ধারিত হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বামপন্থী শাসনের অবসান লগ্নে সিপিএমের গণভিত্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবে খুব স্পষ্ট বহুমাত্রিক ক্ষয় চোখে পড়ে যার মূলে ছিল – (১) কৃষক ও গ্রামীণ গরিব জনগণের ব্যাপক বিক্ষোভ, (২) মুসলিম সম্প্রদায় ও দলিত-অাদিবাসী সমাজে গভীর বঞ্চনাবোধ, (৩) বুদ্ধিজীবীবর্গ ও শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজে পরিবর্তনের তীব্র তাগিদ, (৪) দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতার অাকর্ষণে ও ক্ষমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা স্বার্থান্বেষী চক্রের শিবির পরিবর্তন। বিগত পাঁচ বছরে এই বুনিয়াদী প্রেক্ষাপটে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গণতন্ত্রের ওপর তৃণমূলী অাক্রমণের ফলে নাগরিক সমাজের একাংশ অবশ্যই বর্তমান জমানার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, কিন্তু বুনিয়াদী জনগণের অাস্থা ফিরে পেতে বা জনগণের স্বার্থরক্ষা ও অধিকার অাদায়ের জন্য স্থানীয় স্তরে কোনো জোরালো অান্দোলন গড়ে তুলতে সিপিএম সাধারণভাবে তেমন কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি। এর বিপরীতে যে ছবিটা মাঝে-মাঝেই ফুটে উঠেছে তা হল সিপিএম বা বামফ্রন্ট শিবিরে বড় মাত্রায় হতাশা, বিভ্রান্তি ও শিবির পরিবর্তন। গত পাঁচ বছরে পঞ্চায়েত ও এমনকি বিধানসভা স্তরে নির্বাচিত বামফ্রন্ট প্রতিনিধিদের তৃণমূলে যোগদানের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলী সন্ত্রাস অবশ্যই এর পেছনে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ, কিন্তু সুবিধাবাদী রাজনীতির চাপ ও লোভ বোধকরি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অারও বড় কারণ। এককথায় বলা যায় প্রবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে সরকার-কেন্দ্রিক যুক্ত মোর্চার যে বামফ্রন্ট নামক মডেলটি গড়ে উঠেছিল, ক্ষমতা থেকে অপসারণের সাথে সাথে সেই মডেলটিই বলতে গেলে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাড়ে তিন দশক পরে বিরোধী পক্ষের রাজনীতিতে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জের জবাবে সিপিএম নেতৃত্ব 'শুদ্ধিকরণ' ও বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও কার্যত সিপিএম নেতৃত্বের এক বড় অংশ এরাজ্যে অাজও সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ঔদ্ধত্যের পর্যায়েই অাটকে অাছেন – গত পাঁচ বা দশ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষার কোনো ছাপই তাঁদের মধ্যে নেই। শোনা গিয়েছিল ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পর বিশাখাপত্তনম কংগ্রেসে সিপিএম তার রাজনৈতিক কৌশলগত লাইনের সমীক্ষা করবে। শেষ পর্যন্ত সমীক্ষার নামে যা পাওয়া গেল তা অাবার সেই পরিচিত মধ্যপন্থী সুবিধাবাদী সমাহার। একদিকে বিজেপি, কংগ্রেস এবং ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত অাঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে বামপন্থী শক্তিবৃদ্ধি ও বাম-গণতান্ত্রিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব অারোপ, অন্যদিকে রাজ্যে রাজ্যে উপযুক্ত কৌশল এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে নমনীয় কৌশল গ্রহণের নামে সুবিধাবাদী জোট গঠনের জন্য খোলা দরজা। পশ্চিমবাংলায় এই রাজনৈতিক কৌশলগত লাইন অনুযায়ী রাজ্য নেতৃত্বের এক বড় অংশই বেশ কিছুদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠনের ওকালতি করে চলেছেন। স্মরণ করা যেতে পারে ২০১১ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য এই নেতাদের অনেকেই কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারকেই দায়ী করে থাকেন। তাঁদের মতে এই সমর্থন প্রত্যাহারের ফলেই রাজ্যে সিপিএম কংগ্রেসকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের দিকে ঠেলে দেয় এবং এই জোটের ফলেই নাকি ২০১১ সালে সিপিএম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এই সুবিধাবাদী মনোগত বিশ্লেষণকে চোখে অাঙুল দিয়ে ভুল প্রমাণিত করে দেয়। কংগ্রেস অালাদাভাবে নির্বাচনে লড়া সত্ত্বেও তৃণমূলের ফলাফলে কোনো অবনতি ঘটেনি বা সিপিএমের ভোট কমে যাওয়াও তাতে অাটকে যায়নি। অাসনগত ফলাফলের দিক থেকে অবশ্য একথা সত্য রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ অাসনে সিপিএমের জয়লাভ ভোট ভাগাভাগির ফলেই সম্ভব হতে পেরেছিল। কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভাঙার পর এবার সিপিএমের এই নেতারা কংগ্রেসকে শুধু তৃণমূল থেকে অালাদা রাখা নয়, বরং সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট গড়ে তুলতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। রাজ্য সম্পাদক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কংগ্রেসের কাছে অাহ্বান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতারাও 'প্লেনামের পরে রাজ্য কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে' এ কথা বলে এই মরিয়া প্রচেষ্টাকে জিইয়ে রেখেছেন। কেরালা ও ত্রিপুরার বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সখ্যতার ফলে পশ্চিমবাংলায় শেষ পর্যন্ত সিপিএম-কংগ্রেস নির্বাচনী জোটের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেও সিপিএম নেতৃত্বের এই মরিয়া প্রচেষ্টা এক চূড়ান্ত অপমানজনক নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সম্প্রতি কলকাতায় হয়ে গেল সিপিএমের সর্বভারতীয় সাংগঠনিক প্লেনাম। প্রায় চার দশক অাগে এক অন্য পরিস্থিতিতে পশ্চিমবাংলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সিপিমের একদা বহু চর্চিত সালকিয়া প্লেনাম। সেটা ১৯৭৮ সাল। জরুরি অবস্থার অবসানে সাতাত্তরের নির্বাচনে অাশাতীতভাবে সিপিএম তখন রাজ্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। কেন্দ্রে দেশের প্রথম অকংগ্রেসী সরকার। ১৯৭৮-এ জলন্ধর কংগ্রেসে সিপিএম কংগ্রেস বিরোধী বাম ও গণতান্ত্রিক ঐক্যের লাইন নিয়ে এল, তার পাশাপাশি শালকিয়া প্লেনামে গৃহীত হল পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিন্দি বলয়ে সিপিএমের দ্রুত সম্প্রসারণের প্রস্তাব। এবারের প্লেনামের প্রেক্ষাপট ছিল অনেকটা অন্যরকম। রাজ্যে সিপিএম ক্ষমতা থেকে অবসারিত। হিন্দি বলয়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্য অাজও অপূর্ণ। পশ্চিমবাংলায় সিপিএমের কাছে সাড়ে তিন দশক পর অাবার নতুন করে বিরোধীপক্ষের শক্তি হিসেবে, অান্দোলনের পার্টি হিসেবে উঠে দাঁড়াবার চ্যালেঞ্জ। এমন অবস্থায় প্লেনামের ভেতরে সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে যাই অালোচনা হোক না কেন, প্লেনামকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হল বা প্লেনাম থেকে যে বার্তা বেরিয়ে এল তাতে ছেয়ে থাকল পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় ফিরে অাসার সুখস্বপ্ন নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার তাগিদ। অার প্লেনামের অব্যবহিত পরেই সিঙ্গুর থেকে শালবনী পদযাত্রার মতো কর্মসূচীর মাধ্যমে সিপিএম যেন জানান দিতে চাইল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের শোচনীয় পরাজয় অাসলে বাংলার মানুষেরই মস্ত বড় ভুল এবং অাবার সিপিএমকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে জনগণকে সে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বেকারত্ব অবশ্যই পশ্চিমবাংলার এক মস্ত বড় সমস্যা, কর্মসংস্থানের প্রশ্ন যুবসমাজের কাছে এক অাশু গুরুত্বের প্রশ্ন। মমতা ব্যানার্জীর পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে ব্যর্থতা ও বিশ্বাসঘাতকতার নজিরও কম নয়। কিন্তু সিঙ্গুর ও শালবনীকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়ে সিপিএম কী বার্তা দিতে চাইল ? সিপিএম অামলে শিল্পের নামে কর্পোরেট হাতে জমি তুলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় দুই উদাহরণ সিঙ্গুর ও শালবনী -- সিঙ্গুরে এক হাজার একর বহু ফসলি জমি ও শালবনীতে সাড়ে চার হাজার একর বনভূমি এবং অাদিবাসী ও অন্য কৃষকদের হাতে থাকা কৃষিজমি যথাক্রমে টাটা ও জিন্দল গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। সিঙ্গুর অান্দোলনের পর্যায়ে টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে পাড়ি দেন, কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই অাজ টাটা সেই ন্যানো গাড়ির প্রকল্পকেই এক ভুল উদ্যোগ বলে কবুল করে নিয়েছেন। সিঙ্গুরের অব্যবহৃত জমি ফেরতের মামলা অাজ সুপ্রীম কোর্টে অাটকা পড়ে অাছে। শালবনীতে কিছু জমি কৃষককে ফেরত দেওয়ার পরেও অাজও চার হাজার একর জমির 'সেজ' প্রকল্প অলস মরুভূমির মতো পড়ে অাছে। বহু প্রতিশ্রুত ইস্পাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের অাজও কোনো সম্ভাবনা নেই, শিল্পের নামে অবশেষে এক সিমেন্ট কারখানা যাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে এক হাজারেরও কম। সিপিএমের চোখে সিঙ্গুর ও শালবনী যদি অাজও উন্নয়ন ও শিল্পায়নের প্রতীক হয়ে থাকে তাহলে বলতেই হবে যে সিপিএম নেতারা দুহাত দিয়ে চোখ ঢেকে বসে রয়েছেন। সেজের নামে হাজার হাজার একর জমি কর্পোরেটের হাতে তুলে দিয়ে শিল্পায়ন ও উন্নয়নের ঢাক পেটানোর কারসাজি অাজ মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো তুলনামূলকভাবে শিল্পোন্নত রাজ্যগুলোতেও ধরা পড়ে গেছে। কৃষিসংকট, ক্রমবর্ধমান বেকারী, দারিদ্র ও ব্যাপক বৈষম্যের রূঢ় অর্থনৈতিক বাস্তবের ছবিটা অাজ প্রায় সর্বত্রই প্রকট হয়ে উঠছে। 'অামরা ক্ষমতায় এলেই সিঙ্গুর-শালবনীর শুষ্ক মরুদ্যানে শিল্পের ফুল ফুটিয়ে দেব' এমন দাবি মানুষের কাছে শুধু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিপন্ন হবে না তাই নয়, সেই প্রতিশ্রুত শিল্পের মধ্যে সাধারণ মানুষ অাজ তার অভিজ্ঞতা থেকে কোনো উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের অাশা দেখতে পান না। অার তাই বোধ হয় সিঙ্গুরের জনসভায় সুপ্রীম কোর্ট থেকে জমি ফেরতের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলে শালবনী পৌঁছে সূর্যকান্ত মিশ্রকে বলতে হল শিল্পের নামে বহু-ফসলি কৃষিজমি দখল করাটা ঠিক নয়। সিপিএম নেতৃত্ব অাজও বুঝতে পারছেন না যে সিঙ্গুর শব্দটা শুনলে পশ্চিমবাংলার সাধারণ মানুষের চোখে টাটার না হওয়া কারখানার স্বপ্ন ভেসে ওঠে না, বরং জোর করে লাঠি-গুলি চালিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেওয়ার ও তার বিরুদ্ধে কৃষক জনগণ, বিশেষ করে কৃষক রমনীদের সাহসী প্রতিরোধের স্মৃতিই অাবার নতুন করে জ‍েগে ওঠে। সেই স্মৃতিতে সিপিএমের ভাবমূর্তি কোনো কৃষকদরদী জনস্বার্থপ্রেমী উন্নয়নকামী বামপন্থী দল হিসেবে ধরা পড়ে না, সেখানে কর্পোরেট স্বার্থে কৃষকের জমি-জীবিকা-জীবন কেড়ে নেওয়ার নোংরা বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষতই অাবার দগদগে হয়ে ওঠে। সিঙ্গুর-শালবনীর ভ্রান্ত পথেরও একটা পূর্ব ইতিহাস অাছে যেটা অাজ অাবার স্মরণ করা দরকার। কেন্দ্রের ২০০৫ সালের সেজ অাইনের অাগেই পশ্চিমবাংলার বামফ্রন্ট সরকার ২০০৩ সালেই সেজ অাইন প্রণয়ন করেছিল। তারও এক দশক অাগে ১৯৯৪ সালে জারি হয়েছিল কেন্দ্রের নয়া শিল্পনীতির অাদলে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি। জনমুখী জনস্বার্থবাহী উন্নয়নের বিকল্প পথের চিন্তাভাবনা বা পরীক্ষা

...Full Text

সিপিএমের কলকাতা প্লেনাম : উত্তরগুলো অধরা

একটি নির্মম স্বীকারোক্তি ও একটি নির্ভেজাল সত্যকে দলিলে গুরুত্বসহ তুলে ধরার জন্য সিপিএমের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে কথা শুরু করা যাক। অামরা প্রথমে এই 'স্বীকারোক্তি' ও 'নির্ভেজাল সত্য' দলিলে যেভাবে অাছে, তা বাংলায় তর্জমা করে পাঠকের কাছে হাজির করব। দলিলটি হল, অতি সম্প্রতি (২৭-৩১ ডিসেম্বর ২০১৫) কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিপিএমের সাংগঠনিক প্লেনামে গৃহীত রিপোর্ট। দলিল শুরুতেই অামাদের জানিয়েছে : গণভিত্তি সম্পন্ন একটি শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টি কিভাবে গড়ে তোলা যায় তার উপর অালোচনা কেন্দ্রীভূত (ফোকাস) থাকবে। অর্থাৎ অামরা যা নিয়ে কথা বলছি তা একটি 'বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির' দলিল। তাই কমিউনিস্ট কর্মী ও সমর্থকরা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব ও তার অনুশীলন-লব্ধ অভিজ্ঞতার অালোকে দলিলটিকে অালোচনা ও বিচার করবেন। এই অাশা করা যায়। নির্মম স্বীকারোক্তিটি হল, “বামফ্রন্ট সরকারের গৃহীত নীতিগুলো নিয়ে যখন বিতর্ক উঠছে, সেই জটিল সন্ধিক্ষণে (ক্রুশিয়াল জাংচার) পলিট ব্যুরোর পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করতে অামরা অসমর্থ (? ব্যর্থ) হয়েছি । যদিও কেন্দ্রীয় কমিটিতে বামেদের পরিচালিত সরকারের নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চর্চা হয়েছে এবং ১৮তম পার্টি কংগ্রেস ও ১৯তম পার্টি কংগ্রেসে যথাক্রমে “কিছু পলিসি (নীতি) সংক্রান্ত বিষয়” ও “বর্তমান পরিস্থিতিতে বামেদের পরিচালিত সরকারের ভূমিকা” নিয়েও চর্চা হয়েছে।” কিন্তু “পার্টি কেন্দ্র ও পলিটব্যুরো” শক্তিশালী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে নিজে থেকে হস্তক্ষেপ না করে যুক্তরাষ্ট্রবাদী (ফেডেরাল) প্রবণতাকে সহায়তা করেছে, কেবলমাত্র যখন সংশ্লিষ্ট রাজ্য এ ধরনের কোনো বিষয় তুলতো তখন কেন্দ্র চর্চা করত” (১.১৪২ ধারা)। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে পরিচালিত পার্টি যে সমস্ত রোগে অাক্রান্ত – গোষ্ঠীবাদ, কেরিয়ারইজম (উচ্চাকাঙ্খা), যুক্তরাষ্ট্রবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রতা, অামলাতান্ত্রিক মনোভাব, যৌথ নেতৃত্বে পরিচালনাকে অগ্রাহ্য করা, নীচুতলা থেকে অাসা সমালোচনাকে উৎসাহিত করতে অপারগতা, গোষ্ঠীভিত্তিক ব্যক্তিকে দায়িত্বে নিয়ে অাসা, সমর্থন অাদায়ের জন্য কমরেডদের ভুলগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া, পার্টি কমিটির মধ্যে গোষ্ঠী বিভাজন ইত্যাদি বিষয় বিভিন্ন রাজ্যে লক্ষ্য করা যায়” – শীর্ষক অালোচনায় (১.১২২ ধারা), তাতে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ও স্বতন্ত্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রবাদ নিয়ে যে অালোচনা করা হয়েছে, দলিলের ১.১৪২ নং ধারায় তার নির্মম স্বীকারোক্তি : এই প্রবণতা বৃদ্ধিতে পার্টি কেন্দ্র ও পলিটব্যুরোও কম দায়ী নয়। কিন্তু নির্মম স্বীকারোক্তির মধ্যেও ভাবের ঘরে চুরি হয়ে গেল। বামফ্রন্ট সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের ফলে যখন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-লালগড়-নেতাই নিয়ে অাপনাদের শক্তিশালী রাজ্য পশ্চিমবাংলা উত্তাল, কর্মীবাহিনী বিভ্রান্ত, সরকার টলোমলো, সেই দিনগুলোতে পার্টি কেন্দ্র ও পলিটব্যুরো বা কেন্দ্রীয় কমিটি কি অবস্থান নিয়েছিলেন বা যদি কোনো অবস্থান না নিয়ে থাকেন, তা তো স্পষ্ট ভাষায় দলিলে উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল। 'বিপ্লবী' কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো বা পার্টি কেন্দ্র এত বড় জটিল সন্ধিক্ষণে কোনো কার্যকরী ভূমিকা নিতে কেন ব্যর্থ হল, তার জবাব না দিয়ে এসব রোগ নির্মূল করবেন কিভাবে? 'নির্মম স্বীকারোক্তি' অারও হাস্যকর লাগছে যখন অাপনারা 'নির্ভেজাল সত্য'টাকে ঐ একই দলিলে হাজির করেছেন : দলিলের তৃতীয় অংশে 'শ্রেণী ও গণঅান্দোলনের নতুন দিক নির্দেশ' নিয়ে অালোচনায় অাপনারা জানাচ্ছেন যে, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে বিশেষ “অধ্যয়ন গোষ্ঠী” (স্টাডি গ্রুপ) তৈরি করে শ্রেণীগুলোর ওপর নয়া উদারনৈতিক নীতিগুলোর প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা, অধ্যয়ন ও উন্নত ধারণা অাপনারা তৈরি করেছেন এবং তার ভিত্তিতে দলিলে নতুন প্রেক্ষাপটে জমি ও কৃষক ইস্যুগুলো নিয়ে কিভাবে এগুতে হবে, তার দিকনির্দেশ করেছেন। ঐ দিক নির্দেশের ৩.০৬ ধারায় নির্ভেজাল সত্যটাকে তুলে ধরেছেন। ৩.০৬ ধারার পূর্ববর্তী ধারা ৩.০৫-এ জমিদারতন্ত্র বিলোপ ও জমিদারদের হাতে থাকা সমস্ত জমি কৃষিশ্রমিক, গরিব কৃষক, ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিলি করার শ্লোগান রণনৈতিক লক্ষ্য হিসাবে ঘোষণা করার সাথে সাথে জমির ইস্যুটি নতুন রূপ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩.০৬ ধারায় লিখছেন, “... কর্পোরেট স্বার্থে জমিগ্রাস ও রাষ্ট্রের মদতে জমি অধিগ্রহণ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে । কর্পোরেট ও রিয়েল এস্টেট হাঙরদের হাত থেকে কৃষকদের জমি রক্ষার প্রশ্ন জমি অান্দোলনের প্রধান বা মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকদের লড়াই, বিশেষত অাদিবাসী জনগণের লড়াই সামনে চলে এসেছে। গ্রামীণ দরিদ্রদের বসত জমির জন্য লড়াই জমি অান্দোলনের অার একটি দিক”। ভারতবর্ষে “শিল্পায়ন ও উন্নয়নের” যে নয়া তত্ত্ব রং-বেরঙের বুর্জোয়া সরকারগুলো ফেরি করছে এবং তারই জন্য নাকি জমিগ্রাস ও জমি অধিগ্রহণ অনিবার্য বলছে, অাপনাদের বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে তা হলে কি করতে গিয়েছিল? যার মাশুল হিসাবে অাপনাদের 'চোখের মণি'র মতো সরকার বিদায় পর্যন্ত নিল, তার থেকে বিন্দুমাত্র কোনো উপলব্ধি তো দলিলে দেখলাম না। শুধু অতীতের ভুল স্বীকার নয়, প্লেনামের পর মাসখানেকও যায়নি, সিঙ্গুর থেকে শালবনী যে বিশাল পদযাত্রা অাপনাদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি সংগঠিত করল, তার সূচনায় সিঙ্গুরে বামফ্রন্টের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দলের 'মুখ' বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তো উদ্ধতভাবেই বললেন “ও পথেই হাঁটবো”। দলের রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্র তো বললেন, “ক্ষমতায় ফিরলে সিঙ্গুর মামলা তুলে নেবেন, ওখানে কারখানা হবে”। দলিলে লেখা হবে কর্পোরেট স্বার্থে জমি গ্রাস ও জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকদের জমি রক্ষার লড়াই প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে এবং কৃষক সভার উচিত শোষিত জনগণের অন্যান্য ইস্যুগুলোর সাথে সাথে এই ইস্যুতে (যেহেতু গরিব জনগণকে সমাবেশিত করার কেন্দ্রীয় ইস্যু -- জমি) শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ অান্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দলিল লেখার কালি এখনও শুকোয়নি, সরকার চলে যাওয়ার বেদনায় মন এখনও ভারাক্রান্ত, তথাপি কর্পোরেট স্বার্থে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের নীতি থেকে 'বিপ্লবী' কমিউনিস্ট পার্টি সরে অাসতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্রবাদের এই নিকৃষ্টতম উদাহরণের পর পার্টি কেন্দ্র ও পার্টি পলিটব্যুরো কোন অবস্থান নিল, তা জানতে অামরা অাগ্রহী হয়ে থাকলাম। দলিল ও বাস্তব অনুশীলনের এই বৈপরীত্য সুবিধাবাদী বামপন্থার বৈশিষ্ট্য, বিপ্লবী বামপন্থার নয়। এই বৈপরীত্যের অসংখ্য উদাহরণ দলিলের ছত্রে ছত্রে দেখা যাবে। তা নিয়ে কিছু কথা অামরা বলব। এবার অামরা ধীরে-সুস্থে প্লেনামের দলিলটাকে একটু বিচার করে দেখব। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনার পর কেন্দ্রীয় কমিটি ৪টি বিষয়কে -- (ক) পার্টির রাজনৈতিক-কৌশলগত লাইন পুনঃপরীক্ষা করা, (খ) পার্টি সংগঠন ও জনগণের মধ্যে কাজের দিশা পর্যালোচনা, (গ) গণসংগঠনগুলো ও তাদের কাজের দিশা পর্যালোচনা এবং (ঘ) নয়া উদারনীতির ফলে অার্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও বিভিন্ন শ্রেণীগুলোর ওপর তার প্রভাব নিয়ে চর্চা এবং তার ভিত্তিতে নতুন নতুন শ্লোগানগুলোর সূত্রায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমোক্ত কাজটি যেহেতু ২১তম পার্টি কংগ্রেসে সেরে ফেলা হয়েছে, তাই বাকি তিনটি কাজ এই সাংগঠনিক প্লেনামে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই অারাব্ধ কাজকে সম্পন্ন করার জন্য ২৮৪টি ধারা বিশিষ্ট একটি বিরাট খসড়া রিপোর্ট ও তার সাথে বেশ কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান যুক্ত পরিশিষ্ট পর্যালোচনার জন্য পেশ করা হয়। পাঠকের সুবিধার্থে বলা যায় : (খ) প্রশ্নটির জন্য ১-২১৭টি ধারা, (গ) অংশের জন্য ২-২৫টি ধারা এবং (ঘ) অংশটির জন্য ৩-৪২টি ধারা দলিলে হাজির করা হয়েছে। দলিল (১.৩) ধারা জানাচ্ছে, ১৯৬৪ সালে সিপিএম গঠনের পর “পার্টি সংগঠন সংক্রান্ত কর্তব্যকর্ম” নিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করে সংশোধনবাদীদের সাথে সম্পূর্ণ পার্থক্যরেখা টেনে দেওয়া হয় এবং একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ার দিশা গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৮ সালে ১০ম পার্টি কংগ্রেসে নতুন রাজনৈতিক-কৌশলগত লাইন গ্রহণের পর ১৯৭৮-এর ডিসেম্বরে সালকিয়া প্লেনাম ও তার সিদ্ধান্ত সমূহ সর্বভারতীয় গণবিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা এবং গোটা দেশে পার্টির বিস্তারের কাজ হাতে নেয়। সংশোধনবাদীদের সাথে সুস্পষ্ট পার্থক্যরেখা কতটা বজায় রাখা গেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত পর্যালোচনা করা দরকার। কিন্তু তার অাগে “সর্বদাই সঠিক লাইন অনুসরণকারী” সিপিএমের সর্বশেষ কলকাতা প্লেনামের দলিল নিজেই স্বীকার করছে, “পার্টি সদস্যদের মান (কোয়ালিটি) অত্যন্ত নিম্নগামী হওয়ায় গণবিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার বিপরীতে বাস্তবে পার্টি একটি গণপার্টিতে পরিণত হয়েছে” (১.৭৫ ধারা)। কারণগুলো দলিলই তুলে ধরেছে : (ক) ক্রমবর্ধমান সংসদবাদ, (খ) মতাদর্শগত অবক্ষয় ও তার ফলে অন্যান্য বুর্জোয়া পার্টির থেকে অালাদা থাকার মানসিকতার অভাব, (গ) পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির হয় দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ততা অথবা যুক্তরাষ্ট্রবাদ ও উদারতাবাদ (ঘ) পার্টি সদস্যদের মান নিম্নগামী হওয়ায় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতি অনুশীলনে বাধা (১.১৮ ধারা)। সংশোধনবাদীদের সাথে সুস্পষ্ট পার্থক্যরেখা বজায় রাখা দূরের কথা, দলিলে বলছে বুর্জোয়া পার্টিগুলোর সাথে পার্থক্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নিশ্চয় অারও গভীরে। দলিল তার ভূমিকায় স্বীকার করেছে ১৯৭৮ সালে সালকিয়া প্লেনাম যখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তখন পার্টির ইমেজ ও প্রভাব ছিল ঊর্ধ্বমুখী, অার যখন বর্তমান প্লেনাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে তখন পার্টির গণভিত্তিতে ক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে (১.১৫ ধারা)। এটা সত্যি কথা শুধু পশ্চিমবাংলাতেই ২০১০ সালে পার্টি সদস্যসংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৪৩৫ জন, অার ২০১৫ সালে সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭২ জন – অর্থাৎ ৭৩ হাজার ৩৬৩ জন পার্টি সদস্য হয় অন্য কোনো দলে চলে গেছে, নয় নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে (পরিশিষ্ট ১)। ট্রেড ইউনিয়ন ফ্রন্টে সদস্যসংখ্যা কমেছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৩৬ জন (২০১২) (পরিশিষ্ট ২), অার কৃষক ফ্রন্টে এই ক্ষয় মারাত্মক – কমেছে ৭১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৩১ জন (২০১৪ হিসাবে) (পরিশিষ্ট ২)। যুব ফ্রন্টে এই ক্ষয় ৪৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৯৭ (২০১৪ হিসাবে), ছাত্রফ্রন্টে এই ক্ষয় ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৫৯ (২০১৩

...Full Text

Sanghi Thought Police Attacks Scholars in Rajasthan

You can be branded a criminal in a BJP ruled state even if you deliver a lecture defending Hinduism from what you call ‘derogatory’ misinterpretation by Western scholars! If you’re a Leftist academic, you can be branded a criminal

...Full Text

Disenfranchising the Poor and Underprivileged

“If the law supposes that, the law is a ass — a idiot. …the worst I wish the law is, that his eye may be opened by experience — by experience.” – Charles Dickens, Oliver Twist Universal adult franchise – the right of every

...Full Text

Cold, Cruel and Criminal : Slum Demolitions in Winter

Cheen-o-arab hamaaraa, Hindostaan hamaaraaRehne ko ghar nahin hai, saaraa jahaan hamaaraa Kholi bhi chin gayi hai, benchein bhi chin gaye hainSadkon pe ghoomtaa hai, ab kaarvaan hamaaraa Jebeain hai apni khaali, kyon detaa varnaa gaaliWoh santari hamaaraa, woh paasbaan hamaaraa

...Full Text

Stoking Islamophobia

In the wake of the Paris attack by the ISIS, we are seeing the efforts of right-wing and far-right political forces worldwide to try to garner support that has hitherto eluded them, by stoking Islamophobia. The statements by Donald Trump,

...Full Text

Sangh Returns to Ayodhya Agenda ?

Twenty-three years after the vandals of the Sangh Parivar had demolished the Babri Masjid in brazen defiance of India's history of composite culture and every tenet of the rule of law, the Sangh brigade seems desperate to rake up the

...Full Text

Till The Cows Come Home

The Bihar election is historic, redemptive, and a defining moment in the assertion of free speech and expression – all flying in the face of a debilitating national politics of hate that exceeded all limits with impunity. There are of course

...Full Text

Notes on Bihar : Elections 2015

The elections to the Bihar Assembly attracted the attention of the entire country like never before. And now the stunning verdict is destined to haunt the Modi-Shah duo for a long time to come. In many ways, Bihar 2015 should go

...Full Text

Tamilnadu Rains: Jayalalitha Government In The Dock

The Tamilnadu Government’s façade of providing ‘welfare’ measures has been washed away in the torrential north east monsoon rains, leaving the Government’s callousness and apathy open for all to see. ‘Water water everywhere, not a drop to

...Full Text

7th Central Pay Commission Report

Towards More Neo-liberal Adjustments Further Away From Parity and Democratic Functioning There was speculation that the report of the 7th Central Pay Commission was withheld from publication till the Bihar elections were over to avoid any adverse impact on BJP-NDA

...Full Text

Terrorism and Imperialism

Challenges in the Wake of Recent Attacks In Ankara, 128 people were killed in an election rally on 10 October. A Russian passenger aircraft bringing home mostly Russian holidaymakers from Egypt crashed over Sinai in Egypt on 31 October. 224 died. Nearly 43 died in

...Full Text