খণ্ড-26 / সংখ্যা 33 / জেএনইউ ছাত্রসংঘের অফিসে তালা দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রদে...

জেএনইউ ছাত্রসংঘের অফিসে তালা দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রদের রাজনৈতিক অধিকারের উপর আর একটি আঘাত

জেএনইউ ছাত্রসংঘের অফিসে তালা দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রদের রাজনৈতিক অধিকারের উপর আর একটি আঘাত

১৫ অক্টোবর দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সদ্য নির্বাচিত বামপন্থী জেএনইউ ছাত্রসংঘকে পরের দিন বিকেল পাঁচটার মধ্যে ছাত্রসংঘের অফিস খালি করার নির্দেশ দেয়। ছাত্রসংঘকে পাঠানো চিঠিতে প্রশাসন জানায় যে ২০১৮ সালের মতোই এবছরের নির্বাচিত ছাত্রসংসদকেও আধিকারিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি কারণ নির্বাচন নাকি লিংডো কমিশনের নির্দেশাবলী অনুসারে হয়নি। অতএব ছাত্রসংসদের কোনো আইনি অধিকার নেই ইউনিয়ন অফিসে বসার, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির ‘অপব্যবহার’। স্বভাবতই জেএনইউর ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এবং সেইদিন থেকে লাগাতার অবস্থান চালিয়ে ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের’ জবরদখলের চেষ্টাকে আপাতত ব্যর্থ করেছেন।

এই চেষ্টার প্রাকসূচনা সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের কিছু আগে। সাম্প্রতিককালে জেএনইউ-তে বেশ কিছু নতুন স্কুল অর্থাৎ বিভাগ এবং বিশেষ সেন্টার গড়া হয়েছে। ছাত্রসংসদে এইসব নতুন বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার জন্য ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস’ দুইজন ছাত্রের আবেদনের ভিত্তিতে বিগত ছাত্রসংসদকে চিঠি পাঠিয়ে কাউন্সিলর পদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৫৫ করতে বলেন। কিন্তু এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে হওয়া সাধারণ সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে ছাত্রসংসদের সংবিধানে দুটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় — (১) কোনো স্কুল বা সেন্টার যে ন্যূনতম ছাত্রসংখ্যার ভিত্তিতে একজন কাউন্সিলর পাবে তার সংখ্যা ২০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং (২) সেই সূত্র মেনেই সামগ্রিক কাউন্সিলর পদের সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪২ করা হয়। বেশ কিছু সদ্যগঠিত স্কুল ৫০-এর কম ছাত্রসংখ্যার কারণে কোনো কাউন্সিলর পদ পায়না, যদিও এই সবকটি স্কুল মিলিয়ে সর্বমোট ১৪৪ জন ছাত্রছাত্রীর ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় প্যানেলে প্রতিনিধি নির্বাচনে অবশ্যই ভোটাধিকার থাকে। ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ নামানো জেএনইউ প্রশাসন আচমকাই এই মুষ্ঠিমেয় ছাত্রের ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ নিয়ে সাংঘাতিক চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ সভার সিদ্ধান্তকে নাকচ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

জেএনইউ-তে ছাত্রনির্বাচন চিরকালই ছাত্রদের মধ্য থেকে সমস্ত সংগঠনের সম্মতিক্রমে তৈরি ইলেকশন কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নাক গলায় না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই চেষ্টা বিগত কয়েকবছর ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে, কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো প্রচ্ছন্নে থেকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের গুন্ডামিকে প্রশ্রয় দিয়ে। যেমন গতবছর ভোটগণনা চলাকালীনই এবিভিপি জোর করে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে সীল করা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখনও ছাত্ররাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করেছিলেন, প্রশাসনের বিশেষ হেলদোল দেখা যায়নি। তাই আচমকা কিছু বিশেষ কেন্দ্রের জন্য এই গণতান্ত্রিক কুম্ভীরাশ্রু ত্যাগের কারণ একটু তলিয়ে ভাবলেই বোঝা যায়। এর মধ্যে বেশির ভাগ কেন্দ্রই বর্তমান প্রশাসনের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে, অনেকগুলিই ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার আকর, যা বর্তমান সরকার অনুসৃত কর্পোরেটপন্থী শিক্ষার মডেলের অনুকুল। তাই কর্তৃপক্ষের আশা যে বিশ্ববিদ্যালয় বার বার বামপন্থী ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে রাষ্ট্রের নানান জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে, সেখানে হয়তো এইসব ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে অবশেষে দক্ষিণপন্থীদের একটু দাঁড়ানোর জায়গা করে দেওয়া যাবে। প্রসঙ্গত ন্যানোসায়েন্স কেন্দ্রটি বিজেপি সরকারের আমলেও নয়, ২০১০ সালে তৈরি। কম ছাত্রসংখ্যার কারণে কোনোকালেই তাদের কাউন্সিলর নেই, অথচ চিরকালই তারা ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এসেছে। হঠাৎ একদশক পরে তাদের কাউন্সিলর লাভের জন্য প্রশাসনের এতো দরদের কারণ সহজেই অনুমেয়।

jnu su

 

৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন হয়। সর্বমোট প্রায় ৮,৭০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬৭.৯% ভোটদান করেন, যা বিগত সাত বছরের মধ্যে সর্বাধিক। এরপরেই দুইজন ছাত্র দিল্লি হাইকোর্টে কেস করেন। তাঁদের একজনের অভিযোগ তিনি নির্বাচনী পদপ্রার্থী ছিলেন কিন্তু তাঁর নমিনেশন নির্বাচন কমিটি বিনা কারণে খারিজ করেছে। অন্যজনের নালিশ কাউন্সিলর পদের সংখ্যার বৈধতা নিয়ে। অদ্ভুতভাবে এই দুই অভিযোগকারীর সপক্ষে জেএনইউ প্রশাসন তাদের স্থায়ী আইনজীবীকেও কোর্টে দাঁড় করায়। ৭ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা শুরু হতেই কোর্টের রায় আসে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ফলঘোষণা করা যাবে না। সেইমতো কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটগণনা হয়, ফলাফলের গতিপ্রকৃতির ঘোষণা হয়, কিন্তু সর্বশেষ ফল প্রকাশিত হয় না। কাউন্সিলর পদের ভোটগণনা হলেও ইলেকশন কমিটি তার ফল-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই গোপন রাখে। ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টফল ঘোষণার উপর স্টে অর্ডার তুলে নেয়। এরপরেই ইলেকশন কমিটির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফল প্রকাশ হয় এবং তিনটি বামপন্থী সংগঠন AISA, SFI, AISF, DSF-এর সম্মিলিত জোট কেন্দ্রীয় প্যানেলের সবকটি পদ এবং প্রায় সমস্ত স্কুলের বেশিরভাগ কাউন্সিলর পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।

একথা ঠিক যে হাই কোর্টতার ১৭ সেপ্টেম্বরের রায়ে আবেদনকারীদের জানায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেলে (GRC) নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারে। GRC-এর তদন্তের পরেই বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফল ঘোষণা এবং ‘নোটিফাই’ করবে। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশে GRC তদন্তের কোনো উল্লেখ নেই। সেই তদন্ত সম্পর্কে GRC ছাত্রপ্রতিনিধিদের বা ইলেকশন কমিটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছে, তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য কোনো আধিকারিক বার্তা তাদের দেওয়া হয়নি। সুতরাং ফলঘোষণার একমাসের মাথায় প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্ত সবরকম গণতান্ত্রিকতার পরিপন্থী।

২০১৬ সাল থেকেই নানাভাবে জেএনইউ-র নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে, কেন তা আজ আর কারুরই অজানা নয়। ইউনিয়ন রুম তালাবন্ধ করার হুমকির সঙ্গেই হুকুম জারি করা হয় জেএনইউ-র পার্থসারথি রকে অনুমতি ছাড়া ছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ছাত্রছাত্রীরা সেখানেও সারারাতব্যাপী অবস্থান বিক্ষোভ চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য জি পার্থসারথির নামাঙ্কিত এই জায়গা বিভিন্ন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের রাজনৈতিক আর সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের সাক্ষী থেকেছে। তার চেয়েও বড় কথা পিএসআর সহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচেকানাচে ছাত্রছাত্রীরা চিরকাল কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়াই যাতায়াত করে এসেছে, কেবলমাত্র প্রশাসনিক নামকরণ বা দিকনির্দেশিকায় নয় ছাত্রছাত্রীদের দেওয়াল লিখন, ছবি, কবিতার লাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানচিত্রের স্থানাঙ্ক হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশাসনিক ‘সম্পত্তি’ হিসেবে দেখার বদলে এক চলমান জীবন্ত সত্ত্বা হিসেবে দেখতে শেখায়, যে সত্ত্বা ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী, ছোটো বড়ো দোকানি, বইয়ের স্টল বা ক্যান্টিন চালানো দাদা-দিদি, বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে অগুন্তি মানুষের স্বচ্ছন্দ আনাগোনায় গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভিন্ন ধারণাকে নস্যাৎ করার জন্য এর আগেও ছাত্রছাত্রীরা, শিক্ষকশিক্ষিকারা বা শিক্ষাকর্মীরা কোথায় জমায়েত করতে পারবেন বা পারবেননা তার সীমানা নির্দেশ করা হয়েছে। হস্টেলে যাতায়াতের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য অধ্যাপকরাও প্রশাসনের রোষের শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের কেবলমাত্র প্রশাসনিকরণই নয়, একরকম সামরিকীকরণের চেষ্টাও চলছে। সারা ভারতে সম্ভবত প্রথমবারের জন্য দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা সুরক্ষাকর্মীদের বদলে সুরক্ষাব্যবস্থা তুলে দেওয়া হতে চলেছে প্রাক্তন সেনানীদের হাতে। ছাত্র ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও আন্দোলনের আহ্বান রেখেছিল, অতএব প্রশাসনিক অতিক্রমণ অবধারিত ছিল।

তবে জেএনইউ এবং তার সমস্যাবলীকে বিশেষ চোখে দেখলে দেশজুড়ে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নিরন্তর চলা ফ্যাসিস্ত আক্রমণ এবং উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকরণের ছকের সঙ্গে এর সরাসরি যোগাযোগ অগোচরে থেকে যায়। আজ পুলিশ, কাল মিলিটারি, দেশদ্রোহিতা, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর মিথ্যাচারের মধ্যেই জেএনইউ-তে প্রবেশিকা পরীক্ষার ফর্ম এবং হস্টেলের টাকা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে, ঠিক যেমন সমস্ত আইআইটি-তে পড়ার খরচ এক ধাক্কায় ১০ গুণ বেড়েছে। জেএনইউ প্রবেশিকার ধাঁচ বদলে ছাত্রছাত্রীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা দেখার বদলে ‘মাল্টিপল চয়েসের’ গতানুগতিকতা আনা হয়েছে, সেখানেও এবছরের পরীক্ষায় বেশ কিছু বেনিয়মের অভিযোগ অধ্যাপক এবং ছাত্ররা করেছেন। কিন্তু যে জেএনইউ প্রায় সারাক্ষণ ‘জাতীয়’ মিডিয়ার লাইমলাইটে থাকে সেখানকার প্রবেশিকা-সংক্রান্ত এত বড় অভিযোগ নিয়ে কারুর কোনো মাথাব্যথা দেখা যায়নি। জেএনইউর ‘রেসিডেন্সিয়াল’ বিশ্ববিদ্যালয় অভিধা সরিয়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানান শ্রেণি ও বর্গথেকে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল পাওয়ার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে যাতে জেএনইউ-র মতো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতেও শেষপর্যন্ত খুব সীমিত অঞ্চলের বিশেষ আর্থসামাজিক স্তরের ছাত্রছাত্রীরাই পড়ার সুযোগ পায় আর প্রশাসনও সুযোগ পায় মর্জিমাফিক মাইনে বৃদ্ধির।দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন প্রস্তাব এনেছে নয়টি নতুন কেন্দ্র খুলে সেগুলিকে নিজস্ব কর্মীনিয়োগ পদ্ধতি, কর্মীদের বেতন কাঠামো আর ছাত্রদের ফিজ নির্ণয়ের বিষয়ে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়ার। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং সংগঠিত ছাত্রশক্তি আর ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ঐক্য এই ধরনের বাণিজ্যিকরণের পথে অন্যতম বাধা। সেই বাধা দূর করতে একদিকে প্রশাসনকে ‘স্বায়ত্বশাসনের’ নামে বেসরকারিকরণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রতিবাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

students

 

ঠিক যখন জেএনইউ-র ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরের উপর নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করছেন তখনই পাঞ্জাবের মোহালির বেসরকারি আর্মি ইনস্টিটিউট অফ ল-এর ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ চালাচ্ছেন বেলাগাম ফিজ বৃদ্ধি, অগণতান্ত্রিক আচরণবিধি, হস্টেলের অধিকার নিয়ে। যখন জেএনইউ ছাত্রসংঘের অফিসে তালা ঝোলানোর তোড়জোড় চলছিল তখনই অপর এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধার মহাত্মা গান্ধী আন্তর্জাতিক হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন দলিত এবং ওবিসি ছাত্রকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয় কারণ তারা দেশে বেড়ে চলা সংগঠিত নরহত্যা এবং কাশ্মীরে গণতন্ত্র হত্যার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিল। পরে সম্মিলিত প্রতিবাদের ঝড়ে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই বছর ছাত্রসংঘ নির্বাচন বন্ধ। সম্প্রতি রাজ্য সরকার যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি সহ তিনটি-মাত্র প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রভোট করার ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপুল সংখ্যক কলেজে ছাত্রসংঘ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। রাজনীতি করার অধিকার জেএনইউ-র ছাত্রদের বিশেষাধিকার নয়, সমস্ত ছাত্রছাত্রীর সমানাধিকার। এই অধিকারের সঙ্গে শিক্ষালাভের বুনিয়াদি অধিকারটি রক্ষা করার প্রসঙ্গ জড়িত। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই অধিকারকে রক্ষা করার লড়াই তাই দু-একটি ‘বিশেষ’ বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ছাত্রসমাজের প্রতি স্তরে চালিয়ে যেতে হবে।

students 2

 

Published on 24 October, 2019